ফারিণের অন্য গল্প

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০২৩, ১২:১৬ পিএম

নিকষ ওয়েবফিল্মে অভিনয়ের জন্য তাসনিয়া ফারিণ পেলেন দীপ্ত অ্যাওয়ার্ড ২০২৩। সম্মাননা, শখ ও সমসাময়িক বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাহতাব হোসেন

প্রথমবার দীপ্ত টিভির সঙ্গে কাজ করলাম। নিকষ ওয়েবফিল্মটি নিয়ে দর্শক ও ভক্তদের কাছ থেকে প্রচুর ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছি। এটা আমারও ভালো লাগার মতো একটা কাজ ছিল। অপূর্ব ভাইয়ের সঙ্গে এ কাজটা বলা যায় আমার ক্যারিয়ারে মনে রাখার মতো। আর এর জন্য অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তি সত্যিই একজন শিল্পী হিসেবে নিজের কাছে সন্তুষ্টির বিষয়। মনে হলো আমাকে দেওয়া কাজটি আমি হয়তো ভালোভাবে করতে পেরেছি। বলছিলেন অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ। এর জন্য নির্মাতা রুবেল হাসানসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ভুললেন না তিনি। কাজের বাইরে ফারিণের সময়টা ঘুরেফিরেই কাটে। সামাজিক মাধ্যমে সেসবের হালনাগাদও দেন অভিনেত্রী। সুযোগ পেলে দেশ ও দেশের বাইরে বেরিয়ে পড়েন। ঘুরেছেন নানা দেশ। দেশের বাইরে গেলে প্রকৃতির পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি ও ভাষা খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়, হয় অভিজ্ঞতা অর্জন এমনটাই ভাষ্য সময়ের আলোচিত এই অভিনেত্রীর। ফারিণ বললেন, ‘আমার ঘুরতে ভালো লাগে। সুযোগ পেলে একা কিংবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ঘুরতে বেরিয়ে পড়ি। অনেকগুলো দেশ ঘুরেছি। আমাকে যদি বলেন, কোন দেশ সবচেয়ে সুন্দর, কোন জায়গাটা সবচেয়ে ভালো লাগে, তাহলে বলব, একেকটা দেশের সৌন্দর্য একেক রকম। আমার থাইল্যান্ড ভালো লাগে, যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন জায়গা আমাকে আকৃষ্ট করেছে। আকৃষ্ট করেছে তাদের আচার ও সংস্কৃতি। সর্বশেষ আমি গিয়েছিলাম সার্বিয়ায়। সেই দেশটিও ভীষণ সুন্দর।’

ঘুরতে গিয়ে যেমন আনন্দ হয়, মন ভালো হয়, হৃদয় পরিশুদ্ধ হয়; তেমনি কোনো কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনায় দারুণভাবে মন খারাপও হয় ফারিণের। জানালেন সর্বশেষ সার্বিয়া ঘুরতে গিয়ে ক্রেডিট কার্ড হারিয়ে ফেলেছিলেন। এতে একটু ঝামেলায় পড়তে হয়েছিল তাকে। ফারিণের ভাষ্য, ‘এমন কিছু অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা প্রতিটি ক্ষেত্রেই হতে পারে। তাই বলে তো ঘোরাঘুরি বন্ধ করে দিতে পারি না।’

শুধু বিদেশ নয়, নিজের দেশকেও ভালোভাবে দেখতে চান ফারিণ। আর তাই সুযোগ পেলে দেশের মধ্যেও ঘুরতে বেরিয়ে যান। সুযোগ পেলে বললে ভুল হবে, সুযোগ তৈরি করে নেন এই অভিনেত্রী। ফারিণ বলেন, ‘আমি এমন একটা কাজ এ জন্যই বেছে নিয়েছি যাতে অফিসওয়ার্ক বা ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। তাই আমার মতো করে আমি সময় বের করতে পারি। দেশের মধ্যে এমন কিছু জায়গায় ঘুরতে যাই, যেসব স্থানের নাম তেমনভাবে আলোচিত হয় না। দেখেন, কোনো একটা লম্বা ছুটি হলেই সবাই কক্সবাজার ঘুরতে চলে যায়, সেখানে প্রচুর ভিড় হয়। নানা ধরনের বিপত্তি তৈরি হয়। আমাদের দেশে আরও ঘোরার জায়গা রয়েছে, সেসব জায়গার নাম পর্যটন সংশ্লিষ্টদের হাইলাইটস করা প্রয়োজন। এই যেমন কিছুদিন আগে রাজশাহী ঘুরে এলাম। একটা শহর এলাকা যে এত সুন্দর হতে পারে, আমি ভাবতেই পারি না। রাজশাহী আমার ভীষণ ভালো লেগেছে, শহরটাকে আপন মনে হয়েছে। নিজের মতো ঘুরে বেড়িয়েছি।’

তাসনিয়া ফারিণ মনে করেন দেশের পর্যটন স্পটগুলোকে আরও নিরাপদ করা প্রয়োজন। বললেন, ‘আমি প্রায় একাই ভ্রমণ করি। সে সময় আমাকে নিরাপত্তার কথাও মাথায় রাখতে হয়। নানা সময়ে অনেক অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার খবর আমরা পত্রিকায় পড়ি। যেসব পড়ে শঙ্কা জাগে। হয়তো যেখানে যাব ভাবছি, সে ক্ষেত্রে নিরাপত্তার কথা ভেবে সেই ভ্রমণের স্থান বদল করতে হয়।’

শুধু দেশের পর্যটন স্পট নয়। দেশের অন্যতম শুটিংস্পট বিএফডিসিকেও আরও নিরাপদ করা উচিত বলে মনে করেন তাসনিয়া ফারিণ। কেননা কদিন আগেই একটি ওয়েব ফিল্মের শুটিংয়ের সময় নিজের ফোন হারিয়েছেন, ফোনের সঙ্গে হারিয়ে গেছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস। ফারিণ বললেন, ‘খবরে দেখলাম এফডিসিতে পিকনিক হচ্ছে। ওটা কি পিকনিকের জায়গা? চলচ্চিত্রের অন্যতম একটি শুটিংস্পটে যদি এমন হয় তাহলে সেখানে নানা কিছু হারাবেই, নানা অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটবে এটাই স্বাভাবিক। আমার ফোন হারিয়ে যাওয়ায় বেশ বিপদে পড়েছিলাম। আমি শুনেছি এর আগেও সেখান থেকে ফোন হারিয়েছে। বিএফডিসির নিররাপত্তা জোরদার করা উচিত।’

বৃহস্পতিবারেই হাতে উঠেছে সম্মাননা। অভিনয়ের প্রশংসাও করেন গুণিজনেরা। তবুও ফারিণ মনে করেন, যে রেসে তিনি শামিল হয়েছেন; সেখান থেকে আরও অনেকটা পথ দৌড়াতে হবে। বললেন, ‘আমার অনেক পছন্দের লেখক রয়েছেন। নানা সময়ে তাদের অনেক রচনার চরিত্র আমাকে মুগ্ধ করেছে। সেসব চরিত্রে নিজেকে ভাবতে ভালো লাগে। ওই ধরনের চরিত্রে কাজ করার ইচ্ছে রয়েছে। আমাদের দেশে সাহিত্যনির্ভর কাজ বেশি হওয়া উচিত।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত