দেশে ডেঙ্গুতে এক দিনে এ বছরের সর্বোচ্চ রোগী ভর্তির রেকর্ড হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ৯৯৩ রোগী। এর আগে এক দিনে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮২৩ জন ভর্তির রেকর্ড ছিল গত ৪ সেপ্টেম্বর। সেদিনের চেয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭০ রোগী বেশি ভর্তি হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৬৭ শতাংশ ভর্তি হয়েছে ঢাকার বাইরে ও ৩৩ শতাংশ ঢাকায়।
এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩২৮ জন। তাদের মধ্যে এ মাসের গত ১০ দিনেই ভর্তি হয়েছে ২৪ হাজার ৫২০ জন, যা মোট ভর্তি রোগীর ১৭ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে নতুন করে আরও ১৪ জন মারা গেছে। তাদের মধ্যে আটজন মারা গেছে ঢাকায় ও ছয়জন ঢাকার বাইরে। এ নিয়ে এ বছর এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৭৩০। তাদের মধ্যে এ মাসেই মারা গেছে ১৩৭ জন, যা মোট মৃত্যুর ১৯ শতাংশ। এ নিয়ে এ বছর ঢাকায় মারা গেল ৫২১ জন ও ঢাকার বাইরে ২০৯ জন।
ঢাকায় বেশি রোগী যাত্রাবাড়ীতে : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাপ্তাহিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে যে ১০ এলাকার রোগী সবচেয়ে বেশি ভর্তি হয়েছে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এসেছে যাত্রাবাড়ী থেকে, যা ঢাকার মোট রোগীর ১৭ শতাংশ। ১৩ শতাংশ রোগী সবুজবাগের ও ৮ শতাংশ কদমতলীর। মোহাম্মদপুর, খিলগাঁও, কেরানীগঞ্জ ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে এসেছে ৪ শতাংশ করে। ৩ শতাংশ করে রোগী এসেছে উত্তরা, ধানমন্ডি ও পল্লবী থেকে।
রোগী বেশি ঢাকা জেলায়, কম ফরিদপুরে : এখন পর্যন্ত যে ১০ জেলায় সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে, তার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা জেলা। এখানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা মোট রোগীর ৪৬ শতাংশ। সবচেয়ে কম ১ দশমিক ৭০ শতাংশ রোগী ভর্তি হয়েছে ফরিদপুর জেলায়।
ঢাকার পর সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে চট্টগ্রাম জেলায় ৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ ও বরিশালে ৪ দশমিক ২৬ শতাংশ। এরপর ২ দশমিক ৪৯ শতাংশ রোগী পাওয়া গেছে পটুয়াখালীতে। লক্ষ্মীপুর, পিরোজপুর, চাঁদপুর, মানিকগঞ্জ ও কুমিল্লায় রোগী পাওয়া গেছে ২ শতাংশ করে।
ভর্তির তিন দিনেই মৃত্যু ৮৪% : হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে যত মৃত্যু হচ্ছে, তার ৬০ শতাংশই মারা যাচ্ছে ভর্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই। ২৪ শতাংশের মৃত্যু হচ্ছে ভর্তির দু-তিন দিনের মধ্যেই। অর্থাৎ ৮৪ শতাংশ মৃত্যু হচ্ছে ভর্তির তিন দিনের মধ্যেই। এ ছাড়া ৮ শতাংশের মৃত্যু হচ্ছে ভর্তির চার-পাঁচ দিন, ৭ শতাংশের ৬-১০ দিন ও ১০ দিনের বেশি সময়ের মধ্যে মারা যাচ্ছে ১ শতাংশ রোগী।
শক সিনড্রোমে মৃত্যু ৬৩% : গত সপ্তাহে (৩-৯ সেপ্টেম্বর) যে ৯৮ জন ডেঙ্গুতে মারা গেছে, তাদের মধ্যে ৬৩ শতাংশ বা ৬২ জনই মারা গেছে ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে। এরপর ২২ শতাংশ বা ২১ জন মারা গেছে এক্সপান্ডেড ডেঙ্গুতে। অর্থাৎ ডেঙ্গুর কারণে এসব রোগীর বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ (লিভার, কিডনি, মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস ইত্যাদি) অকেজো হয়ে পড়ে ও রোগী মারা যায়। এ ছাড়া রক্তক্ষরণ বা হেমোরেজিক ডেঙ্গুতে মারা গেছে ১০ জন বা ১০ শতাংশ ও ডেঙ্গুর সঙ্গে অন্যান্য রোগ থাকায় মারা গেছে ৫ জন বা ৫ শতাংশ রোগী।
