রোডমার্চমুখী গাড়িতে আগুন

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০২:২৮ এএম

বিএনপির ‘তারুণ্যের রোডমার্চে’ অংশ নিতে বগুড়ায় যাওয়ার পথে নাটোরে একটি মাইক্রোবাসে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের ডালসড়ক এলাকায় আগুন দেওয়ার এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি দল সেখানে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ছাড়া গতকাল সকালে নাটোর শহর ও সদর থানার বিভিন্ন স্থানে হামলায় বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের কমপক্ষে ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন দলটির নেতারা।

নাটোর জেলা বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের ডালসড়ক এলাকায় মাইক্রোবাসে আগুন দেওয়ার সময় গাড়িতে থাকা নেতাকর্মীদের ধারালো বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে কোপানোর পাশাপাশি মারধর করা হয়। খবর পেয়ে নাটোর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে গাড়ির আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সদর থানার তেবাড়িয়া হাট এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের বহনকারী আরেকটি গাড়িতে হামলা চালিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নাটোর-ঢাকা মহাসড়কে সদর থানার সৈয়দ মোড় এলাকায় প্রায় একই সময়ে হামলা চালানো হয়। আহত হন লালপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল মজিদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আনোয়ারুল ইসলাম, কাবিল উদ্দিন ও যুবদল নেতা মজনু পাটোয়ারী।

নাটোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম বাচ্চু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বগুড়ায় তারুণ্যের রোডমার্চে অংশগ্রহণের জন্য নাটোর সদরসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা গাড়ি নিয়ে যাচ্ছিল। পথে আওয়ামী লীগের লোকজন পথরোধ করে গাড়িতে আগুন জ¦ালিয়ে দেয় এবং তাদের মারধর করে।’

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালকুদার দুলু অভিযোগ করে বলেন, ‘কোনো কারণ ছাড়াই ভোর থেকে জেলার বিভিন্ন স্থানে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের ওপরে হামলা করা হয়েছে। হামলায় দলের ৩০-৩৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা এসব হামলা করেছে।’

তবে নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের দাবি, তাদের নেতাকর্মীরা কারও ওপরে কোনো হামলা বা অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়নি।

নাটোর সদর থানার ওসি নাছিম আহম্মেদ বলেন, ‘গাড়িতে আগুন লেগেছে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। গাড়ির আগুন নেভানো হয়েছে। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

এদিকে পুড়িয়ে দেওয়া মাইক্রোবাসের মালিক রফিকুল ইসলামের দাবি, নওগাঁয় বিয়ের জন্য কনে দেখতে যাওয়ার কথা বলে মাইক্রোবাসটি ভাড়া করা হয়েছিল। সকালে বগুড়া হয়ে নওগাঁয় যাওয়ার সময় তার গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। আগুনে গাড়িটি পুরোপুরি পুড়ে গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত