বিশ্বকাপ ঘিরে সক্রিয় অনলাইন জুয়ার সাইট, গ্রেপ্তার ৪

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৩, ০১:৪৪ পিএম

বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে অনলাইন জুয়ার সাইটের কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রচারের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়া ও পাচারের জড়িত থাকার অভিযোগে একটি চক্রের মূল হোতা নিশাত মুন্নাসহ চক্রের ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। গতকাল সোমবার রাতে অভিযান পরিচালনা করে গাজীপুরের শ্রীপুর ও রাজধানীর মালিবাগ হতে ওই ৪জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তারা হলেন— মো. নিশাত মুন্না (২০), কামরুল ইসলাম শুভ (২৭), মো. সুমন (৩৫), ও মো. নাজমুল হোসেন বাবু (৩১)। এসময় ১৬টি মোবাইল ফোন, ১৮টি সিম কার্ড, ১টি কম্পিউটার উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব জানায়, এ চক্রটি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দেশের বাহির হতে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার সাইটের কার্যক্রম দেশে পরিচালনার মাধ্যমে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা অনলাইন জুয়ার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য দিয়েছে র‍্যাবকে।

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, বিগত দেড় বছর যাবত চক্রটি বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার সাইটের বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। দেশের বাইরে থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার সাইটের দেশীয় কার্যক্রম পরিচালনা করত গ্রেপ্তার নিশাত মুন্না। তার নেতৃত্বে চক্রের ৭-৮ জন সদস্য বাংলাদেশে বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার সাইটের প্রচার, একাউন্ট খোলা, মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে অর্থ লেনদেন, হুন্ডির মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী দেশে অর্থ পাঠানোর সঙ্গে জড়িত ছিল।

তিনি আরও জানান, মূলত ফুটবল বিশ্বকাপ, ক্রিকেট বিশ্বকাপ, আইপিএল, বিপিএল, বিভিন্ন ফুটবল লীগ/টুর্নামেন্ট ও অন্যান্য খেলাকে কেন্দ্র করে দেশেরে উঠতি বয়সের তরুণদেরকে টার্গেট করে এই অনলাইন জুয়ার প্রচার করতো চক্রটি। এ চক্রের কেউ বিভিন্ন বিদেশী বেটিং সাইটের বাংলাদেশের প্রচার/মার্কেটিং এর কাজ করত; কেউ আগ্রহী ব্যক্তিদের বিভিন্ন সাইটের একাউন্ট খুলে দিত; আবার কেউ একাউন্ট করা ব্যক্তির নিকট হতে অর্থ সংগ্রহ করে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে তা হুন্ডির মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার প্লাটফর্ম পরিচালনাকারীর নিকট প্রেরণ করত। তিনি আরও বলেন, তারা বিভিন্ন ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করে কন্টেন্টের সাথে জুয়ার সাইটের বিজ্ঞাপন, সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে বেটিং সাইটের বিজ্ঞাপন, সরাসরি মানুষের কাছে বলার মাধ্যমে এই জুয়ার সাইটের প্রচারের কার্যক্রম পরিচালনা করত। পরবর্তীতে বিজ্ঞাপন দেখে আগ্রহী ব্যক্তিরা তাদের সাথে যোগাযোগ করে একাউন্ট খুলত। তাদের প্রেরণ করা লিংক এর মাধ্যমে একাউন্ট খুলত। কোন নতুন গ্রাহক তাদের মাধমে বেটিং সাইটে একাউন্ট খুললে তারা কমিশন পেত। তারা ওয়ানএক্সবেট, মেল্টবেল্ট, পারিম্যাচ, ভেলকিএক্স, বিজেবাজি ক্যসিনো, লুডো ম্যাচসহ বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার সাইটের কার্যক্রম দেশে পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ছিল।

এ কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বা বিটিআরসি কর্তৃক অনলাইন জুয়া বা বাজি সংক্রান্ত বিভিন্ন এ্যাপস এবং ওয়েবসাইট ইতোপূর্বে বন্ধ করা হলে তারা ডোমেইন পরিবর্তন করে পুনরায় অনলাইন প্লাটফর্মগুলোতে জুয়া চালু করে। তারা নামে বেনামে একাধিক সিম সংগ্রহ করে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে গ্রাহকদের নিকট হতে অনলাইন জুয়ার অর্থ সংগ্রহ করতো এবং প্রাপ্ত অর্থ থেকে নিজেদের লভ্যাংশ রেখে অবশিষ্ট টাকা তারা হুন্ডির মাধ্যমে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত