চালের বৃহত্তম উৎস ভারত ও মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশ রপ্তানিতে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এতে বিশ্ববাজারে চালের দর ঊর্ধ্বমুখী। তবে বাংলাদেশে প্রধান এই খাদ্যশস্যের বাজার অনেকটাই স্থিতিশীল। ধানের উৎপাদন ভালো হওয়ায় চালের জোগানে জটিলতা নেই। সরকারের মজুদে রয়েছে পর্যাপ্ত ধান ও চাল। ডলার সংকটের এই সময়ে ধান-চালের আমদানি ছাড়াই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ায় স্বস্তিতে রয়েছে সরকার। এমন পরিস্থিতিতে আজ সোমবার পালিত হচ্ছে বিশ^ খাদ্য দিবস।
খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে উৎপাদনের বাইরে সরকারি ও বেসরকারিভাবে বছর বছর চাল ও ধান আমদানি করতে হয়। তবে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত চাল আমদানি করা হয়নি। আমন মৌসুমে আশানুরূপ ফলন হলে আসন্ন নির্বাচন কিংবা তার পরবর্তী কয়েক মাসেও চাল আমদানি নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। এমন পরিস্থিতিতে অন্যান্য খাদ্যশস্য কিংবা তার বাজার নিয়ে অস্থিতিশীলতা থাকলেও ধান-চাল নিয়ে সমস্যা দেখছে না সরকার।
এ বিষয়ে খাদ্য সচিব মো. ইসমাইল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, এই মুহূর্তে ধান-চালের কোনো সংকট নেই। মজুদ পর্যাপ্ত আছে। তবে ভবিষ্যতে ধান-চাল আমদানি করতে হবে কি-না সেটি নির্ভর করছে আমনের ফলনের ওপর। যদি আমনের ফলন আশানুরূপ হয় তাহলে আমদানির প্রয়োজন হবে না।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিগত মৌসুমগুলোয় উৎপাদন ভালো হওয়ায় আসন্ন আমন মৌসুমের সংগ্রহ পর্যন্ত চাল আমদানির প্রয়োজন নেই। পাশাপাশি ডলার সংকটের কারণেও চাল আমদানি না করে খাদ্য পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া যায়, সেদিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫২ টাকায়। গত বছরের এই সময়ে একই দামে মোটা চাল বিক্রি হয়েছিল। ফলে বিশ^বাজারের তুলনায় দেশের বাজারে চালের দাম বাড়েনি।
যদিও চাল ছাড়া প্রায় সব ধরনের খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। মানুষের সার্বিক জীবনযাত্রার এই ব্যয়ভারের সঙ্গে চালের মতো প্রধান খাদ্যশস্যের দাম বাড়লে সেটি মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো হতো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৪ কোটি ১৭ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়েছে। এর আগে ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে মোট চাল উৎপাদন হয়েছিল ৩ কোটি ৮৩ লাখ টন।
ডিএই সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে আউশ মৌসুমে প্রায় ৩০ লাখ ৪৩ হাজার টন চাল উৎপাদন হয়েছে। আর চলতি আমন মৌসুমে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ কোটি ৭১ লাখ টন। এ পর্যন্ত ৫৮ লাখ ৭৪ হাজার হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ করা হয়েছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বর্তমানে সরকারের মজুদে মোট খাদ্যশস্য রয়েছে ১৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৯০ টন। এর মধ্যে চাল রয়েছে ১৫ লাখ ৯৮ হাজার ৮২৯ টন ও গমের মজুদ আছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৪ টন। এ ছাড়া ধানের মজুদ ৪ হাজার ৬২৬ টন।
বাংলাদেশে সামনে রয়েছে চাল উৎপাদনের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৌসুম আমন, যেখানে প্রায় দেড় কোটি টন চাল উৎপাদন হয়। এই মৌসুমের উৎপাদন কাক্সিক্ষত হলে সমস্যা হবে না। গত বোরো মৌসুমে ২ দশমিক ১৫ কোটি টনের বেশি চাল উৎপাদন হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।
তবে উৎপাদন ও মজুদ ঠিক থাকলেও চলতি অর্থবছরে ১ জুলাই থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারিভাবে খাদ্যশস্য বিতরণ কমেছে। সরকারি খাদ্যশস্য বিতরণ পরিস্থিতির সবশেষ তথ্য বলছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারিভাবে চাল বিতরণ করা হয়েছিল ৮ লাখ ৮৭ হাজার ৭৪৩ টন। চলতি অর্থবছরে একই সময়ে সরকারিভাবে মোট চাল বিতরণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৭৫ হাজার ৪৪ টন।
এদিকে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার উদ্যোগে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচিতে আজ পালিত হচ্ছে খাদ্য দিবস-২০২৩। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘পানি জীবন, পানিই খাদ্য। কেউ থাকবে না পিছিয়ে’।
দিবসটি উপলক্ষে সকাল ১০টায় বিশ্ব খাদ্য দিবসের মূল অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে। এতে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার প্রধান অতিথি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। দুপুরে বন্যা ও পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে কারিগরি সেশন অনুষ্ঠিত হবে।
