নোবেল নয়, ইগ নোবেল

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৩, ০৪:০৮ পিএম

প্রতি বছর বিজ্ঞানের গুরুত্ব¡পূর্ণ এবং অসাধারণ আবিষ্কারের জন্য নোবেল দেওয়া হয়। আরেকটি নোবেল দেওয়া হয় অদ্ভুত কাজ ও আবিষ্কারের জন্য। ব্যঙ্গাত্মক এই পুরস্কারের নাম Ig noble,, একত্রে লেখা হয় ‘ignoble’, যা প্রকাশ করে inglorious’, ‘undeserving’ এবং ‘non-nobleÕ’। এই তিনটি শব্দত্রয় দ্বারাই এই পুরস্কারকে ব্যাখ্যা করা যায়।

১৯৯১ সাল থেকে প্রতি বছর বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দশটি অস্বাভাবিক বা তুচ্ছ সাফল্য উদযাপনের জন্য প্রদান করা হয় এই ব্যঙ্গাত্মক পুরস্কার।  মার্ক আব্রাহামস ইগ নোবেল প্রচলন করেন ১৯৯১ সালে। ইগ নোবেল পুরস্কারের উদ্দেশ্য হলো সেসব অর্জনকে সম্মান করা, যা প্রথমে মানুষকে হাসায় ও পরে তাদের চিন্তা করতে বাধ্য করে। প্রতি বছর সায়েন্টিফিক হিউমার ম্যাগাজিন, অ্যানালস অব ইমপ্রোবেবল রিসার্চ (এআইআর) দ্বারা হার্ভার্ড বিশ^বিদ্যালয়ের স্যান্ডার্স থিয়েটারে একটি অনুষ্ঠানে নোবেল বিজয়ীদের দ্বারা ইগ নোবেল পুরস্কার উপস্থাপন করা হয়। আসল নোবেল বিজয়ীদের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করে ইগ নোবেল বিজয়ীরা। 

পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, শারীরবিদ্যা, সাহিত্য, জনস্বাস্থ্য, প্রকৌশল, জীববিজ্ঞান, শান্তি ইত্যাদি বিভাগে ইগ নোবেল দেওয়া হয়।

এই বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করা হয়েছে ২০২৩ সালের ইগ নোবেল। রসায়নে ইগ নোবেল দেওয়া হয়েছে পাথর চেটে জীবশ্ম আবিষ্কারের জন্য। পুরস্কারপ্রাপ্ত জ্যান জালাসেইভিকজ এ নিয়ে ‘ইটিং ফসিলস’ নামে গবেষণা পত্রও লিখেছেন। দেজা ভ্যুর উল্টো অনুভূতি নিয়ে গবেষণা পেয়েছে সাহিত্যে ইগ নোবেল। আবার মৃত মাকড়সাকে রোবট বানিয়ে টেক্সাসের রাইস বিশ^বিদ্যালয়ের গবেষক ফাই ইয়াপ ও তার সহকর্মীরা যন্ত্র প্রকৌশলে ইগ নোবেল পেয়েছেন। নাকের লোমের বিন্যাস, উল্টো করে কথা বলা, মলমূত্র পরীক্ষার টয়লেট ইত্যাদি বিচিত্র জিনিস আবিষ্কারের কারণে ইগ নোবেল দেওয়া হয়েছে এ বছর। যদিও ইগ নোবেল পুরস্কার তুচ্ছ গবেষণার জন্য দেওয়া হয়, কিন্তু এগুলো গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের দিকে নিয়ে যেতে পারে।        

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত