ইসলামী আন্দোলনের সমাবেশ

সরকারের পদত্যাগ চেয়ে আলটিমেটাম সংলাপের আহ্বান

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৩, ০৪:০৭ এএম

বিএনপির আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইসলামী আন্দোলন তিনটি দাবি জানিয়ে সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়েছে সরকারকে। সরকারের পদত্যাগ, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিয়ে রাষ্ট্রপতিকে সংলাপের উদ্যোগ গ্রহণ এবং জাতীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করেছে দলটি।

১০ নভেম্বরের মধ্যে এসব দাবি মানার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইসলামী আন্দোলন বলেছে, অন্যথায় আন্দোলনরত সব বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সময়ে কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

গতকাল শুক্রবার ইসলামী আন্দোলনের মহাসমাবেশে এসব দাবি উত্থাপন করে আলটিমেটাম দেন দলের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। তিনি বলেছেন, ‘জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে এবং অবৈধ সরকারের পতনের লক্ষ্যে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর সব শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির প্রতি সমর্থন ঘোষণা করছি।’

‘ব্যর্থ নির্বাচন কমিশন বাতিল, সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতির প্রবর্তন, বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে সংসদ ভেঙে দিয়ে জাতীয় সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের’ দাবিতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামী আন্দোলন এ মহাসমাবেশ করে।

মুফতি রেজাউল করীম বলেন, ‘সরকারকে পদত্যাগ করে এবং জাতীয় সংসদ ভেঙে দিয়ে সব নিবন্ধিত ও প্রতিনিধিত্বশীল আন্দোলনরত রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রাজনৈতিক কারণে কারারুদ্ধ বিএনপিসহ সব শীর্ষ নেতাকে মুক্তি দিয়ে রাষ্ট্রপতিকে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জাতীয় সংলাপের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে মুফতি রেজাউল করীম বলেন, ‘আপনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশ স্বাধীন করেছে। ঐতিহাসিক এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে আপনার আব্বা স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। লাখ লাখ মানুষ জীবন দিয়ে এ দেশ স্বাধীন করেছে। আজ ৩ নভেম্বর (গতকাল) এ সরকারের মেয়াদ শেষ। এজন্য আমরা আজকের (গতকাল) তারিখে সমাবেশ করছি। পরিষ্কার ঘোষণা করছি, জাতীয় সরকার গঠন, নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। নিরেপেক্ষ নির্বাচন না হওয়ায় বিদেশি শক্তি নাক গলাচ্ছে। আপনি ব্যাকডোর দিয়ে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করলে আমরা লড়াই করব।’

তিনি বলেন, ‘দেশের সরকার যখন যা খুশি করবে আর এ দেশের জনগণ নাকে তেল দিয়ে ঘুমাবে, তা হতে পারে না। ২০১৪ আর ২০১৮ সালের মতো সাজানো নির্বাচন এ দেশে আর হতে দেওয়া হবে না।’

ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ এই নেতা বলেন, ‘সরকারবিরোধী দলকে দমন করার জন্য আমাদের বাসকে আটকে দেওয়া হয়, জনসভায় শর্ত দেওয়া হয়। কিন্তু যখন পানির স্রোত বইতে থাকবে, তখন কেউ কিন্তু এই স্রোতকে থামিয়ে রাখতে পারবেন না।’

এর আগে সকাল থেকেই মহাসমাবেশে যোগ দিতে ঢাকাসহ সারা দেশের হাজার হাজার নেতাকর্মী ব্যানার, ফেস্টুন, জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকাসহ খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো হন। সকাল ১০টা থেকে নেতারা বক্তব্য শুরু করেন। পৌনে ১টার দিকে নামাজের জন্য বক্তব্য স্থগিত করা হয়। নেতাকর্মীরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই জুমার নামাজ আদায় করেন। সড়ক বন্ধ না করার শর্ত থাকলেও দুপুরে পর কদম ফোয়ারা থেকে মৎস্য ভবন ও শাহবাগ পর্যন্ত সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। অনেক নেতাকর্মী উদ্যানের বাইরে সড়কে বসে দুপুরের খাবার সারেন এবং সেখান থেকেই বক্তব্য শোনেন।

মহাসমাবেশ ঘিরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তায় ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পাশাপাশি সাদা পোশাকেও বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদের লক্ষ করা যায়।

মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের সভাপতিত্বে মহাসমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন দলটির সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম, প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল হুদা ফয়েজী, নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল আউয়াল, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মাওলানা ফরিদ উদ্দীন আল মোবারক, নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল হক আজাদ, মহাসচিব মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত