ডিএমপির নতুন কমিশনার হলেন হাবিবুর রহমান

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০২:২৬ এএম

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের দায়িত্ব পেলেন পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) হাবিবুর রহমান। তিনি বর্তমানে ট্যুরিস্ট পুলিশের প্রধান হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

গতকাল বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে নতুন ডিএমপি কমিশনার হিসেবে হাবিবুর রহমানের নাম জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সিরাজাম মুনিরা।

এতে বলা হয়, বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক হাবিবুর রহমানকে ডিএমপির পুলিশ কমিশনার পদে বদলি বা পদায়ন করা হলো। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। বর্তমান ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুকের মেয়াদ শেষ হচ্ছে  ৩০ সেপ্টেম্বর। এরপরই নতুন কর্মস্থলে যোগ দেবেন নতুন কমিশনার হাবিবুর রহমান। ২৭ সেপ্টেম্বর তার শেষ কর্মদিবস। ২৮ থেকে ৩০ তারিখ পর্যন্ত সরকারি ছুটি। ১ অক্টোবর নতুন পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে সিদ্ধান্ত হলে এর আগেও তিনি দায়িত্ব নিতে পারেন।

এদিকে, ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুককে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় পুলিশ সদর দপ্তরে তাকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেবেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

পুলিশের সবচেয়ে বড় ইউনিট ডিএমপির দায়িত্ব পাওয়া হাবিবুর রহমান বিসিএস ১৭তম ব্যাচের পুলিশ কর্মকর্তা। এর আগে তিনি ডিএমপি সদর দপ্তরের ডিসি, ঢাকা জেলার এসপি, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি এবং পুলিশ সদর দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

হাবিবুর রহমান ১৯৬৭ সালে গোপালগঞ্জের চন্দ্র দিঘলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কর্মক্ষেত্রে সততা, সাহসিকতা ও দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনবার বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) ও দুইবার রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) পেয়েছেন তিনি।

পেশাগত কাজের বাইরে লেখালেখিসহ বিভিন্ন সামাজিক কাজে যুক্ত এই পুলিশ কর্মকর্তা। মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ‘মুক্তিযুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ’ নামে একটি বই সম্পাদনা করেন হাবিবুর রহমান। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা পালন করেন এবং সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বেদে সমাজের উন্নয়নে সাভারে বেদেপল্লীতে স্কুল, কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার, গাড়ি চালনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বুটিক হাউজসহ নানা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে ও বাল্যবিবাহ রোধে ভূমিকা পালন করেছেন।

পুলিশের এই কর্মকর্তা হিজড়াদের সামাজিকভাবে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন। হিজড়া ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘উত্তরণ কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচি চালু করেন এবং উত্তরণ ফাউন্ডেশন নামের সংস্থা প্রতিষ্ঠা করে তাদের স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বেদেদের হারিয়ে যেতে বসা ভাষা সংরক্ষণে তিনি আট বছর গবেষণা করে ‘ঠার’ নামের একটি বই রচনা করেন।

হাবিবুর রহমান বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া তিনি ‘এশিয়ান কাবাডি ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট’ নির্বাচিত হয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত