বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে জরুরি চিকিৎসার জন্য মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক। ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এই আহ্বান জানান বলে ফ্রান্সভিত্তিক সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে।
ফলকার টুর্ক চিঠিতে উল্লেখ করেন, ‘আমি তাকে (খালেদা জিয়া) মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য আপনার (শেখ হাসিনা) সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই; যাতে তিনি দেশের বাইরে জরুরি ও বিশেষ চিকিৎসাসেবা নিতে পারেন।’
চিঠিতে বলা হয়, খালেদা জিয়ার মুক্তি দুপক্ষের রাজনৈতিক সংলাপ ও সমঝোতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।
ফলকার টুর্ক অবৈধভাবে বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে আটক করা থেকে বিরত থাকতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এভাবে আটক করা হলে তা সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এএফপির খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে পশ্চিমাদের চাপের মুখে আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী জানুয়ারিতে ওই নির্বাচন হতে পারে।
বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে জাতিসংঘ : জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ইউনিভার্সাল পিরিয়ডিক রিভিউ (ইউপিআর) ওয়ার্কিং গ্রুপ আগামী ১৩ নভেম্বর বাংলাদেশের মানবাধিকার রেকর্ড পর্যালোচনা করবে। জেনেভায় চতুর্থবারের মতো এই বৈঠকে বাংলাদেশের মানবাধিকার ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইউপিআরের বৈঠকে যোগ দিতে এর মধ্যে ঢাকার পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ বৈঠক জেনেভায় গত ৬ নভেম্বর শুরু হয়েছে। এটি আগামী ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। এতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অংশ নেবেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।
জানা গেছে, এবারের বৈঠকে ১৪ দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে। এর মধ্যে বাংলাদেশের নাম রয়েছে সামনের দিকে। এর আগে ইউপিআর বৈঠকে ২০০৯, ২০১৩ ও ২০১৮ সালে মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা হয়েছিল। বাংলাদেশে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, হেফাজতে মৃত্যু, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী ও বিক্ষোভকারীদের নির্বিচারে গ্রেপ্তারের বিষয় আলোচনায় স্থান পাবে। এ ছাড়া জাতিসংঘের সনদ অনুসারে শ্রম-অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, লিঙ্গসমতা এবং মানব পাচারের বিষয়গুলোও স্থান পাবে।
প্রসঙ্গত, মানবাধিকার কাউন্সিলের ৪৭টি দেশ ইউপিআর ওয়ার্কিং গ্রুপের সদস্য। তবে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য দেশের প্রত্যেকেই এই পর্যালোচনায় অংশ নিতে পারে।
