ইরানের কারাবন্দি নার্গিসের লড়াইয়ের স্বীকৃতি

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৩, ০৬:১৭ এএম

এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন ইরানের নারী অধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মদী। গতকাল শুক্রবার ২০২৩ সালের নোবেলজয়ী হিসেবে নার্গিস মোহাম্মদীর নাম ঘোষণা করে নোবেল কমিটি। নাম ঘোষণার সময় নোবেল কমিটির প্রধান বেরিত রেইস-অ্যান্ডারসন মোহাম্মদীকে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে অভিহিত করেন। ২০০৩ সাল থেকেই তিনি শান্তিতে নোবেলজয়ী আরেক ইরানি শিরিন এবাদির সংস্থা ডিফেন্ডারস অভ হিউম্যান রাইটস সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে তিনি ওই সংস্থার উপপ্রধান। বিবিসি জানাচ্ছে, নোবেল শান্তি পুরস্কারের ১২২ বছরের ইতিহাসে ১৯তম নারী নার্গিস মোহাম্মদী। তিনি ইরানের অন্যতম মানবাধিকারকর্মী। নারীর অধিকার এবং মৃত্যুদণ্ড বিলোপের ক্যাম্পেইনের সঙ্গে যুক্ত। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো। একাধিক রায়ে বর্তমানে ইরানের এভিন প্রিজনে ১২ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন মোহাম্মদী। এর আগেও তাকে একাধিকবার কারাগারে নিয়েছিল ইরানি কর্র্তৃপক্ষ।

নোবেল কমিটির প্রধান বেরিত রেইস-অ্যান্ডারসন বলেন, ইরানে নারীদের বিরুদ্ধে চলা নিপীড়নের বিরুদ্ধে এবং সবার জন্য মানবাধিকার ও স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় তার লড়াইয়ের জন্য দ্য নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি ২০২৩ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার নার্গিস মোহাম্মদীকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আর অধিকারের দাবিতে যে সাহসী সংগ্রাম তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন, সেজন্য তাকে অভাবনীয় মূল্য দিতে হয়েছে। ইরান সরকার তাকে গ্রেপ্তার করেছে ১৩ বার, পাঁচবার তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। সব মিলিয়ে ৩১ বছরের জেল দেওয়া হয়েছে এই সাহসী নারীকে। শরিয়া আইনে ১৫৪টি বেত্রাঘাতের মতো শাস্তিও পেতে হয়েছে তাকে এবং এই মুহূর্তেও তিনি কারাবন্দি।

বিবিসি জানাচ্ছে, অধিকার আদায়ের আন্দোলনে কাজ করে যাওয়া নার্গিস মোহাম্মদী প্রথম গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ২০১১ সালে। কারাবন্দি মানবাধিকারকর্মী ও তাদের পরিবারকে সহায়তার অভিযোগে সেসময় তাকে জেল দেওয়া হয়েছিল।

৫১ বছর বয়সী নার্গিস মোহাম্মদীর জন্ম ১৯৭২ সালের ২১ এপ্রিল। নব্বইয়ের দশকে পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী থাকার সময়ই তিনি সাম্য আর নারী অধিকারের প্রবক্তা হিসেবে নিজেকে আলাদা করে গড়ে তুলেছিলেন। পড়ালেখা শেষ করে তিনি কাজ শুরু করেন প্রকৌশলী হিসেবে। পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্কারপন্থি সংবাদপত্রে কলামিস্ট হিসেবে কাজ করেন। হোয়াইট টর্চার : ইন্টারভিউজ উইথ ইরানিয়ান উইমেন প্রিজনার্স নামে একটি বই রয়েছে তার।

এদিকে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির বিজ্ঞপ্তিতে গত বছর ইরানের নীতি পুলিশের হেফাজতে ২২ বছর বয়সী মাশা আমিনির মৃত্যুকে ঘিরে তখন থেকে চলা বিক্ষোভ এবং নারী অধিকারের আন্দোলনে নার্গিস মোহাম্মদীর অবদানের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, নার্গিস মোহাম্মদী নারীদের বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়ছেন। নারীদের পূর্ণ মর্যাদায় বাঁচার অধিকারের সংগ্রামকে তিনি সমর্থন দিচ্ছেন। এই সংগ্রামের কারণে ইরানে দণ্ড, নির্যাতন এমনকি শাস্তিও পেতে হচ্ছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং নারীদের আড়ালে রাখা ও শরীর ঢেকে রাখার মতো নিয়মের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। নোবেল কমিটি নার্গিস মোহাম্মদীকে মুক্তি দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে নার্গিস মোহাম্মদীর অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রামে বলা হয়েছে, এই পুরস্কার সকল ইরানির। বিশেষ করে ইরানের সাহসী মেয়ে ও নারীদের জন্য এই পুরস্কার, যারা স্বাধীনতা ও সাম্যের লড়াইয়ে তাদের সাহসিকতা দেখিয়ে বিশ্বকে মুগ্ধ করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত