আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের প্রস্তাব দিয়েছে তৃণমূল বিএনপি। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে দলটির এই প্রস্তাবের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, ‘আপনারা আর্মির কথা বলেছেন। এর আগে যে ডায়ালগগুলো হয়েছে, প্রতিটা দলই আর্মির কথা বলেছে। আমরাও লক্ষ করেছি সেনাবাহিনীর উপস্থিতিটা একান্তভাবে কাম্য। জনগণ আর্মির ওপর আস্থা রাখতে চায়। তারা যদি দায়িত্ব পালন করে তাহলে একটা ইতিবাচক দিক থাকবে।’
গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে তৃণমূল বিএনপির সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। তার এই বক্তব্য-সংবলিত একটি ভিডিও নির্বাচন কমিশনের ফেসবুক পেজে দেওয়া হয়েছে।
গতকাল তৃণমূলের চেয়ারপারসন শমসের মবিন চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে।
বৈঠকের পর শমসের মবিন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, তারা নির্বাচন কমিশনকে ১২টি প্রস্তাব দিয়েছেন। যার মধ্যে জাতীয় নির্বাচনে ভোটকক্ষে (বুথ) ক্লোজ সার্কিট (সিসি) টিভি ক্যামেরা স্থাপন অন্যতম। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তাদের বলা হয়েছে, সিসি ক্যামেরা রাখা তাদের পক্ষে সম্ভব হবে না।
শমসের মবিন আরও বলেন, তৃণমূল বিএনপি নির্বাচনমুখী দল। তারা ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেবেন। নির্বাচনে কোনো দল এলো কি না সেটা নিয়ে তারা ভাবছেন না। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে সেটা গ্রহণযোগ্য হবে। বিদেশিরা গ্রহণযোগ্য বলল কি না সেটা দেখার বিষয়ও তাদের নয়। তারা চান নির্বাচনে সব দলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করে দেবে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে সিইসি বলেছেন, ‘সংসদ নির্বাচনে লাখ লাখ ভোটকক্ষ একজন মানুষের পক্ষে পাহারা দেওয়া সম্ভব না। এটা ফেরেশতারা পারেন। আমরা পারব না। কাজেই আমরা সেই ঐশ্বরিক শক্তি নিয়ে নয়, মানবিক শক্তি নিয়ে যতটা সম্ভব মনিটর করব, পর্যবেক্ষণ করব, পরিবীক্ষণ করব।’ তিনি বলেন, ‘আপনাদের বলছি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করব। কিন্তু প্রতিটি বুথে, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে যারা সত্যিকার অর্থে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তাদের কিন্তু এজেন্ট থাকবেন। আমি দেখেছি এজেন্ট যদি আপনারা ঠিকভাবে নিয়োগ দিতে পারেন, এজেন্ট যদি সাহসী ও অনুগত হয়, তিনি যদি শক্ত হয়ে দাঁড়ান তাহলে আরেকজনের পক্ষে আপনার বিপক্ষে অনাচার ও কারচুপি করা কঠিন হবে। সেজন্য বলব, যারা প্রার্থী হবেন তারা যেন শক্তিশালী এজেন্ট দেন। অনেকে প্রার্থী এজেন্ট না দিয়েও বলেন তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা আমাদের নলেজে আসতে হবে, আমরা ব্যবস্থা নেব।’
সিইসি বলেন, ‘সরকারের সহায়তার ওপর আমাদের ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে হবে। সরকার বলতে আমরা যেটা বুঝি জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন। ভোটে লার্জলি আপনাকে ডিপেন্ড করতে হবে জনপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর। আপনাদের (রাজনৈতিক দল) দায়িত্ব নিয়ে কথা বলব, ইটস এ গেম, ইফ ইউ ডু নট প্লে ওয়েল, তাহলে জেতার প্রত্যাশা করবেন না।’
তিনি বলেন, ‘পেশিশক্তি বলে একটা শক্তি হয়েছে। দুঃখজনক হলেও এটা আমাদের দেশের বাস্তবতা। আমাদের প্রচুর কালো টাকা আছে। পুরো পকেটভর্তি কালো টাকা। কাজেই কালো টাকা ব্যবহার করতে হলে আমাদের পেশিশক্তিকে কিনতে হবে। পেশিশক্তিকে যদি নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তাহলে জনগণের যে ভোটাধিকার, সেটা অবশ্যই ব্যাহত হতে পারে। আমরা তাদের নিয়ন্ত্রণে আপ্রাণ চেষ্টা করব। আপনাদেরও সাহসিকতার সঙ্গে চেষ্টা করতে হবে।’
নিবন্ধন পাওয়ার পর এটিই ছিল তৃণমূল বিএনপির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের প্রথম বৈঠক। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে দলটির মহাসচিব তৈমূর আলম খন্দকার এবং নাজমুল হুদার মেয়ে ও দলটির নির্বাহী চেয়ারপারসন অন্তরা সেলিমা হুদা ছিলেন।
