ব্যর্থতার এশিয়াডে সান্ত্বনা ক্রিকেট

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৩, ১২:৩০ এএম

১৭ ডিসিপ্লিনে ১৮০ ক্রীড়াবিদ, ৬০ অফিশিয়াল মিলিয়ে আনুষ্ঠানিক বহর ছিল ২৪০ সদস্যের। এ ছাড়া বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী কমিটির প্রায় সবাই গিয়েছিলেন চীনের হ্যাংজু শহরে এশিয়ান গেমস দর্শনে। বিশাল এই বহর দেশের জন্য বয়ে এনেছে মাত্র দুটি ব্রোঞ্জপদক। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেটের দুই ইভেন্ট থেকে মিলেছে এই সাফল্য। বাকি ১৬ ডিসিপ্লিনের বেশিরভাগ ক্রীড়াবিদের গল্পটা অভিজ্ঞতা অর্জনের; বিচ্ছিন্ন দুই-একজনের পদক জিততে না পারার আক্ষেপের।

১৯তম এশিয়ান গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় ২৩ সেপ্টেম্বর। তবে বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিল আরও আগে, ছেলেদের ফুটবল দিয়ে। এরপর দিন যত গড়িয়েছে, বাংলাদেশে সঙ্গী হয়েছে হতাশা। ১৬ দিনের গেমসে মাত্র দুদিন পদকের সান্ত্বনা মিলেছে। ক্রিকেটের কল্যাণেই মর্যাদার পদক তালিকায় বাংলাদেশের নাম উঠেছে ৩৭তম দল হিসেবে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বরাবরের মতো ভালো করেছে ভারত। ২৮ স্বর্ণপদকসহ ১২৮ পদকে ভারত গেমসে চতুর্থ। এর পরই আছে শ্রীলঙ্কা, একটি স্বর্ণ ও দুটি করে রৌপ্য, ব্রোঞ্জে ২৮তম। পাকিস্তান ৩১ আর নেপাল আছে ৩২তম স্থানে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ মালদ্বীপ ও ভুটান কোনো পদক জেতেনি বলে আছে বাংলাদেশের নিচে।

ক্রিকেটে ছেলে-মেয়ে দুটি দলই সেমিফাইনালে হেরেছে প্রথমবারের মতো গেমসে অংশ নেওয়া ভারতের কাছে। নিগার সুলতানা জ্যোতিরা পরে পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ব্রোঞ্জ পান। সেমিতে বাংলাদেশকে হারানো ভারত ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে জিতে নেয় স্বর্ণপদক। ছেলেদের গল্পটাও একই রকম। তারা সেমিতে ভারতের কাছে নাস্তানাবুদ হওয়ার পর ব্রোঞ্জপদকের রোমাঞ্চকর ম্যাচে পাকিস্তানকে হারায় ৬ উইকেটে। সাফল্যের গল্প এখানেই শেষ।

এ ছাড়া কিছু আছে আক্ষেপ। আর্চারি বড় আক্ষেপ উপহার দিয়েছে। ছেলেদের রিকার্ভ দলগত ইভেন্টে পদকের খুব কাছে গিয়েও পারেননি রোমান সানা, হাকিম আহমেদ রুবেল, সাগর ইসলামরা। নকআউট রাউন্ডের প্রথম ম্যাচে ভিয়েতনামকে হারিয়ে শুরু হয় তাদের স্বপ্নযাত্রা। কোয়ার্টার ফাইনালে তারা হারায় থাইল্যান্ডকে। সেমিফাইনালে চোখে চোখ রেখে লড়েও অবশ্য ভারতকে হারাতে পারেনি তারা। এরপরও সুযোগ ছিল ব্রোঞ্জ জয়ের। তবে ভারতের কাছে অমন হারের পর ইন্দোনেশিয়ার কাছে পাত্তাই পায়নি মনোযোগ হারানো বাংলাদেশ।

আক্ষেপ হয়ে আছে এশিয়াডে সবচেয়ে বেশি পদক এনে দেওয়া কাবাডিতেও; বিশেষ করে মেয়েদের কাবাডিতে পদকের সেরা সুযোগ হারিয়েছে বাংলাদেশ। গ্রুপপর্বে নেপালকে হারালেই নিশ্চিত হতো ব্রোঞ্জপদক। তবে দক্ষিণ এশীয় পরশীদের কাছে হারতে হয়। পরে শক্তিশালী ইরানের কাছে নাস্তানাবুদ হয়ে বিদায় নিতে হয় মেয়েদের। ছেলেদের নিয়েও আশা ছিল। তবে প্রত্যাশা ও বাস্তবতাকে মেলাতে পারেননি তুহিন তরফদাররা। গ্রুপপর্বে জাপানকে হারিয়ে শুরুর পর শক্তিশালী ভারতের কাছে হারে বাংলাদেশ। পরের দিন চাইনিজ তাইপের কাছে হারটাই শেষ করে দেয় পদকের সম্ভাবনা। শেষ গ্রুপ ম্যাচে থাইল্যান্ডকে হারিয়েও লাভ হয়নি।

বাংলাদেশকে পদকের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন বক্সার সেলিম হোসেন। ৫৭ কেজি ওজন শ্রেণিতে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছিলেন এই বক্সার। তবে জাপানের শুদাই হায়দার কাছে হারতে হয় তাকে। এই ম্যাচটা জিতলেই ব্রোঞ্জপদক নিশ্চিত হতো তার। একই সঙ্গে ইতিহাসে লেখা হয়ে যেত তার নাম। এর আগে বাংলাদেশের ব্যক্তিগত ইভেন্টে পদক মাত্র একটাই। ১৯৮৬ সিউল এশিয়াডে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন বক্সার মোশাররফ হোসেন। এরপর থেকে যত পদক সবই দলগত ইভেন্টে।

এ ছাড়া ছেলেদের ফুটবলে গ্রুপপর্ব শেষ হয়েছে তলানিতে থেকে। প্রথম দুই ম্যাচে ডিফেন্সের ভুলে মিয়ানমার ও ভারতের কাছে হেরে দ্বিতীয়পর্বে যাওয়ার স্বপ্ন ভেস্তে যায়। তারপরও শেষ ম্যাচে স্বাগতিক চীনকে রুখে দেওয়ার আত্মবিশ্বাস সঙ্গী করে দেশে ফিরেছে হাভিয়ের কাবরেরার দল। মেয়েরা প্রথমবারের অংশগ্রহণটা স্মরণীয় করতে পারেনি কঠিন গ্রুপে পড়ায়। প্রথম দুই ম্যাচে তারা দুই বিশ্বকাপ খেলিয়ে দল জাপান ও ভিয়েতনামের কাছে হারে। শেষ গ্রুপ ম্যাচে নেপালের সঙ্গে ড্র করে ১-১ গোলে। ট্র্যাক এন্ড ফিল্ডে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে সেমিফাইনালে পৌঁছে গিয়েছিলেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ইমরানুর রহমান। তবে ফাইনালে যেতে পারেননি, নিজের সেরা টাইমিংয়ের ধারেকাছেও যেতে পারেননি তিনি।

ভরাডুবি হয়েছে হকি, শুটিং, সাঁতার, ভারোত্তোলন, জিমন্যাস্টিকস, কারাতে, দাবা, ফেন্সিং, ব্রিজ, গলফ ও তায়কোয়ান্দো ডিসিপ্লিনে। আর বরাবরের মতো লজ্জার কালি লেগেছে কারাতে। দলের কোচ ও কর্মকর্তার বিলম্বের কারণে সময়মতো গেম ভিলেজ থেকে ভেন্যুর বাস ধরতে না পারায় নিজের ইভেন্টে খেলতে পারেননি বাংলাদেশের কারাতেকা হাসান খান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত