রেকর্ড দাম বৃদ্ধির পর আলু আমদানির অনুমতি

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৩, ০৫:১৯ এএম

নিত্যপণ্যের বাজারে দামের লাগাম টানতে সরকারের পক্ষ থেকে পণ্য মূল্য বেঁধে দিলেও এর কোনো কার্যকারিতা নেই। উৎপাদন ঘাটতি না থাকলেও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে আলুর দামেও রেকর্ডের পর রেকর্ড হচ্ছে। দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে এবার আলুও আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। যদিও এর আগে আমদানি করেও পেঁয়াজের দাম নাগালে আনা যায়নি। আর ডিম আমদানির অনুমতি দিলেও দেড় মাসেও তা না আসায় ডিমের দাম বেড়েই চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে আলু আমদানি করে দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।  

গতকাল সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় বাজারে আলুর সরবরাহ বৃদ্ধি ও দাম স্থিতিশীল রাখতে আলু আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে আগ্রহী আমদানিকারকদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। গত কয়েক দিনে আলু কেজিপ্রতি অন্তত ১০ টাকা বেড়ে যাওয়ার পর সরকার এই পণ্য আমদানির সিদ্ধান্ত নিল।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আলু, ডিম ও দেশি পেঁয়াজের দাম নির্ধারণ করে দেয়। ওই সময় আলুর সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৩৫-৩৬ টাকা। যদিও এ দাম বাজারে কার্যকর হয়নি। গতকাল বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি আলুর দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা। বৃহস্পতিবার ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও গতকাল বিক্রি হয় ৭০ টাকা কেজিতে। কারওয়ান বাজারের আলু ব্যবসায়ী সবুজ আহমেদ দেশ রূপান্তরকে জানান, সরবরাহ সংকট থাকায় বাজারে আলুর দাম বেড়েছে। এ কারণে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি আলুতে অন্তত ১০ টাকা বেড়েছে। দুই সপ্তাহ আগেও শ্যামবাজার থেকে প্রতি কেজি আলু ৪২ টাকায় কিনেছি। কিন্তু এখন ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে। আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজি ৬২ থেকে ৬৫ টাকার নিচে বিক্রি করা সম্ভব না।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কোল্ডস্টোরেজ মালিকরা সিন্ডিকেট করে আলুর দাম বাড়াচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। কিন্তু পরিস্থিতি এমন যে কোল্ড স্টোরেজ মালিকরা আলু বের করেন না, তারা আলু লুকিয়ে রাখেন। এর আগে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, বাজারে ব্যবসায়ীদের শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। যাদের জন্য ভোগ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর প্রথমে চার কোটি ডিম আমদানির অনুমতি দেয়। পরে পর্যায়ক্রমে মোট ১৫টি প্রতিষ্ঠানকে ১৫ কোটি ডিম আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত দেশে ডিম আমদানি হয়নি।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন দেশ রূপান্তরকে বলেন, খাদ্যপণ্য সংকটকালীন এ সময়ে আমদানি করা ছাড়া সরকারের অন্য কোনো রাস্তা খোলা ছিল না। তবে আমদানি করে দীর্ঘমেয়াদে সংকট সমাধান হবে না। এর মূল কারণ সিন্ডিকেট। এর আগে পেঁয়াজ আমদানি করেও দাম কমানো যায়নি। তিনি বলেন, এসব সিন্ডিকেট সরকারের থেকে শক্তিশালী নয়। কিন্তু তারা ক্ষমতাসীন দলের লোকজন হওয়ায় সরকার নিজেই চাইছে না তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হোক। সরকারের সদিচ্ছা না থাকায় সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের হাত থেকে ভোগ্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত