ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি কোম্পানির তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৪৪ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ২৮৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত মাসে এই দাম ছিল ১ হাজার ১৪০ টাকা। অন্যদিকে গাড়িতে ব্যবহৃত প্রতি লিটার অটো গ্যাসের দাম ৫২ টাকা ১৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৫৮ টাকা ৮৭ পয়সা।
তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম আগের ৫৯১ টাকাই রয়েছে। যদিও এই এলপিজি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় না। এটি চাহিদার মাত্র এক থেকে দেড় শতাংশ পূরণ করতে পারে।
গতকাল রবিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সেপ্টেম্বর মাসের জন্য নতুন দর ঘোষণা করেন চেয়ারম্যান মো. নুরুল আমিন। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য ড. মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী, ড. মো. হেলাল উদ্দিন, আবুল খায়ের মো. আমিনুর রহমান, বিইআরসির সচিব ব্যারিস্টার মো. খলিলুর রহমান খান প্রমুখ।
নতুন দর গতকাল সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হবে জানিয়ে কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, এলপিজির সংকট দেখিয়ে অনেকেই গ্রাহকের কাছ থেকে বাড়তি দাম আদায় করছে। বাস্তবে এলপিজির কোনো সংকট নেই। কমিশন নিয়মিত বাজার তদারকি করছে। এ ছাড়া জেলাপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বাজার তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন।
কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, বেসরকারি খাতের প্রতি কেজি এলপিজির মূল্য সংযোজন করসহ (মূসক/ভ্যাটসহ) দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০৭ টাকা ১ পয়সা। পাশাপাশি সাড়ে ৫ থেকে ৪৫ কেজি পর্যন্ত বোতলজাত সব এলপিজির দাম একই হারে সমন্বয় করা হয়েছে।
গত মাসে প্রতি কেজি এলপিজির দর ছিল ৯৪ টাকা ৯৬ পয়সা। জুলাই মাসে ছিল সবচেয়ে কম দর, প্রতি কেজির দাম ছিল ৪৬ টাকা ৪৯ পয়সা। আর ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ছিল ৯৯৯ টাকা। অন্যদিকে বাসাবাড়িতে কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যবহারকারীদের জন্য ভ্যাটসহ প্রতি কেজি রেটিকুলেটেড এলপিজির প্রতি লিটারের দাম শূন্য দশমিক ২০২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে শূন্য দশমিক ২২৯৩ টাকা করা হয়েছে।
উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। এলপিজি তৈরির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। প্রতি মাসে এলপিজির এ দুই উপাদানের মূল্য প্রকাশ করে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান আরামকো। এই মূল্য বিবেচনায় নিয়ে দেশে এলপিজির দাম সমন্বয় করে বিইআরসি।
বিইআরসি জানায়, সেপ্টেম্বর মাসের জন্য সৌদি আরামকোর প্রোপেন ও বিউটেনের ঘোষিত সৌদি সিপি (কন্ট্রাক্ট প্রাইস) প্রতি টনের মূল্যবৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ৫৬০ এবং ৫৫০ মার্কিন ডলারে উঠেছে।
দীর্ঘদিন ধরে আবাসিকে প্রাকৃতিক গ্যাসলাইনের সংযোগ বন্ধ থাকায় রাজধানীর পাশাপাশি বিভিন্ন শহর ও গ্রামে বিপুলসংখ্যক মানুষ এলপিজির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু কমিশন নির্ধারিত দামে বাজারে এলপিজি পাওয়া যায় না। মূল্যবৃদ্ধি হ্রাস যাই হোক না কেন বিক্রেতারা তাদের ইচ্ছেমতো দাম আদায় করেন ক্রেতার কাছ থেকে।
