দুই সেঞ্চুরির বদলা দুই সেঞ্চুরি

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৩, ১২:১৬ এএম

ধর্মশালা আর হায়দ্রাবাদের দূরত্ব ২০৩৫ কিলোমিটার। তবে ইংল্যান্ড আর শ্রীলঙ্কার স্কোরে পার্থক্য মাত্র কুড়ি রানের। বাংলাদেশের বিপক্ষে ধর্মশালায় ইংল্যান্ড করেছে ৩৬৪। আর হায়দ্রাবাদে পাকিস্তানের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৩৪৪। দুই দলই উইকেট হারায় ৯টি করে। ইংল্যান্ডের ছুড়ে দেওয়া ৩৬৫ রানের চ্যালেঞ্জ নেওয়া দূরে থাক, টপ অর্ডারদের ব্যাটিং ব্যর্থতার দিনে ২২৭ রানেই থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। এখন দেখার অপেক্ষা পাকিস্তান লঙ্কার দেওয়া ৩৪৫ রানের চ্যালেঞ্জ নিতে পারে কি না। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাকিস্তানের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ২৯৪ রান।

ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে পাকিস্তানের জয়ের রেকর্ড ৩৪৯। দেড় বছর আগে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে করেছিল তারা। সেঞ্চুরি করেছিলেন ইমাম-উল-হক আর বাবর আজম। তারা দুজনই ছিলেন কাল। তবে পারেননি জ্বলে উঠতে। বিশাল লক্ষ্যে নেমে পাকিস্তানও শুরুটা করতে পারেনি মনের মতো। শুরুর উইকেটের জুটিটা থেমে যায় মাত্র ১৬ রানে। ১২ বলে ১২ রান করে আউট হয়ে যান ইমাম। শট বলে ইমামের পরীক্ষা নিতে চেয়েছিলেন দিলশান মাদুশাঙ্কা। তাতে ব্যর্থ হন ইমাম। ক্যাচ তুলে দেন ফাইন লেগে। দারুণ একটি ক্যাচ নেন কুশল পেরেরা।

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে মাত্র ৫ রানে ফিরে যাওয়ায় বেশ নিন্দা শুনতে হয় পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজমকে। এই ম্যাচে তার সামনে সুযোগ ছিল সব বিতর্কের অবসান ঘটানোর। কিন্তু পারেননি তিনি। ১৫ বল খেলে মাত্র ১০ রান করেই সাজঘরে ফিরে যান। তিনিও শিকার বনেন মাদুশাঙ্কার। গত এশিয়া কাপের অঘোষিত সেমিফাইনালেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৯ রান করে ফিরে গিয়েছিলেন বাবর। ৩৭ রানে দুই পরীক্ষিত ব্যাটসমানকে হারিয়ে চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান।

সেই চাপ তারা কাটিয়ে ওঠে তৃতীয় উইকেটে মোহাম্মদ রিজওয়ানকে নিয়ে আরেক ওপেনার আবদুল্লাহ শফিকের ১৭৬ রানের অনবদ্য জুটিতে।

এই জুটি গড়ার পথে দারুণ একটি সেঞ্চুরি তুলে নেন আবদুল্লাহ শফিক। শফিকের ওয়ানডে ক্যারিয়ার মাত্র ৪ ম্যাচের। সেই চার ম্যাচে তার সংগ্রহ ছিল মাত্র ৮০ রান। তবুও নিয়মিত ওপেনার ফখর জামানের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ দেওয়া হয় তাকে। দলের আস্থার প্রতিদান কড়ায় গণ্ডায় পুষিয়ে দেন এই সেঞ্চুরিতে। ৯৭ বলে চার মেরে সেঞ্চুরির মাইলফলকে পৌঁছান শফিক। তার আগে ফিফটি তুলে নেন রিজওয়ান।

ইনিংসের ৩৪তম ওভারে গিয়ে থামেন শফিক। পাথিরানার বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ভাসিয়ে খেলা শটটি বাজপাখির মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে তালুবন্দি করেন দুশান হেমন্ত। ১০৩ বল ১১৩ রান করে শফিক যখন ফিরে যান পাকিস্তানের স্কোরবোর্ডের চেহারা ৩ উইকেটে ২১৩ রান। ইনিংসে ১০টি চার ও ৩টি ছক্কা রয়েছে তার।

এর আগে টস জয়ী শ্রীলঙ্কা এতদূর গেছে কুশল মেন্ডিস আর সাদিরা সামারাবিক্রমার দুই সেঞ্চুরিতে। দারুণ ফর্মে আছেন কুশল। এশিয়া কাপে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচে নব্বইয়ের ঘরে আউট হয়ে (৯২ ও ৯১) সেঞ্চুরির সুযোগ হারিয়েছিলেন। বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১৫৮ রান করে আগের ব্যর্থতা ঘোচান তিনি। আরও বিধ্বংসী হয়ে গতকাল তুলে নিয়েছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি।

দ্বিতীয় ওভারেই কুশল পেরেরাকে হারানোর পর পাথুম নিশাঙ্কাকে নিয়ে ১০২ রানের বড় জুটি গড়ে তোলেন কুশল। প্রথম ম্যাচে দ্রুত আউট হয়ে গেলেও এই ম্যাচে ফিফটি তুলে নেন নিশাঙ্কা। ৫১ রান করে আউট হন শাদাব খানের বলে। এরপর সামারাবিক্রমাকে নিয়ে আরও একটি শতরানের জুটি উপহার দেন মেন্ডিস।

মেন্ডিস অবশ্য আউট হতে পারতেন ব্যক্তিগত ১৮ রানেই। শাহিন আফ্রিদির করা ইনিংসের সপ্তম ওভারের পঞ্চম বলে তার সহজ ক্যাচ ছেড়েছেন ইমাম। সেই সময় শ্রীলঙ্কার রান ছিল ১ উইকেটে ৩৫।

‘জীবন’ পেয়ে তার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেছেন মেন্ডিস। আউট হওয়ার আগে সেঞ্চুরি করেছেন ৬৫ বলে, যেটা বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার দ্রুততম। এর আগে বিশ্বকাপে লঙ্কানদের দ্রুততম সেঞ্চুরির দুটিই ছিল কুমার সাঙ্গাকারার। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে ওয়েলিংটনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি সেঞ্চুরি করেছিলেন ৭০ বলে। ওই বিশ্বকাপেই বাংলাদেশের বিপক্ষে ৭৩ বলে আরেকটি সেঞ্চুরি করেছিলেন সাঙ্গাকারা। কুশল মেন্ডিসের ধুন্ধুমার ইনিংসটি থামে হাসান আলির বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে। শেষ পর্যন্ত আউট হন ৭৭ বলে ১২২ রান করে। ইনিংসটি সাজানো ছিল ১৪টি চার ও ৬টি ছক্কায়।

মেন্ডিসকে আউটের দুই বলের মধ্যে চারিথ আসালাঙ্কাকে ফিরিয়ে লড়াইয়ে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন হাসান আলি। কিন্তু ধনঞ্জয়া ডি সিলভা, দাসুন শানাকাকে নিয়ে ইনিংসটা বড় করেছেন সামারাবিক্রমা। ১০ বাউন্ডারি, ২ ছক্কায় ৮২ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করার পরপরই আউট হয়ে যান তিনি। তাকেও ফেরান হাসান আলি।

পাকিস্তানের পক্ষে বল হাতে সবচেয়ে কার্যকর ছিলেন হাসান আলি। ১০ ওভারে ৭১ রান দিয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন তিনি। হারিস রউফ ২টি ও একটি করে উইকেট নেন শাহিন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মদ নাওয়াজ ও শাদাব খান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত