পর্যটনশিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করতে আনুষ্ঠানিকভাবে সৌদি আরবের সৌদাহ এবং রিজাল আলমা অঞ্চলে পাহাড়ের চূড়ায় মহাপরিকল্পনার উন্মোচন করেন সৌদি যুবরাজ এবং প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। এই মহাপরিকল্পনার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সৌদাহ ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন যুবরাজ সালমান। ‘সৌদাহ পিক’ নামের এই বিলাসবহুল পর্বতকেন্দ্রিক পর্যটনস্থলটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩ হাজার ১৫ মিটার ওপরে। সৌদি আরবের সর্বোচ্চ চূড়ায় এটি নির্মাণ করা হবে। গত সোমবার এই মহাপরিকল্পনা উন্মোচনের সময় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান জোর দিয়ে বলেন, সৌদাহ চূড়া বিলাসবহুল পার্বত্য পর্যটনে নতুন যুগের ইঙ্গিত দেয়। এটি একই সঙ্গে এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং এর সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যের সমৃদ্ধির পাশাপাশি সেখানে অবস্থানের অতুলনীয় অভিজ্ঞতা দেবে পর্যটকদের। এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পটি ভিশন ২০৩০-এ উল্লেখ করা হয়েছে। পর্যটন এবং বিনোদনের সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণসহ দেশটির জিডিপিতে ২৯ বিলিয়ন রিয়াল যোগ করবে এই প্রকল্প। বাড়াবে কর্মসংস্থান।
‘সৌদাহ পিক’ প্রকল্পে বছরে ২০ লাখের বেশি পর্যটক আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যশৈলীগুলোকে তাদের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক এবং নৈসর্গিক সৌন্দর্যের সাক্ষী হবেন। ঐতিহ্যের প্রচার করার জন্য মাস্টারপ্ল্যানটি শৈল্পিকভাবে নকশা করা হয়েছে। মহাপ্রকল্পটি ছয়টি স্বতন্ত্র উন্নয়ন অঞ্চল নিয়ে গঠিত। এগুলো হচ্ছে তাহলাল, সাহাব, সাবরা, জারিন, রিজাল এবং রেড রক। প্রতিটি জোনে থাকবে বিশ্বমানের হোটেল, বিলাসবহুল পার্বত্য রিসোর্ট, ভিলা, বিনোদন এবং বাণিজ্যিক স্থানের পাশাপাশি খেলাধুলা, অ্যাডভেঞ্চার, সুস্থতা এবং সাংস্কৃতিক সুযোগ-সুবিধা।
২০৩৩ সালের মধ্যে সৌদাহ ডেভেলপমেন্টের লক্ষ্য সৌদাহ পিকগুলোর জন্য ২ হাজার ৭০০টি আতিথেয়তা স্থান, ১ হাজার ৩৩৬টি আবাসিক ইউনিট এবং ৮০ হাজার বর্গমিটার বাণিজ্যিক স্থান নিশ্চিত করা। সৌদাহ পিকস সৌদি আরবের পর্যটন খাতে একটি যুগান্তকারী সংযোজন হবে উল্লেখ করে যুবরাজ বলেন, বিশ্বব্যাপী পর্যটন মানচিত্রে এটি সৌদি আরবকে দৃঢ়ভাবে তুলে ধরবে।
