বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতার প্রয়োজন হলে তা দিতে রাজি আছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনৈতিক সামরিক-বিষয়ক বিভাগের উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিরা রেজনিকের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। রাজধানী ঢাকায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এ বৈঠক হয়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘নির্বাচনের ব্যাপারে তারা (যুক্তরাষ্ট্র) জানতে চেয়েছে, আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আমরা বলেছি যে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে আমরা বদ্ধপরিকর। নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতার প্রয়োজন হলে তারা (যুক্তরাষ্ট্র) তা দিতে রাজি আছে।’
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক নীতির মধ্যে অনেক মিল আছে জানিয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘উভয় দেশ চাইছে না এ অঞ্চলে নির্দিষ্ট একটি দেশ তাদের আধিপত্য বিস্তার করুক বা এখানে অবাধ চলাচলে বাধা হয়ে দাঁড়াক। আমাদের প্রত্যাশাগুলো হচ্ছে এখানে যাতে অবাধে চলাচল করা যায়, এখানে অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে পুরোপুরি ব্যবহার করা হয়। সেগুলোর বিষয়ে তারাও (যুক্তরাষ্ট্র) একমত। সুতরাং তারাও চায় না একটি নির্দিষ্ট দেশ এখানে আধিপত্য বিস্তার করুক বা অবাধ চলাচলে বাধা হয়ে দাঁড়াক।’
র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গ : র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে দুপক্ষ আলোচনা করেছে। এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘আমরা বলেছি, প্রতিটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে যে অভিযোগ আসে, সেগুলো আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে এর উত্তর আমরা বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে দিই। আমাদের দেশে বিচারহীনতার কোনো সুযোগ রাখি না। আমাদের প্রত্যেকটি বাহিনীর একটি স্ট্যান্ডার্ড অব প্রসিডিউর আছে। একটি গুলি খরচ হলেও সেটির একটি জবাবদিহি আছে।’
গাজীপুরে শ্রমিক নেতার মৃত্যুর বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, সব দুর্ঘটনার সঙ্গে যে সরকার জড়িত থাকে, বিষয়টি সেরকম নয়। কিছুদিন আগে গাজীপুরে একজন শ্রমিক নেতা মারা গেছেন। সেখানে সরকার তো কিছু করেনি। কিন্তু আমাদের শেষ পর্যন্ত জবাবদিহির একটি বিষয় থাকে। ১৭ কোটি মানুষের দেশ। একেক জায়গায় একেক রকম ঘটনা ঘটতেই পারে। সুতরাং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জড়িত থাকার কোনো খবর পেলে তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এর আগে গতকাল সকালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নবম বার্ষিক নিরাপত্তা সংলাপ হয়। সংলাপে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (আমেরিকা) খন্দকার মাসুদুল আলম। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন মিরা রেজনিক।
বৈঠকে ইন্দো-প্যাসিফিক আঞ্চলিক সমস্যা, নিরাপত্তা ও মানবাধিকার, সামরিক সহযোগিতা, শান্তিরক্ষা, নিরাপত্তা সহায়তা ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে আলোচনা হয়।
গত বছর এপ্রিলে ওয়াশিংটনে দুই দেশের মধ্যে অষ্টম নিরাপত্তা সংলাপ হয়েছিল। এবার ঢাকায় নবম নিরাপত্তা সংলাপ হলো।
