অক্টোবরের শুরুতে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ভূখণ্ড গাজায় হামাস ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো বক্তব্য দিয়েছেন লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রধান সৈয়দ হাসান নাসরাল্লাহ। স্থানীয় সময় গত শুক্রবার সন্ধ্যায় লেবাননের টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হয় তার বক্তৃতা।
আলজাজিরার ভাষ্য, তার বক্তব্যে আপাতত স্বস্তিতে আছেন লেবাননের মানুষ। অন্যদিকে ইসরায়েলবিরোধী লড়াইয়ে বহুদিনের মিত্র হিজবুল্লাহর তরফ থেকে বড় কোনো স্পষ্ট ঘোষণা না আসায় হতাশ ফিলিস্তিনিরা।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, নাসরাল্লাহ যুদ্ধে সরাসরি লেবাননের জড়িয়ে পড়ার কোনো স্পষ্ট ঘোষণা দেননি। লেবানিজদের ধারণা ছিল নাসরাল্লাহ হয়তো পুরোদমে গাজার যুদ্ধে দেশকে জড়িয়ে ফেলার ঘোষণা দেবেন। কিন্তু তার ভাষণে সেরকম কোনো বড় ঘোষণা ছিল না। নাসরাল্লাহ নিজেই বলেন, ‘বলাবলি চলছে (আমি) এ যুদ্ধে যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দেব। অথচ আমরা তো সেই ৮ অক্টোবর থেকে এই যুদ্ধে আছি।’
তবে নাসরাল্লাহর এই বক্তব্য শঙ্কিত লেবানিজদের জন্য ভরসার বাণী হিসেবে দেখছেন যুক্তরাষ্ট্রের থিংকট্যাংক আটলান্টিক কাউন্সিলের বিশেষজ্ঞ নিকোলাস ব্লানফোর্ড। আলজাজিরাকে তিনি বলেন, ‘অনেক লেবানিজ স্বস্তি পেয়েছেন যে তাদের হয়তো পুরোদমে এ যুদ্ধে জড়াতে হচ্ছে না। নাসরাল্লাহ নিজেও ভাষণে বলেছেন, ইসরায়েলকে ধাপে ধাপে পরাজিত করতে হবে, রাতারাতি এটা সম্ভব নয়।’
এ ছাড়া নাসরাল্লাহর বক্তব্যে আরেকটি বিষয় খেয়াল করতে হবে। সেটি হলো তিনি গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলায় হিজবুল্লাহ-ইরানের সংশ্লিষ্টতা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, হামাস এই হামলা চালাবে তা হিজবুল্লাহ ও ইরানকে অবহিত করা হয়নি।
এদিকে হিজবুল্লাহ প্রধানের বক্তব্যে হতাশ ফিলিস্তিনিরা। অন্তত আলজাজিরা এমনটাই বলছে। গাজায় ইসরায়েলের স্থল অভিযান শুরুর কয়েক দিন পরই প্রথমবার ভাষণ দেওয়ার ঘোষণা দেন হাসান নাসরাল্লাহ। ফিলিস্তিনিরা ভেবেছিল তাদের রক্ষায় বড় কোনো ঘোষণা দেবেন হিজবুল্লাহ নেতা। বহুল প্রতিক্ষিত এ ভাষণ নিয়ে যুদ্ধ বিস্তৃত হওয়ার শঙ্কা ছিল আন্তর্জাতিক মহলেরও। তবে নাসরাল্লাহর ভাষণ থেকে তেমন বড় কোনো ঘোষণা আসেনি।
যদিও ভাষণে গাজায় অব্যাহত সহিংসতার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন হিজবুল্লাহ প্রধান। এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, ‘অবিলম্বে গাজায় এই আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে। কারণ, এটা আসলে তাদেরই আগ্রাসন।’ ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘তোমরা, আমেরিকানরা ভালো করেই জানো, এ অঞ্চলে যুদ্ধ শুরু হলে তোমাদের নৌবহর কাজে আসবে না, আকাশপথে লড়াই করেও সুবিধা করতে পারবে না। যুদ্ধ বাধলে তোমাদের স্বার্থ, সেনা ও নৌবহরকেই এর মূল্য চোকাতে হবে।’
