নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান

এক পরিবার থেকে ১৫ শতাংশের বেশি শেয়ার নয়

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৩, ০৬:১৮ এএম

নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা লিজিং কোম্পানিতে এক পরিবার থেকে ১৫ শতাংশের বেশি শেয়ারের মালিক হওয়া যাবে না এবং সর্বোচ্চ দুজন পরিচালক হতে পারবেন। এমন বিধান রেখে ‘ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন ২০২৩’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসংক্রান্ত ১৯৯৩ সালের আইনে কিছু দুর্বলতা রয়েছে। এজন্য বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় এসে নানারকম অভিজ্ঞতা এবং নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। সেজন্য একটি খসড়া ২০২১ সালে মন্ত্রিসভা নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল। অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সেটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিদ্যমান আইনে একজন ব্যক্তি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কত শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে পারবেন, এটি বেঁধে দেওয়া ছিল না। পরিচালকদের সংখ্যা নির্দিষ্ট ছিল না। এখন এটিতে দুজন স্বতন্ত্র এবং সব মিলিয়ে ১৫ জন পরিচালক থাকতে পারবেন। তবে একটি পরিবার থেকে যদি তাদের শেয়ারের পরিমাণ ৫ শতাংশের কম হয়, একজন পরিচালক থাকবেন। ৫ শতাংশের বেশি হলে সর্বোচ্চ দুজন থাকতে পারবেন।

মাহবুব হোসেন আরও বলেন, বিদ্যমান আইনে পরিচালকের কোনো মেয়াদ বেঁধে দেওয়া ছিল না। এখন পরিচালকের মেয়াদ তিন বছর করা হচ্ছে। পরপর তিন মেয়াদে পরিচালক থাকতে পারবেন। অর্থাৎ একজন একটানা ৯ বছর পরিচালক থাকতে পারবেন।

নতুন আইনে ঋণখেলাপির বিষয়ে তিনি বলেন, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যদি ঋণ পরিশোধ না করেন, যে কারণে ঋণ নিয়েছেন সে কারণে যদি ব্যবহার না করেন এবং ঋণ নেওয়ার পর যদি কোনো কাগজ ভুয়া প্রমাণিত হয়, তাহলে তিনি ঋণখেলাপি হবেন। ঋণখেলাপি ব্যক্তি নোটিস পাওয়ার দুই মাসের মধ্যে  অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে, সংশ্লিষ্ট ফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনক্রমে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করতে পারবেন। ঋণখেলাপির বিরুদ্ধে বিদেশ ভ্রমণে, ট্রেড লাইসেন্স ও নতুন কোম্পানি গঠনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যাবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সুদ মওকুফের বিষয়ে বিদ্যমান আইনে কোনো নির্দেশনা ছিল না। এখন বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া সুদ মওকুফ করা যাবে না। কস্ট অব ফান্ড অবশ্যই আদায় করতে হবে। লাইসেন্সের শর্ত না মানার শাস্তি ১০ লাখ থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা করা হচ্ছে। বিধিবিধান লঙ্ঘন করে ঋণ দিলে ১০ লাখ টাকা বা ছাড় করা ঋণের বিদ্যমান স্থিতির মধ্যে যেটি বেশি সেটি প্রত্যেক পরিচালক ও কর্মকর্তাকে জরিমানা করা যাবে। এ ছাড়া বিদেশিরা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার নিতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে।

বর্তমান আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইন কার্যকরের দুই বছরের মধ্যে একই পরিবারের ১৫ শতাংশের বেশি শেয়ার ছেড়ে দিতে হবে। অন্যথায় সেগুলো বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে।

গ্রাম আদালতের জরিমানা করার ক্ষমতা ৪ গুণ বাড়ছে : গ্রাম আদালত আইন সংশোধন করে জরিমানা করার ক্ষমতা ৭৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ টাকা করার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, গ্রাম আদালতের আর্থিক ক্ষমতা (জরিমানার করার ক্ষমতা) ৭৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ টাকা করা হয়েছে। পাঁচজনের সমন্বয়ে গ্রাম আদালতে কোনো সময় একজন অনুপস্থিত থাকলে যদি উভয়পক্ষে সমান মত হয়, সে ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান চূড়ান্ত মত দেবেন। এ ছাড়া আগের আইনের কয়েকটি জায়গায় থাকা ‘নাবালক’ শব্দটি বদলে ‘শিশু’ করা হচ্ছে।

২০২৪ সালের সরকারি ছুটি ২২ দিন : আগামী বছর সাধারণ ও নির্বাহী আদেশে ছুটি মিলিয়ে মোট ২২ দিন সরকারি ছুটি থাকবে। এর মধ্যে দুদিন পড়েছে সাপ্তাহিক ছুটির দিন। মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘২০২৪ সালে সরকারি ছুটির তালিকা’ অনুমোদন দেওয়া হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ধর্মীয় কারণে বিভিন্ন সম্প্রদায় ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবে। চলতি বছরও (২০২৩ সাল) সরকারি ছুটি ২২ দিন ছিল। তবে এর মধ্যে আট দিন পড়েছিল সাপ্তাহিক ছুটি।

সরকারি কেনাকাটা প্রতিযোগিতাপূর্ণ করতে নতুন নীতি : সরকারি কেনাকাটাকে আরও প্রতিযোগিতাপূর্ণ ও পরিবেশবান্ধব করতে ‘টেকসই সরকারি ক্রয়নীতি ২০২৩’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। তবে এটি পরিকল্পনা মূল্যায়ন ও বাস্তবায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রথমে পাইলটিং করবে। এরপর এর বাস্তবায়ন শুরু হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আমাদের যে সরকারি ক্রয়টা হয় সেখানে প্রতিযোগিতা আরও উন্মুক্ত ও আরও বেশি অবাধ হয় সেটি নিশ্চিত করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। দেখা যায় যে, অনেক কোম্পানি তার সামর্থ্য নেই তারপরও তারাই কাজ পেয়ে যাচ্ছে। এতে আমাদের উন্নয়ন কার্যক্রম অনেক বিলম্ব হচ্ছে। এ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সংশ্লিষ্ট বিধিবিধানের পরিবর্তন আনার নির্দেশনা দিয়েছেন, যাতে করে প্রতিযোগিতা উন্মুক্ত হয়, উন্নয়নমূলক কাজ আমরা দ্রুত সম্পন্ন করতে পারি।

২৮ অক্টোবর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার নির্দেশনা : ২৮ অক্টোবর দেশের দুটি বৃহত্তম দলের রাজনৈতিক সমাবেশ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের একটা বড় ভূমিকা থাকে। সে ক্ষেত্রে আপনাদের কোনো নির্দেশনা আছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আমাদের তরফ থেকে যেটা বলা হয়েছে, সেটা হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন স্বাভাবিক থাকে, কোনো ধরনের জনজীবন যাতে ব্যাহত না হয়, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলেছি। জেলা প্রশাসকদেরও এ বিষয়ে বলা হয়েছে বলে জানান মাহবুব হোসেন।

নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা কেমন হচ্ছে : নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভার আকার ছোট হচ্ছে না, একই থাকছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন বলেন, ‘এ ব্যাপারে মন্ত্রিসভা থেকে আমি এখনো কোনো নির্দেশনা পাইনি। তবে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, প্রশাসনকে সবসময় সবকিছুর জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়। সেটি যদি না হয়, তাহলে তো সংবেদনশীল প্রশাসন হয় না। আমাদের যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য পরিপূর্ণ কাঠামো আছে, আমাদের অভিজ্ঞ লোকেরা আছেন এবং আমাদের সেই টুলস আছে। আমরা আশা করছি, যখনই যেকোনো বিষয় আমাদের সামনে আসবে, আমরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব দিয়ে তা হ্যান্ডেল করব।’

এ ছাড়া গতকালের মন্ত্রিসভা বৈঠকে নাটোরে ‘ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়া কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০২৩’, ‘বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশন আইন, ২০২৩’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন হয়। বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীর ভারত সফর সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত