সরকারই দায়ী ভিসা নিষেধাজ্ঞার জন্য

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০২:২০ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার বিধিনিষেধ আরোপ শুরু করার ঘটনাকে বাংলাদেশের জন্য লজ্জাজনক ও অপমানজনক বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বিবৃতিতে কোন বিরোধী দলের কথা বলা হয়েছে তা তারা স্পষ্ট করেনি। তাই এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না। তবে আজ দেশে গণতন্ত্রের যে সংকট, তার জন্য সরকার এককভাবে দায়ী। ভিসা বিধিনিষেধের আওতায় বিরোধী দল আছে বলে বিবৃতিতে যে বক্তব্য এসেছে সে সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এর আগে এলিট ফোর্স র‌্যাবকে বেআইনিভাবে ব্যবহারের জন্য এর দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে স্যাংশন দিয়েছিল আমেরিকা। এবার ভিসানীতির ঘোষণা দিয়ে তার প্রয়োগ শুরু করেছে। এর আগে গণতন্ত্রের সম্মেলনে সরকারকে আমন্ত্রণ জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র। তাছাড়া বাইডেন প্রশাসন তাদের দেশে যে গণতন্ত্রের সম্মেলন করেছে তাতে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানায়নি।’ ভিসানীতি প্রয়োগের জন্য সরকারকে দায়ী করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজ আওয়ামী লীগ বিগত দুটি বিতর্কিত সংসদ নির্বাচন করার পর আবারও আগামী নির্বাচনকে একতরফা করতে যে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সে কারণে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। এর দায় সম্পূর্ণভাবে আওয়ামী লীগকে নিতে হবে। আজ বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সরকার নির্বাচনব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন করে চলেছে।  বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নির্যাতন, গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এসব কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ থেকে নানা রকম পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে। ইতিমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আগামী নির্বাচনে পর্যবেক্ষক না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

গত ২৪ মে বাংলাদেশের নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ভিসানীতি ঘোষণা করে। ভিসানীতি ঘোষণার চার মাসের মাথায় গতকাল দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়, গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাদানে দায়ী ও জড়িত ব্যক্তিদের ওপর ভিসা বিধিনিষেধ আরোপের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এসব ব্যক্তির মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ও বিরোধী দলের সদস্যও রয়েছেন।

বিরোধী দলের সদস্যদের ব্যাপারেও যুক্তরাষ্ট্র ভিসা বিধিনিষেধের যে কথা বলেছে, এ নিয়ে বিএনপি চিন্তিত নয় বলে বিএনপি নেতারা বলছেন। এর কারণ হিসেবে তারা বলেন, সরকারের কারণেই এ ধরনের পরিস্থিতি হয়েছে। ফলে ক্ষমতাসীনদের জন্যই এটি চিন্তার বিষয়।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫২ বছর পর এসে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বিধিনিষেধ এসেছে। এটি আমাদের দেশের জন্য প্রাপ্য নয়। এ জন্য বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো দায় নেই, এককভাবে সরকারই দায়ী।’

‘যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে বিএনপি ইতিবাচক হিসবে দেখছে’ এমন মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাইডেন প্রশাসন বিশ্বে গণতন্ত্রের কথা বলছে। এর অংশ হিসেবে তারা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পক্ষে পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা তাদের দায়িত্ব পালন করেছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপে বাংলাদেশে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে এমনটা বিএনপি মনে করছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র তাদের ভিসানীতি দিয়েছে। কিন্তু সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সরকারের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন এখনো হয়নি। আসলে এখন সরকার কী করবে, সেটা তাদের ওপর নির্ভর করছে। আর আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত