মানবসভ্যতার ইতিহাস

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৩, ০৫:১২ এএম

আজকের সভ্যতা একদিনে গড়ে ওঠেনি। মানুষই একে তিল তিল করে গড়ে তুলেছে। তবে এ কথাও সত্য কিছু মানুষের হঠকারিতায় অনেক সভ্যতা ধ্বংসও হয়ে গেছে। আজ যারা শিশু তারাই আগামীর পৃথিবীর নিয়তি নির্ধারক। তাই সভ্যতার ইতিহাস ও পরিচর্যা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা উচিত। বাবা-মা হতে পারেন এ বিষয়ে উত্তম শিক্ষক। গল্পচ্ছলে, প্রসঙ্গ ধরে ছোটদের কাছে তুলে ধরতে পারেন সভ্যতার ইতিহাস। ঠিক এই কাজটিই করেছেন জওহরলাল নেহরু। স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী স্বাধিকার আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অগ্রগণ্য নেতা হওয়ায় প্রায়ই তাকে কারাগারে অন্তরীণ থাকতে হতো। তিনি যখন জেলের বাইরে মুক্ত অবস্থায় থাকতেন তখন তার মেয়ে ইন্দিরা নেহরু (পরে ইন্দিরা গান্ধী) যিনি নিজেও পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন, তার কাছে জানতে চাইতেন নানা বিষয়ে। নেহরু বিদ্বান মানুষ ছিলেন। সবাই তাকে প-িতজি, প-িত জওহরলাল নেহরু ইত্যাদি নামে সম্বোধন করতেন। তিনি সাধ্যমতো মেয়ের প্রশ্নের জবাব দিতেন। জেলে যাওয়ার পর বাবা-মেয়ের এই চমৎকার সওয়াল জওয়াবের ব্যত্যয় ঘটে। নেহরুজি তাই জেলে বসে মেয়ে ইন্দিরাকে চিঠির মাধ্যমে পৃথিবীর ইতিহাস বা মানবসভ্যতার ইতিহাস তুলে ধরতে থাকেন। প্রথমে এই চিঠিগুলোর পাঠক ছিলেন শুধুই ইন্দিরা। কিন্তু এই অসাধারণ চিঠির কথা ছড়িয়ে পড়ে। চিঠির গুরুত্ব অনুভব করে বন্ধুরা নেহরুজিকে চিঠিগুলো পত্রিকায় প্রকাশের অনুমতি দিতে অনুরোধ করেন। নেহরুজি সম্মত হন। চিঠিগুলো প্রকাশিত হলে পাঠকের কাছে ব্যাপক সমাদৃত হয়। এগুলো একত্র করে বই আকারে প্রকাশের অনুরোধ আসতে থাকে। তারই ফলে প্রকাশিত হয় ‘Letters from a Father to His Daughter’; ‘কল্যাণীয়াসু ইন্দিরা’ সেই বইয়ের বাংলা অনুবাদ সংস্করণ। বইটি বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে, বহুমুদ্রণ হয়েছে। এই বইটিতে ত্রিশটি অধ্যায়ে মানব সভ্যতার ক্রমইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আকর্ষণীয় ছবি। নৃতত্ত্ব বিষয়ে জানার প্রাথমিক কিন্তু খুবই চমৎকার একটি বই এটি। এটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, ছোটদের উদ্দেশ্য করে লেখা বলে বুঝতে একদম অসুবিধা হয় না। প্রধানমন্ত্রী মেয়ের কাছে লেখা প্রধানমন্ত্রী বাবার লেখা এ বইটি পড়তে কি একটু কৌতূহল হচ্ছে না?  

সুলতানা রাজিয়া

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত