ভৈরব ট্রেন দুর্ঘটনা

আহতদের কারও হাত, কারও পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৩, ০৯:১৭ পিএম

ভৈরবে ভয়বাহ ট্রেন দুর্ঘটনায় দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বগি থেকে একের পর এক লাশ বের করা হচ্ছে। যাদের জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হচ্ছে তাদের কারও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে হাত, কারও পা। কেউ কাতরাচ্ছেন মৃত্যু যন্ত্রণায়। আবার নিখোঁজ স্বজনদের অপেক্ষায় দাড়িয়ে কেউ বিলাপ করছেন।

দেশ রূপান্তরের প্রতিনিধির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গুরুতর আহত অবস্থায় প্রায় ৫০ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা, বাজিতপুর, কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন মেডিকেল পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহতদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

সোমবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় দিকে এমন ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে। দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২২ জনের প্রাণহানি হয়েছে। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায় হাসপাতালের ফ্লোরে শুয়ে আছেন অনেকেই। পাশে আছেন স্বজনরা। তাদের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতাল।

বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনী দুর্ঘটনা এলাকা ঘিরে রেখেছেন। ট্রেনের নীচে এখনও হতাহতরা আছেন বলে ধারণা করছেন উদ্ধারকারী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ সোমবার বিকাল ৪টার দিকে ভৈরব থেকে ছেড়ে যায় ঢাকাগামী আন্তঃনগর এগারো সিন্ধুর এক্সপ্রেস ট্রেন। ট্রেনটি স্টেশনের আউটার সিগন্যাল পার হওয়ার আগেই চট্টগ্রামগামী একটি মালবাহী ট্রেন এগারসিন্ধুর ট্রেনের পেছনের দুটি বগিকে ধাক্কা দেয়। দুটি বগি দুমড়ে-মুচড়ে লাইনে থেকে ছিটকে পড়ে।

পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করে। তবে স্থানীয় উৎসুক মানুষের ভিড়ে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হয়। এ দুর্ঘটনার পর রাত ৮টা পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রামসহ ঢাকা-ভৈরব-কিশোরগঞ্জ, ঢাকা-সিলেট রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা থেকে একটি রিলিফ ট্রেন এসে মালবাহি ট্রেনটিকে ভৈরব স্টেশনে নিয়ে গেলে সিঙ্গেল লাইনে ট্রেন চলাচল শুরু হয়।

ট্রেনটির যাত্রী রাহাত মিয়া ও লিটন হোসেন জানান, তারা পেছন দিক থেকে ৪ নম্বর বগিতে ছিলেন। আচমকা ট্রেনটিতে বিকট শব্দে বড় ঝাকুনি হয়। পরে ট্রেনটি কিছু দূরে গিয়ে থেমে গেলে তারা ট্রেন থেকে নেমে এক ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান। রেল লাইনের নীচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আহত-নিহতরা। তাদের চিৎকার-আর্তনাদে চারদিক ভারী হয়ে উঠছিল।

দক্ষিণ জগন্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দা আবুল হোসেন জানান, তিনি রেল লাইনের একটু দূরেই ছিলেন। দুর্ঘটনা দেখে তিনি অন্যান্যদের নিয়ে ছুটে আসেন এবং উদ্ধার কাজ চালান।

তিনি জানান, তারা ট্রেনটির গার্ড (পরিচালক) কে আহতাবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই।

ভৈরব ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আজিজুল হক রাজন জানান, রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত তারা ২২টি মরদেহ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়েছেন। ট্রেনের নীচে আরও লাশ থাকতে পারে বলে তার ধারণা।

ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বুলবুল আহমেদ জানিয়েছেন, নিহতদের লাশগুলি তাদের কাছে আছে। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। কিছু রোগী এখানে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৬টার দিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি নিহদের দাফন কাফনের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান এবং আহতদের যথাযথ সুচিকিৎসার নির্দেশ দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত