কিউইদের চোখ রাচিনে, ডাচদের ডি লিডিতে

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৩, ১২:২৯ এএম

বাবা রবি কৃষ্ণামূর্তি ছিলেন ক্রিকেটের প্রতি মোহাবিষ্ট। রাহুল দ্রাবিড় ও শচিন টেন্ডুলকারের পাগল ভক্ত ছিলেন তিনি। তাই তো ভারতের দুই কিংবদন্তির নামের সঙ্গে মিলিয়ে ছেলের নাম রাখেন রাচিন রাহুলের ‘রা’ আর শচিনের ‘চিন’। রাচিন রবীন্দ্রও এমন নাম পেয়ে নিজেকে মনে করেন ‘ভাগ্যবান’। পারফরম্যান্সে এখনো রাহুল কিংবা শচিনের ধারেকাছেও যেতে পারেননি এখন পর্যন্ত মাত্র ১৩ ওয়ানডে খেলা নিউজিল্যান্ডের এই অলরাউন্ডার। তবে ক্যারিয়ারের শুরুতে প্রতিভার যে ঝলক দেখাচ্ছেন তিনি, তাতে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে আশার আলো দেখছেন অনেকেই।

স্ত্রী দীপাকে নিয়ে নব্বইয়ের দশকে ভারতের বেঙ্গালুরু থেকে নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটনে পাড়ি জমান কৃষ্ণামূর্তি। সেখানেই ১৯৯৯ সালে জন্ম রাচিনের। ক্রিকেটের হাতেখড়ি, এই খেলার আঙিনায় পথচলাও শুরু করেন তিনি ওয়েলিংটনের হয়ে। ২০১৬ ও ২০১৮ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে কিউইদের প্রতিনিধিত্ব করেন ভারতীয় বাবা-মায়ের সন্তান রাচিন। সামর্থ্যরে প্রমাণ দেন ২০১৮ আসরে কেনিয়ার বিপক্ষে ১১৭ ও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ৭৬ রানের ইনিংস খেলে। সেবার বল হাতেও উজ্জ্বল ছিলেন রাচিন, কিউইদের হয়ে সর্বোচ্চ ১৩ উইকেট ছিল তার।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখতে এরপরও তিন বছর অপেক্ষা করতে হয় রাচিনের। শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেটে শুরুটা নড়বড়ে হলেও এখন তিনি খুঁজে পেতে শুরু করেছেন পায়ের নিচে মাটি। চলতি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ২৩ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ৯৭ রান করে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের বৈশ্বিক আসরে শুরুটাও হয়েছে স্বপ্নের মতো। বিশ^কাপ অভিষেক রাঙিয়েছেন চমৎকার এক সেঞ্চুরিতে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে ৯৬ বলে অপরাজিত ১২৩ রানের ইনিংস খেলেছেন। ৮৬ বলে তিন অঙ্ক ছুঁয়ে গড়েছেন কিউইদের হয়ে বিশ্বকাপে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ৯ উইকেটে হারানোর পথে আরেক সেঞ্চুরিয়ান ডেভন কনওয়ের সঙ্গে গড়েছেন ২৭৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি। সঙ্গে বাঁহাতি স্পিনে নিয়েছেন হ্যারি ব্রুকের উইকেটটি।

দলে অবদান রাখতে নিজেকে মেলে ধরতে কঠোর পরিশ্রম করেন রাচিন। ইংল্যান্ড ম্যাচের পর সেটাই বলেছিলেন সতীর্থ কনওয়ে, ‘পর্দার আড়ালে সে কতটা পরিশ্রম করে, আমি জানি।’ লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে চার সেঞ্চুরিতে ১১০২ রান ও বল হাতে ২৮ উইকেট নেওয়া রাচিনকে নিয়ে এখন বড় আশা দেখছে নিউজিল্যান্ড। হায়দরাবাদে আজ নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হবে কিউইরা। রাচিনের কাছ থেকে দারুণ আরেকটি পারফরম্যান্সের প্রত্যাশায় থাকবে তারা।

বিশ্বকাপে ডাচদের শুরুটা হয়েছে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৮১ রানের হতাশাজনক হার দিয়ে। দলের পরাজয়ের দিন অবশ্য ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে উজ্জ্বল ছিলেন প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে নামা বাস ডি লিডি। বল হাতে ৪ উইকেট নেওয়ার পর ব্যাটিংয়ে ৬৭ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। বৈশ্বিক আসরে কমলা জার্সিধারীদের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডে বাবা টিম ডি লিডিসহ আর তিনজনের পাশে বসেন এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার। মজার ব্যাপার হলো, ছেলের মতোই বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচে ৪ শিকার ধরেছিলেন নেদারল্যান্ডসের সাবেক অলরাউন্ডার টিম ডি লিডি, ২০০৩ আসরে ভারতের বিপক্ষে।

ওয়ানডেতে অনেক দিন ধরেই দুর্দান্ত ফর্মে আছেন বাস ডি লিডি। এক বছরে এই সংস্করণে ৮ ম্যাচ খেলা এই ক্রিকেটার রান করেছেন পঞ্চাশের বেশি গড়ে। তার একমাত্র ওয়ানডে সেঞ্চুরিটি এসেছে এই সময়ে। বল হাতে ধরেছেন ১৯ উইকেট। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের একমাত্র ৫ উইকেট পেয়েছেন গত জুলাইয়ে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের সুপার টুয়েলভে খেলার পথে বড় অবদান রাখেন ২৩ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। সেখানে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ডাচদের চমক দেখানোর ম্যাচে ২ উইকেট নেন তিনি। সেবার পাকিস্তানের হারিস রউফের বাউন্সারে চোখের নিচে কেটে গেলেও সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে পরের ম্যাচেই মাঠে নেমে আলোচনার জন্ম দেন এই ক্রিকেটার।

নেদারল্যান্ডসে ক্রিকেট অতটা জনপ্রিয় নয়। তার দেশে তারকা খ্যাতির কিছুই পান না তারা। নেদারল্যান্ডস ক্রিকেট বিশ্বকাপে খেলছে, তাদের দেশে কজন তা জানেন, এটা গবেষণার বিষয়। সেসব অবশ্য ভাবেন না বাস ডি লিডি। যেকোনো ক্রিকেটারের মতো দলের জন্য অবদান রাখাই মূল লক্ষ্য থাকে তার। ব্যাটিং কিংবা বোলিং দুই বিভাগেই ডাচ দলের বেশ গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠেছেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তার দারুণ অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের আশায় থাকবে নেদারল্যান্ডস।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত