সুলতানা কামাল

পরিবেশ নিয়ে কথা বললে তাপস বলেন চুবাবেন

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০২:০২ এএম

পরিবেশ নিয়ে কথা বলায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ফজলে নূর তাপস ধোলাইখালের পানিতে চুবাতে চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল। গতকাল সোমবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে সিটিজেন প্ল্যাটফরমের ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন আখ্যান ও সমান্তরাল বাস্তবতা : পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ভাবনা’ শিরোনামের প্রকাশনা উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এমন অভিযোগ করেন।

সুলতানা কামাল অভিযোগ করে বলেন, ‘আমারই নির্বাচনী এলাকার মানুষ, আমরা যখন পরিবেশ নিয়ে কথা বলতে গেলাম, অত্যন্ত স্নেহের পাত্র আমার, মেয়র তাপস; ছোটবেলা থেকে দেখেছি, কারণ, একই পাড়ায় থেকেছে। আমরা সবাই যখন পরিবেশ নিয়ে কথা বলতে গেলাম, তিনি বললেন যে যদি বেশি কথা বলে, ধোলাইখালে নিয়ে চুবাব।’

তিনি আরও বলেন, ‘চুবানোর সংস্কৃতি কিন্তু শেখ ফজলে নূর তাপসের একার মধ্যে নেই। অনেকের মধ্যেই আছে। এখন কথা বলতে গেলে যদি চুবানোর ধমক খেতে হয়, আসলে কোন রাজনীতিকের কাছে যাব?’

পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকা প্রয়োজন উল্লেখ করে সুলতানা কামাল বলেন, ‘রাজনৈতিক সদিচ্ছা আসবে রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে। কিন্তু রাজনীতিবিদেরা কোথায়? তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না। যারা জনপ্রতিনিধি হবেন, তাদের সঙ্গে জনসাধারণের সংযোগ না থাকলে রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান হবে না। তাদের জনগণের আকাক্সক্ষার বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিতে হবে।’

দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়েও মন্তব্য করেন সুলতানা কামাল। তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যব্যবস্থার নাকি এত উন্নতি হয়েছে যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রশংসা করেছে। কিন্তু যারই অসুখ হচ্ছে এবং একটু সামর্থ্য আছে, দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন। তাহলে কাদের জন্য স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নতি হলো এবং কী এমন উন্নতি হলো যে বাইরে চলে যেতে হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের দাবি করছে, তাদের নাগরিক হিসেবে চ্যালেঞ্জ করতে হবে নিজেদের তা প্রমাণ করতে। যেগুলো বলে, সেগুলোর বাস্তবায়ন দেখতে চাই। ভালো মানুষ যদি চুপ করে থাকে, তাহলে দুর্বৃত্ত অনেক বেশি শক্তিশালী হয়।’

সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক রেহমান সোবহান বর্তমান বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ‘ব্যর্থতার’ দুটো দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ব্যর্থতার একটি দিক হচ্ছে গণতান্ত্রিক ব্যর্থতা, যেখানে জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সরকার থাকা দরকার, কিন্তু নেই, যারা মানুষের কথা শুনবে ও কাজ করবে। আরেকটি দিক হচ্ছে, ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থার অভাব।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নাগরিক প্ল্যাটফরমের আহ্বায়ক ও সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে উন্নতি হয়েছে, কিন্তু তার ভাগীদার সবাই সমান নন। বৈষম্য বাড়ছে, যা শিক্ষ-স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে। দেশে ১০ শতাংশ মানুষের হাতে ৪১ শতাংশ সম্পদ। এখন অত্যন্ত বিত্তবানদের রাজনৈতিক ক্ষমতারও উদ্ভব ঘটছে, যা আগে ছিল না।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কথাসাহিত্যিক ও বাংলা একাডেমির সভাপতি সেলিনা হোসেন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, বিচারপতি মো. আবদুল মতিন, নাগরিক প্ল্যাটফরমের সদস্য ও সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং নাগরিক প্ল্যাটফরমের সদস্য সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত