লোকসভার আগে কংগ্রেসের পরীক্ষা

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০২৩, ১২:০১ পিএম

ভারতে চলতি মাসে পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন চলছে। গতকাল শুক্রবার মধ্যপ্রদেশে ভোটগ্রহণ হয় এবং ছত্রিশগড়ে দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোটগ্রহণ হয়। গত ৭ নভেম্বর থেকে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ধাপে ধাপে বিন্যস্ত নির্বাচনগুলোর ওপর এখন নজর গোটা ভারতবাসীর। আগামী ৩ ডিসেম্বর মিজোরাম, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও তেলেঙ্গানায় ভোটের ফল ঘোষণার দিন। নির্বাচনগুলোতে আঞ্চলিক দলগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও মূল লড়াইয়ের মঞ্চে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং জাতীয় কংগ্রেসই। রাজ্যগুলোর ওপরই নির্ভর করছে আগামী বছর ভারতের ১৮তম লোকসভা নির্বাচনে হাওয়া কংগ্রেসের দিকে বইবে নাকি বিজেপির দিকে থাকবে।

গত ৭ নভেম্বর মিজোরাম ও ছত্রিশগড় রাজ্যে ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে নির্বাচনের প্রথম ধাপ। গতকাল ছত্তিশগড়ে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ হয়। আর গতকাল এক দফাতেই সেরে নেওয়া হয় মধ্যপ্রদেশের নির্বাচন। রাজস্থানে ২৩ নভেম্বর এবং তেলেঙ্গানায় ৩০ নভেম্বর ভোটগ্রহণ হবে। বিজেপির হয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। উল্টোদিকে একইরকম ব্যস্ততা দেখা গেছে কংগ্রেস শিবিরে। রাজ্যগুলোতে চষে বেড়াচ্ছেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তপ্ত রাজ্যগুলোর জনসভা। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, লোকসভার চূড়ান্ত লড়াইয়ের আগে আগে পাঁচ রাজ্যের ভোট বস্তুত কংগ্রেস আর বিজেপির ‘সেমিফাইনাল’। কারণ আগামী বছর এপ্রিল-মে মাসে লোকসভা নির্বাচনের আগে শক্তি পরীক্ষার কোনো উপলক্ষ আর নেই।

পাঁচ রাজ্যে ভোটের দিন ঘোষণার আগে কংগ্রেস ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স (ইন্ডিয়া) গঠন করে। মূলত লোকসভার আগে বিজেপিকে চাপে ফেলতে বিজেপিবিরোধী দলগুলোকে নিয়ে এ জোট তৈরি করে। তবে পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটে সেই জোটগত লড়াইয়ের চিত্র ততটা স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি। কংগ্রেসকে এখন কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। ২০১৮ সালে বিজেপির দীর্ঘ শাসন অবসান ঘটিয়ে কংগ্রেসকে ক্ষমতায় ফিরিয়েছিলেন বর্ষীয়ান নেতা কমলনাথ। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। দল ভাঙিয়ে আবার ক্ষমতা দখল করে বিজেপি। সুতরাং কংগ্রেসের দিক থেকে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, এমন ব্যবধান ধরে রেখে জয়লাভ করা যাতে দল ভাঙিয়ে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতার অঙ্ক পাল্টে দিতে না পরে।

মধ্যপ্রদেশে নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহ ব্যাপক মনোযোগ দিয়েছেন। রাজ্যটিতে প্রায় ৪০টির কাছাকাছি জনসভা ও সড়ক শোভাযাত্রা করেছেন তারা। এমনকি প্রার্থী করেছেন বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও এমপিদেরও। বিজেপির ভোটরথ থামাতে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা দিগি¦জয় সিংয়ের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে লড়ছেন কমলনাথ।

ছত্তিশগড়ে বিজেপির প্রভাব আগে থেকেই কম। তবে রাজ্যে মাওবাদী সশস্ত্র আন্দোলনের প্রভাব রয়েছে। জনমত সমীক্ষাগুলোর ইঙ্গিত, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল কংগ্রেসকে আরও একবার ক্ষমতায় ফেরাতে পারেন। রাজস্থানে এখন কংগ্রেসের সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অশোক গেহলত। তার সঙ্গে দলের আরেক নেতা সচিন পাইলটের বিবাদ ভারতের রাজনীতির আলোচনার বিষয় হয় মাঝেমধ্যেই। তেলেঙ্গানায়ও রয়েছে নানামুখী সমীকরণ এবং সেখানে বড় ভূমিকা নিতে পারে আঞ্চলিক দলগুলো।

গত দুটি লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিবিরোধী লড়াইয়ে কংগ্রেসের ব্যর্থতা বেশ ভালোভাবেই আলোচনায় আসে। তবে কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’ দেশটির রাজনীতিতে নতুন একটি মাইলফলক তৈরি করেছে। এবার পাঁচ রাজ্যের বিধানসভায় বোঝা যাবে, সর্বভারতীয় স্তরে নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে বিরোধী পরিসরের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে তাকে কতটা গ্রহণ করল মানুষ। তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মহারাষ্ট্রের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির প্রধান শারদ পাওয়ার, সমাজবাদী পার্টির প্রধান উত্তরপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব এবং তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ডিএমকে প্রধান এমকে স্ট্যালিনের মতো নেতাদের মধ্যে যথেষ্ট প্রভাবশালী মোদিবিরোধী নেতা হিসেবে উঠে আসার ভাবমূর্তি তৈরিতে পাঁচ রাজ্যের ভোটে ইতিবাচক সাফল্য বড় ভূমিকা রাখবে। সেই সঙ্গে কংগ্রেস সাংগঠনিকভাবে কতটা শক্তি সঞ্চয় করল, তাও বোঝা যাবে এসব ভোটে।

পাঁচ রাজ্যের ভোটের ফলের মাধ্যমে বোঝা যাবে, মোদি-অমিত শাহর দ্বৈরথ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল কি না। কারণ রাজ্যগুলোতে তাদের সামনে রেখেই লড়াইয়ে নেমেছে বিজেপি। অর্থাৎ লোকসভা ভোটে তাদের বিরুদ্ধে দল হিসেবে কংগ্রেসের শক্তি সঞ্চয় করার রসদ জোগাবে এসব ভোটের সাফল্য।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত