নিয়োগ পরীক্ষার আগেই ঘুষ বাণিজ্য, পরীক্ষা স্থগিত!

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৩, ০৬:২১ এএম

ফেনীর সোনাগাজীর কুঠির হাট বিষ্ণুপুর উচ্চবিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষার আগেই ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার ছয়টি শূন্য পদের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির অনুপস্থিতির কারণ দেখিয়ে পরীক্ষা স্থগিত করেছে কর্র্তৃপক্ষ।

এর আগে গত শুক্রবার রাত থেকে এই ছয়টি পদে নিয়োগে ১৬ লাখ টাকার ঘুষ বাণিজ্য হয়েছে অভিযোগ তুলে এলাকার লোকজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা শুরু করে। এই নিয়োগে ঘুষ লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ দেশ রূপান্তরের হাতেও এসেছে।

জানা গেছে, গতকাল সকালে সোনাগাজীর চরমজলিশপুর ইউনিয়নের কুঠির হাট বিষ্ণুপুর উচ্চবিদ্যালয়ে ছয়টি শূন্য পদের নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ে ছয় পদের জন্য ৩০ জন চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ পরীক্ষা দিতে স্কুল প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব, পরীক্ষা গ্রহণকারী ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সদস্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও ডিজির প্রতিনিধি উপস্থিত হলেও অনুপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি। সভাপতি ঢাকার ব্যবসায়ী ফরিদ উদ্দিন রতন ঢাকায় থাকায় তিনি ভার্চুয়ালি অংশ নিতে চাইলেও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ওঠায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাজি না হওয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

এই নিয়োগে ঘুষ লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ গত বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরের হাতেও এসেছে। যাতে আয়া পদের প্রার্থী শিল্পী রানীর স্বামী দীপক নাথ প্রধান শিক্ষকের প্রতিনিধিকে চল্লিশ হাজার টাকা ঘুষ দিয়েছেন বলে স্বীকার করতে শোনা যায়। আর এই পদে নিয়োগের জন্য তিনি এক লাখ টাকায় চুক্তি করেছেন বলে জানান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়টির এক শিক্ষক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যে সব পদে নিয়োগ হবে তারা আগে থেকেই প্রধান শিক্ষক এবং বিদ্যালয়ের নিয়োগ সংশ্লিষ্টদের বিভিন্নভাবে নিজেদের আয়ত্তে রেখেছেন।’

স্কুল কর্র্তৃপক্ষ ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সহকারী প্রধান শিক্ষক, ল্যাব অপারেটর, নৈশপ্রহরী, আয়া, নিরাপত্তাকর্মী ও অফিস সহায়কের ছয়টি পদে নিয়োগের জন্য গত ২১ জুন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নয়জন, ল্যাব অপারেটর পদে চারজন, নৈশপ্রহরী পদে চারজন, আয়া পদে চারজন, নিরাপত্তাকর্মী পদে পাঁচজন এবং অফিস সহায়ক পদে চারজন চাকরি প্রার্থী আবেদন করেন।

নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের কারণ জানতে চাইলে বিষ্ণুপুর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক হোসাইন মোহামদ আলমগীর বলেন, ‘সভাপতি অনুপস্থিত থাকায় এবং ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে বিতর্ক ওঠায় নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। সভাপতি ঢাকা থাকায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রাজি না হওয়ায় পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।’ তবে ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নূরুল আমিন বলেন, ‘সভাপতি অনুপস্থিত থাকায় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুষ লেনদেনের খবর ছড়িয়ে পড়ায় নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন রতন বলেন, ‘আমি ঢাকায় একটি মিটিংয়ে উপস্থিত থাকায় নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণ করতে যেতে পারিনি। তাই পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান বলেন, ‘নিয়োগ কমিটি বা প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমি জড়িত নয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে জেনেছি সভাপতির অনুপস্থিতি এবং ঘুষ লেনদেন সংক্রান্ত একটি অডিও ক্লিপ নিয়ে বিতর্ক ওঠায় পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় না হলে আরও বেশি বিতর্ক হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত