নাইকো দুর্নীতি মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন দুই বিদেশি সাক্ষী। গতকাল সোমবার কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত বিশেষ এজলাসে এ সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। দুই সাক্ষী হলেন রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেন পুলিশের কেবিন দুগগান ও লয়েড শোয়েপ। এ মামলায় আদালতের সমনের পরিপ্রেক্ষিতে গত শনিবার রাতে দুজন ঢাকায় আসেন। গতকাল বেলা ১১টার দিকে আদালতে উপস্থিত হন কানাডিয়ান এ দুই সাক্ষী। গতকাল ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান দুজনের জবানবন্দি নেন। প্রথমে জবানবন্দি দেন সাক্ষী লয়েড শোয়েপ। পরে তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। এরপর জবানবন্দি দেন সাক্ষী কেবিন দুগগান। তার অসমাপ্ত জেরার জন্য আজ মঙ্গলবার দিন ধার্য করে আদালত। অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কৌঁসুলি মো. খুরশীদ আলম খান ও মোশাররফ হোসেন কাজল এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলাম।
দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ দুজন রয়েল কানাডীয় মাউন্টেন পুলিশের আন্তর্জাতিক দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য। আদালতে দুই সাক্ষী বলেছেন, কানাডীয় কোম্পানি নাইকো একটি দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশে গ্যাসক্ষেত্র পেতে নাইকোর ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে বাংলাদেশের স্ট্রেটাস ডেভেলপমেন্টের মালিক কাশেম শরীফসহ আরও কয়েকজন আসামির নাম বলেছেন তারা।’
গত ১৯ অক্টোবর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ কেবিন দুগগান ও লয়েড শোয়েপকে ৩০ অক্টোবর সাক্ষ্য দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সমন জারি করেছিল। গত ১৭ সেপ্টেম্বর অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিন বিদেশি সাক্ষীকে সাক্ষ্যদানে অনুমতি দেয় আদালত। অন্য সাক্ষী হলেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) অবসরপ্রাপ্ত সুপারভাইসরি স্পেশাল এজেন্ট মিসেস ডেব্রা ল্যাপ্রেভোট গ্রিফিথ। গত ১২ সেপ্টেম্বর মামলার বাদী ও প্রথম সাক্ষী মাহবুব আলমের জবানবন্দি শেষ হয়। এরপর তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের উদ্দেশ্যে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর রাজধানীর তেজগাঁও থানায় এ মামলা হয়। তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। তবে, তিন আসামি ইতিমধ্যে মৃত্যুবরণ করায় এখন আটজনের বিরুদ্ধে বিচার হচ্ছে। মামলাটিতে প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।
