শুভাশিষ নয়, হোক রবিনহো বিস্ফোরণ

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৩, ০৯:৩৪ পিএম

নেতাজি সুবাসচন্দ্র বোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ বহির্গমন টার্মিনালের ১০৩ নম্বর গেটের সামনে অটোগ্রাফ ও সেলফিশিকারিদের জটলা। সেই জটলার মধ্যমণি লোকাল বয় শুভাশিষ বোস। ভক্তদের দাবি মিটিয়ে কোনোমতে ভিড় ঠেলে বের হয়েই মোবাইল ফোনে স্পষ্ট বাংলায় কথা বলতে শুরু করলেন বাগান ডিফেন্ডার। দূর থেকেই শোনা গেল পরিবারের কাউকে সান্ত্বনা দিয়ে বলছেন, তার অনুপস্থিতিতে যেন পূজা উদযাপনে কোনো খামতি না থাকে।

নবমীর দিনে প্রিয় শহর ছেড়ে যেতে কষ্ট হচ্ছিল, একটু মনমরাও ঠেকছিল কলকাতার তারকাকে। তবে আগামীকাল মনখারাপটা এক পাশে রেখে মনোযোগটা শতভাগ দিতে হবে মাঠে। কারণ প্রতিপক্ষ বসুন্ধরা কিংসের অস্ত্রভান্ডারে আছে রবসন রবিনহো নামে গ্রেনেড। নিজের দিনে বিস্ফোরিত হয়ে যেকোনো প্রতিপক্ষকেই বিধ্বস্ত করতে পারেন এই প্লে-মেকার। ভুবনেশ্বরের কলিঙ্গ স্টেডিয়ামে কাল সেই বিস্ফোরণে ছারখার হওয়ার শঙ্কাটা শুভাশিষেরই বেশি।

কিংসের বিপক্ষে রক্ষণ সামলানোর বড় দায়িত্ব তার ঘাড়ে। এ নিয়ে কথা হচ্ছিল বেশ। এর মাঝেই গোয়ার ছেলে লিস্টন কোলাসো কাছে এসে কানে কানে শুভাশিষকে কী যেন বলতেই দুজনে হাসতে হাসতে খুন। বাগানের বাঁ দিকটা শক্তিশালী এই দুইয়ের রসায়নে। ফরোয়ার্ড কোলাসোর প্রতিপক্ষের রক্ষণের বাঁ দিক দিয়ে ভীতি ছড়ানোর জুড়ি নেই। শুভাশিষও রক্ষণের এই দিকটা সামলানোর পাশাপাশি নিয়মিতই ওভারল্যাপে যোগ দেন আক্রমণে। মাঠের জুটিটা তাই মাঠের বাইরেও জমেছে বেশ। আজকের ম্যাচ নিয়ে রাশভারী আলোচনার চেয়ে দুজনের মধ্যে খুনসুটিটাই বেশি উপভোগ্য তাদের কাছে। সেই ফাঁকে অবশ্য শুভাশিস বাংলাদেশের সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে পূজার শুভেচ্ছা জানাতে ভোলেননি বাংলাদেশের মানুষকে।

এরপর বন্ধ গেট খুলতেই দ্রুত বিদায় নিয়ে সতীর্থদের সঙ্গে ভুবনেশ্বরগামী বিমানে চড়ে বসলেন শুভাশিষ। যে শহরে তাদের নিদেনপক্ষে তিন ঘণ্টা পর উপস্থিত হয়েছেন বসুন্ধরা কিংসের খেলোয়াড়রা। ভারতে আসা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভালো ঘুম হয়নি আগের দুই রাত। এর সঙ্গে পথের ঝক্কি যোগ হওয়ায় রাজ্যের ক্লান্তি তাদের চোখে-মুখে। এর মধ্যেই পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে কোচ অস্কার ব্রুজোনের যাত্রাসঙ্গী হলেন রবিনহো। আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে থাকতে হবে যে। ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকার বাগানের বিপক্ষে আগের দুই ম্যাচেই ছিলেন সপ্রতীভ। তবে দুর্ভাগ্য, জয়ের হাসি হাসতে পারেননি একবারও।

প্রিয় শিষ্যের সেই ট্রমা কাটিয়ে দিতে পিঠ চাপড়ে ব্রুজোন বলে উঠলেন, ‘দেখো, তোমরাই জিতবে। তুমি আগের দুটি ম্যাচ ভুলোনি। তুমিই পারো দলকে জাগিয়ে তুলতে।’

রবসন কম কথার মানুষ। স্প্যানিশটা বলেন স্বদেশি কাউকে পাশে পেলে, ইংরেজি একেবারেই বলেন না। তবে সংবাদ সম্মেলনে ঠিকই স্পষ্ট ইংরেজিতে দিলেন ভালো ফুটবলের প্রতিশ্রুতি। যেন পাশে বসা কোচকে চাইলেন নির্ভার রাখতে, ‘এখানে আমি একক কোনো লক্ষ্য নিয়ে আসিনি। এসেছি দলের জয়ে অবদান রাখতে। আগে কী করেছি, সেটা বড় কথা নয়। সামনে জিতলেই আমি খুশি। বাগান অনেক ভালো দল। তবে আমরাও ভালো। সেটা প্রমাণ হয়েছে ঘরের মাঠে ওডিশা এফসির বিপক্ষে। এবার বাগানকে বোঝানোর পালা।’

বাগানকে বোঝাতে হলে, আগের দুইবারের না পারার আক্ষেপ ঘোচাতে আরেকবার বিস্ফোরিত হতে হবে রবিনহোকে এবং সেটা সদলবলে। কলিঙ্গ স্টেডিয়ামের আগামীকালের রাতটা শুভাশিষদের হতে দেওয়া চলবে না। তবেই বাগান মাড়িয়ে রাজার মতোই দেশে ফিরবে কিংস।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত