শেষ একনেকে রেকর্ড ৪৪ প্রকল্প অনুমোদন

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২৩, ০৬:০০ এএম

সরকারের বর্তমান মেয়াদ প্রায় শেষ। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে আগামী সপ্তাহেই। এ বিবেচনায় গতকাল বৃহস্পতিবারের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভাটি ছিল এ সরকারের শেষ একনেক সভা। শেষবেলায় তাড়াহুড়ো করে, অধিকাংশ প্রকল্পের বাছবিচার না করে, রেকর্ড ৪৪টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। ২০১৮ সালে সর্বোচ্চ ৩৮টি প্রকল্প একনেকে অনুমোদন করা হয়েছিল।

গতকালের সভায় ৩৯ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ের ৪৪টি প্রকল্প পাস করা হয়। এটি এক একনেক সভায় রেকর্ডসংখ্যক প্রকল্প পাসের ঘটনা। এসব প্রকল্পে সরকারি অর্থায়ন হবে ৩০ হাজার ১২৩ কোটি টাকা এবং বিদেশি ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে ৭ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা। এ ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা দেবে ১ হাজার ৬৩৯ কোটি টাকা।

একনেক সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পরিকল্পনা কমিশনের সচিব সত্যজিৎ কর্মকার। পরে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম ও কমিশনের অন্য সদস্যরা।

তাড়াহুড়ো করে প্রকল্প অনুমোদন কেন জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী মান্নান বলেন, ‘আপনাদের সংবাদপত্রের এবিএম মূসা, মানিক মিয়া যত দ্রুত কাজ করতেন আপনারা কি তা পারেন? আমরা করে করে পেকে গেছি, দুর্দান্তভাবে তা সম্পন্ন করেছি। আমরা আঙুল ছোঁয়ালেই বুঝি, এখন তো বেশি করেই বুঝি।’

একনেকে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্প : ঢাকার শেরেবাংলা নগর প্রশাসনিক এলাকায় বহুতল সরকারি অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্প; ঢাকার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ১২৩টি ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প; চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনর্খনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প; বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গে লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও ফেনী জেলার সংযোগ সড়ক যথাযথ মানে উন্নীতকরণ প্রকল্প; ইলিয়টগঞ্জ-মুরাদনগর-রামচন্দ্রপুর-বাঞ্ছারামপুর জেলা মহাসড়ক যথাযথ মানে ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প ও রাজউক পূর্বাচল ৩০০ ফুট মহাসড়ক হতে মাদানী অ্যাভিনিউ সিলেট মহাসড়ক পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প। এ ছাড়া সাতক্ষীরা-সখিপুর-কালীগঞ্জ মহাসড়ক এবং কালীগঞ্জ-শ্যামনগর-ভেটখালী মহাসড়ক যথাযথ মানে উন্নীতকরণ প্রকল্প; চার লেনে উন্নীত ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়ক (এন-১) (দাউদকান্দি-চট্টগ্রাম অংশ)-এর চার বছরের জন্য পারফরম্যান্স-বেইজড অপারেশন ও দৃঢ়করণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প; ভাঙ্গা-যশোর-বেনাপোল মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তর প্রকল্প; গাবতলী সিটি পল্লীতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ক্লিনারদের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ (তৃতীয় সংশোধিত) প্রকল্প; ঢাকা পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক উন্নয়ন (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প; বর্ধিত ঢাকা পানি সরবরাহ রেজিলিয়েন্স প্রকল্প ও ঢাকা স্যানিটেশন উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প।

বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় বিভিন্ন রাস্তার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প; বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রবর্তন (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প; ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের অধিকতর উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প; রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (আরএমইউ) স্থাপন (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প; মুগদা মেডিকেল কলেজের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক সুবিধা সম্প্রসারণ প্রকল্প; সাপোর্টিং ইপ্লিমেন্টেশন অব দ্য মাদার অ্যান্ড চাইল্ড বেনিফিট প্রোগ্রাম প্রকল্প; বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ, উন্নয়ন এবং আনুষঙ্গিক কাজ বাস্তবায়ন প্রকল্প; আইসিটি শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম জোরদারকরণের জন্য নেকটারের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম প্রকল্প; উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন একাডেমি প্রতিষ্ঠাকরণ (তৃতীয় সংশোধিত) প্রকল্প; ইম্প্রুভমেন্ট অব আরবান পাবলিক হেলথ প্রিভেনটিভ সার্ভিসেস প্রজেক্ট; যমুনা নদী টেকসই ব্যবস্থাপনা প্রকল্প-১; দুর্যোগ ঝুঁকি অর্থায়ন (কম্পোনেন্ট ৩) প্রকল্প; মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চল-৩-এর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প ও যশোর রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা প্রকল্প।

সুগন্ধা নদীর ভাঙন থেকে ঝালকাঠি জেলার সদর উপজেলা ও নলছিটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা রক্ষা প্রকল্প; সারা দেশে শহর ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্ব) প্রকল্প; প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প; আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার নির্মাণ (তৃতীয় সংশোধিত) প্রকল্প; বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, মৌলভীবাজার (প্রথম পর্যায়) প্রকল্প; মেহেরপুর সদরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন ও দেশের মধ্য পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশ-প্রতিবেশ উপযোগী গবেষণা কার্যক্রম জোরদারকরণ প্রকল্প; বঙ্গবন্ধু পিয়েরে এলিয়ট ট্রুডো কৃষি প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপন এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণায় সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্প; পার্বত্য চট্টগ্রাম পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প এবং মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত