পিটার হাসের ঢাকা ত্যাগ নিয়ে নানা আলোচনা

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২৩, ০৯:৪৭ এএম

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস ঢাকা ছেড়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে স্ত্রীকে নিয়ে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি। সেখান থেকে পিটার হাস ওয়াশিংটন যাবেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও কূটনৈতিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এদিকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন পিটার হাসের ঢাকা ত্যাগের খবর নিয়ে আলোচনা ডালপালা মেলতে শুরু করেছে। কোথায় যাচ্ছেন পিটার হাস? একেবারেই কি চলে গেলেন? নির্বাচন নিয়ে সব উদ্যোগে ব্যর্থ হয়েই কি ফিরে গেলেন? ঢাকা থেকে কী ওয়াশিংটনকে পিটার হাসের আচরণের বিষয়ে কোনো অসন্তোষের কথা জানানো হয়েছিল এসব আলোচনা চলার মধ্যে গতকাল দুপুরের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বিষয়টি খোলাসা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সেহেলী সাবরিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘পিটার হাস কোথায় গেছেন, সেটা সরকার জানে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের বাংলাদেশের বাইরে অবস্থানের ব্যাপারে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হবে না।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এটি পিটার হাসের পূর্বনির্ধারিত সফর। তিনি ছুটিতে গেছেন। আগামী সপ্তাহের শেষের দিকে ফিরতে পারেন তিনি।

পিটার হাসের ঢাকা ত্যাগের খবর গতকাল দিনভর দেশজুড়ে নির্বাচনের চেয়েও বেশি আলোচনায় ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে নানা কথা চাউর হয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে বেশি দৌড়ঝাঁপে সরকারপক্ষ পিটার হাসের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করে ওয়াশিংটনকে কূটনৈতিক বার্তা দিয়েছে। আবার কেউ বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ আয়োজনের আহ্বান ব্যর্থ হওয়ায় তার এই হঠাৎ ঢাকা ত্যাগ।

এর আগেও পিটার হাসের আচরণে অসন্তোষ জানিয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনকে জানানো হয়েছে বলে আলোচনা উঠেছে কয়েকটি মহল থেকে। কিন্তু গত সপ্তাহে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সরাসরি জানিয়ে দেন, সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র সেহেলী সাবরিন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বাংলাদেশে যেসব বিদেশি রাষ্ট্রদূত আছেন, তারা যখন স্টেশন ত্যাগ করেন তখন হোস্ট কান্ট্রিকে জানিয়ে যান। তবে আমরা বলব না পিটার হাস কোথায় গেছেন। এ ব্যাপারে মার্কিন দূতাবাসে গিয়ে জানা যেতে পারে।’

আগামী জাতীয় নির্বাচন কেন্দ্র করে কয়েক মাস ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করেছেন। এরই মধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে ‘অবতার’ হিসেবেও আখ্যা দেওয়া হয়। আর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বারবারই বলে আসছে, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির পক্ষ নিয়ে কাজ করছে। ইতিমধ্যে সরকারকে বারবার অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে। সবশেষ গত সোমবার দেশটির দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর সংলাপের আহ্বান জানিয়ে দেওয়া চিঠি নিয়েও দৌড়ঝাঁপ অব্যাহত রাখেন পিটার হাস। ওইদিন সংলাপের চিঠি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের কাছে পৌঁছে দেন তিনি। এ সময় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকও করেন রাষ্ট্রদূত হাস। এরপর তফসিল ঘোষণার দিন গত বুধবার সকালে সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সেখানে বাংলাদেশে একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের তাগিদ আবারও দেওয়া হয়। এ সময় চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা বিবেচনায় একটি শর্তহীন সংলাপের ওপর জোর দেন পিটার হাস। বৈঠকের পর পিটার হাস বলেন, বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত