ভারতের কাছে অসহায় পাকিস্তান

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৩, ০১:৪৯ এএম

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই উত্তেজনার পারদ চূড়ায় ওঠা। ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে এমন উপলক্ষ বাদ দিতে চাইবে এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া ভার। ঐতিহাসিক এই দ্বৈরথের সাক্ষী হতে লাখো মানুষ গিয়েছিলেন আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে। কিন্তু যতটা উত্তেজনা ছিল তা খেলার প্রথম ভাগেই নিভে যায়। ১৫৫ / ২ থেকে ১৯১ রানেই যে গুটিয়ে গেল পাকিস্তান। ব্যাটিং শক্তিতে বলীয়ান ভারতীয় দলের জন্য এ তো ব্যাপারই না। রোহিত শর্মার ৮৬ রানে ১১৮ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের জয় তুলে নেয় ভারত। বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ওপর ভারতের আধিপত্য তাতে বজায় রইল।

গতকাল টস-ভাগ্য পাশে ছিল রোহিত শর্মার। দিবারাত্রির ম্যাচে শিশিরের প্রভাব বিবেচনায় আগে বোলিংয়ের অংশটুকু সেরে রাখার সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক। টসে জিতলে একই সিদ্ধান্ত নিতেন বলে জানান বাবর আজম।

ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তান শুরুটা করেছিল সাবধানি ভঙ্গিতে। উদ্বোধনী জুটিতে ৪১ রান তোলেন ইমাম-উল-হক ও আবদ্ল্লুাহ শফিক। সেই জুটি ভাঙেন মোহাম্মদ সিরাজ। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান আবদুল্লাহ শফিককে ৮ম ওভারের শেষ বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন তিনি। ২৪ বলে ৩ চারের সাহায্যে ২০ রান করেন শফিক।

ভারতের হয়ে দ্বিতীয় আঘাত হানেন হার্দিক পান্ডিয়া। ১৩তম ওভারের দ্বিতীয় বলে চার হাঁকান ইমাম। পরের বলেই বদলা নেন হার্দিক। লোকেশ রাহুলের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান ইমামকে। ৬ চারে ৩৮ বলে ৩৬ রান আসে ইমামের ব্যাট থেকে।

গত বিশ^কাপে ৩টি ফিফটি ও এক সেঞ্চুরিতে ৪৭৪ রান করা বাবর আজমের এবারের বিশ^কাপে শুরুটা ভালো হয়নি। তবে বিশে^র নম্বর ওয়ান ব্যাটার ঠিকই জ¦লে ওঠেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের পেয়ে। রিজওয়ানের সঙ্গে ৮২ রানের জুটি গড়ার পথে এই বিশ^কাপের প্রথম ফিফটি তুলে নেন ৫৭ বলে। তবে ইনিংসটা বড় করতে পারেননি। না বাবর আজম। ফিফটি করার পরের বলেই ক্লিন বোল্ড হয়ে যান।

পাকিস্তান অধিনায়কের আউটের সঙ্গে সঙ্গে মড়ক লাগে পাকিস্তানের ইনিংসে। ৩০তম ওভারের চতুর্থ বলে ১৫৫ রানে তৃতীয় উইকেট হিসেবে বিদায় নেন বাবর। আর পাকিস্তান অলআউট হয় ৪৩তম ওভারের পঞ্চম বলে ১৯১ রানে। ১২ ওভারের মধ্যে মাত্র ৩৬ রান তুলতেই ৭ উইকেট হারায় পাকিস্তান। ওয়ানডেতে এমন ব্যাটিংধসের তৃতীয় নজির গড়ল পাকিস্তান। এর আগে ১৯৯৩ সালে কেপটাউনে ৩২ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৪৩ রানে অলআউট হয়েছিল পাকিস্তান। পরেরবার ২০১২ সালে কলম্বোয় শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ৩৩ রানে ৭ উইকেট হারায় তারা।

ফর্মের তুঙ্গে থাকা রিজওয়ানের ইনিংস থামে ৪৯ রানে। ৬৯ বলে ৭টি চার মারা রিজওয়ানকে বোল্ড করেন জাসপ্রিত বুমরা। ভারতের ৫ বোলার ভাগ করে নিয়েছেন সব কটি উইকেট। কুলদীপ, জাদেজা, সিরাজ, হার্দিক ও বুমরা প্রত্যেকেই ২টি করে উইকেট শিকার করেছেন। কেবল দুর্ভাগা রয়ে গেছেন শার্দূল। বিশ্বকাপে এমন ঘটনার নজিরও এটি তৃতীয়বারের মতো। ২০১৫ আসরে নিউজিল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা এবং ২০১১ আসরে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচগুলোতেও এ ঘটনা ঘটেছিল।

১৯২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে প্রথম বলেই চার মেরে শুরু করেন রোহিত। শুবমান গিলও প্রত্যাবর্তনটি রাঙিয়ে নেন একই কায়দায়। তাদের ঝড়ো গতি থামান শাহিন শাহ আফ্রিদি। নিজের দ্বিতীয় ওভারে পয়েন্টে শাদাবের দারুণ ক্যাচের বদৌলতে আউট হন গিল। জ¦র থেকে ফিরে মাত্র ১১ বলে ১৬ রান করেন চারটি চার মেরে। রোহিতের সঙ্গে ৫৬ রানের জুটি গড়েন বিরাট কোহলি। তিনিও আউট হন ১৬ রান করেই, ৩ চারে ১৮ বলে। তাকে ফেরান হাসান আলি। তবে আগের ম্যাচে ১৩১ রানের অনবদ্য সেঞ্চুরির পর এই ম্যাচেও রানের ফোয়ারা ছোটাতে থাকা রোহিত ৩৬ বলে ফিফটি করেন। এটি তার ৫৩তম ফিফটি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ছোঁন ৩০০ ছক্কা হাঁকানোর মাইলফলক। শ্রেয়াসের সঙ্গে ৭৭ রানের জুটি বেঁধে আফ্রিদির বলে আউট হওয়ার আগে ৬৩ বলে ৮৬ রানের মারকুটে ইনিংস উপহার দেন ভারতের অধিনায়ক। ৬টি করে চার-ছক্কা হাঁকান তিনি।

এরপর লোকেশ রাহুলকে নিয়ে ৩৬ রানের জুটি গড়ে ভারতকে জয়ের বন্দরে পৌঁছান শ্রেয়াস। ৩১তম ওভারে তৃতীয় বলে চার মেরে নিজের ফিফটির সঙ্গে ভারতের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। ৩ চার ও ২ ছয়ে ৬২ বলে ৫৩ রান করে অপরাজিত থাকেন শ্রেয়াস। লোকেশ রাহুল অপরাজিত থাকেন ১৯ রান করে। তাতেই ১১৮ বল ও ৭ উইকেট হাতে রেখে তিন ম্যাচের তিনটিতেই দাপটের সঙ্গে জয় তুলে নেয় ভারত। মাত্র ১৯ রানে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন জাসপ্রিত বুমরা।

ম্যাচশেষে নিজেদের ব্যাটিং ধসকেই লজ্জাকর এই হারের জন্য দায়ী করেন বাবর আজম। প্রশংসা করেন রোহিতের ব্যাটিংয়ের। ভারতের অধিনায়ক জয়ের কৃতিত্ব তুলে দেন বোলারদের ওপরে। তবে আনন্দের মুহূর্ত উপভোগ শেষেই কাজে মনোযোগী হতে চান রোহিত। বলেন, ‘সামনে আরও লম্বা পথ বাকি আছে। এই মঞ্চে অতীত বা ভবিষ্যৎ গুরুত্ব রাখে না। প্রতিটি দিন আপনাকে সেরা পারফর্ম করে যেতে হবে। আমি সৌভাগ্যবান যে সেই দায়িত্ব কাঁধে নেওয়ার মতো খেলোয়াড় আমাদের রয়েছে। যার যার দিনে পারফর্ম করে দলকে জেতানোর জন্য সবাই মুখিয়ে আছে।’

এমন দাপুটে জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে জায়গা পোক্ত করল ভারত। আর এ দলটিকেই নিজেদের পরের ম্যাচে মোকাবিলা করতে হবে বাংলাদেশকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত