সংরক্ষিত বন খুঁড়ে মাটি লুট

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৩, ০৬:১৮ এএম

পটুয়াখালীর কুয়াকাটার গঙ্গামতি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বিভিন্ন প্রজাতির শতবর্ষী ও চারাগাছ কেটে কিংবা উপড়ে বনের ভেতরের মাটি লুট করছে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি। তাদের সঙ্গে বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

প্রভাবশালী এই রেঞ্জ কর্মকর্তার হাত থেকে গঙ্গামতি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ ও মাটি রক্ষার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। তারা বলছেন, এই বনাঞ্চলের কারণেই সিডরের মতো ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি কম হয়েছিল। এই বনাঞ্চল উজাড় হওয়া মানে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার এই প্রাকৃতিক ঢাল ধ্বংস হওয়া।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পটুয়াখালীর কুয়াকাটার গঙ্গামতি সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে মাটি লুট করছে প্রভাবশালী স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি। তারা এই মাটি বিক্রি করছে বেড়িবাঁধ প্রকল্পে। প্রায় ৩৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ও মেরিন ড্রাইভ প্রকল্পটির কাছ চলছে ২০১৮ সাল থেকে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের হিসাবে গঙ্গামতি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের আয়তন ২০০ একর। কাউয়ারচরও এর অন্তর্ভুক্ত। এটি পটুয়াখালী উপকূলীয় বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জের অধীন। এ পর্যন্ত ২০-২৫ একর বনভূমি উজাড় হয়ে গেছে। উপড়ে ফেলা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার কেওড়া, আকাশমণি, বাইনগাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির শতবর্ষী ও চারাগাছ। মাটি কাটার জন্য তারা এক্সকাভেটর ব্যবহার করছে। বনের ভেতরে মাটি কাটার কারণে বড় বড় পুকুরের মতো খাদের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে পটুয়াখালীর কলাপাড়া বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে একটি চক্র বন থেকে মাটি কেটে নিয়ে বিক্রি করে দিচ্ছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মহিপুর রেঞ্জ অফিসার আবুল কালাম আজাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. শাকিল সাংবাদিকদের বলেন, কেটে নেওয়া মাটি বাঁধ নির্মাণকাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দিলেও মাটি কাটা বন্ধ হয়নি।

অন্য স্থানীয় বাসিন্দা হজরত আলী বলেন, প্রতিবাদ করায় ইতিমধ্যে সাইফুল নামে স্থানীয় এক ব্যক্তিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গাছ কাটার মামলা করেছে বন বিভাগ। অন্যদের মামলার হুমকি দিচ্ছে। এ বিষয়ে যথাযথ তদন্ত চেয়ে লিখিত অভিযোগ দিলেও প্রশাসন মাটি কাটা বন্ধ করতে পারছে না।

তিনি বলেন, ২০০৭ সালে এই বনাঞ্চল সিডরের আঘাত মোকাবিলা করেছে। ওই সময় সিডরে তিনি তার দুই সন্তানকে হারিয়েছেন। এভাবে যদি বন ধ্বংস হয় তাহলে ভবিষ্যতে বড় ঘূর্ণিঝড়ে এলাকার ব্যাপক ক্ষতি হবে। মরতে হবে স্থানীয় বাসিন্দাদের। তাই দ্রুত মাটি কাটা বন্ধসহ দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সোহেল বলেন, ‘সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষা করতে বলছেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা তাই বনাঞ্চল রক্ষার জন্য প্রতিবাদ করছি। কিন্তু বর্তমানে মাটি কাটার বিরুদ্ধে যে মুখ খুলে আজাদ বাহিনীর রোষানলে তাকে পড়তে হচ্ছে।’

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, গত ১৬ অক্টোবর অভিযান চালিয়ে চারজনকে জেল-জরিমানা করা হয়েছে। বন বিভাগের ভূমি রক্ষায় প্রশাসন বদ্ধ পরিকর। যাতে আর এক ইঞ্চি মাটি কাটা না হয় এর জন্য অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. সফিকুল ইসলামের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমবার ফোন ধরলেও কিছু বলেননি। পরে আর ফোন ধরেননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত