আরও একবার ভূমিকম্পে কাঁপল নেপাল। শুক্রবার মধ্যরাতের ঠিক আগে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা ৬.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫৭ জনে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল শনিবার সন্ধ্যার দিকে এ তথ্য জানায়। ভূমিকম্পপ্রবণ নেপালে ২০১৫ সালের পর যত ভূমিকম্প হয়েছে তার মধ্যে এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী।
হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত দক্ষিণ এশিয়ার ছোট্ট এই স্থলবেষ্টিত ভূখণ্ডটি ভূমিকম্পের জন্য সারা বিশ্বে পরিচিত। ২০১৫ সালে দুই দফার ভূমিকম্পে দেশটিতে প্রায় নয় হাজার মানুষ প্রাণ হারায়।
নেপালের পুলিশ জানায়, দেশের পশ্চিমাঞ্চলের কর্নালি প্রদেশে পশ্চিম রুকুম এবং জাজারকট জেলায় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এতে দেড় শতাধিক নিহত হওয়ার পাশাপাশি আহত হয় প্রায় ৪০০ জনের মতো। শুক্রবার মধ্যরাতের ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল কাঠমা-ু শহর থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরের এলাকা জাজারকট। সেখানে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৫ জন এবং পশ্চিম রুকুম জেলায় নিহতের সংখ্যা ৫২ জন। ভূমিকম্পের পর নেপালের সেনাবাহিনী, পুলিশ উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ তৎপরতা চালাচ্ছে। মোট পাঁচটি হেলিকপ্টার দিয়ে উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ তৎপরতা চালাচ্ছে নেপালি সেনাবাহিনী। ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয় এবং এর কয়েক দিন পর ৭.৩ মাত্রার পরাঘাত হয়। জোড়া কম্পনের ফলে প্রায় নয় হাজারের মতো মানুষ মারা যায় এবং আহত হয় ২২ হাজার ৩০৯ জনের মতো। ওই সময় নেপালের পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের প্রায় আট লাখ ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়।
প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দহল প্রচণ্ড ভূমিকম্পকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। গতকাল সকালের দিকে তিনি জাজারকটে হেলিকপ্টারে করে পৌঁছান। ভূমিকম্পের পর সরকার উদ্ধার ও ত্রাণ সহায়তা মিলিয়ে ১০ কোটি রুপি আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সেই সঙ্গে সরকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ ৪১ স্বাস্থ্যকর্মীকে পাঠিয়েছে।
নেপালের জাতীয় ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণকারী ও গবেষণা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ১১টা বেজে ৪৭ মিনিটের দিকে কম্পন অনুভূত হয়। এতে দেশেটির রাজধানী কাঠমান্ডুসহ প্রতিবেশী দেশ ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিও কেপে ওঠে।
ভূমিকম্প থেকে বেঁচে ফেরা গীতাকুমারি বিস্তা বড় মেয়েকে রক্ষা করতে সমর্থ হলেও ছোট কন্যাকে হারিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা তিনজন ভবনের সবার ওপরে একটি কক্ষে ছিলাম। সবকিছুই হঠাৎ ঘটল। আমরা বুঝতেও পারলাম না, হঠাৎ কী ঘটল।’ তিনি জানান, তারা ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়েছিলেন। পরে চিৎকার শুনে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।
ভূমিকম্প হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভবনগুলো ভেঙে পড়তে থাকে। মূল কম্পনের পর এক ঘণ্টার মধ্যে আরও তিনবার পরাঘাত হয়। মানুষ ভূকম্পনের ভয়ে বাকি রাত খোলা আকাশের নিচে কাটিয়েছে।
