মৃত কর্মচারীর নামে বেতন তুলে আত্মসাৎ!

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২৩, ০৬:১১ এএম

খুলনা সিটি করপোরেশনে (কেসিসি) মৃত কর্মচারীর নাম বেতনের তালিকায় রেখে মোটা অঙ্কের অর্থ উত্তোলন ও আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। সাড়ে তিন বছরের অধিক সময় ধরে স্বাক্ষর-জালিয়াতি করে বেতন ও বোনাসের ওই টাকা উত্তোলন করা হলেও বিষয়টি সম্প্রতি জানাজানি হয়। এরপর থেকেই সমালোচনার ঝড় বইছে। কেসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বলছেন, বিষয়টি তারা অবগত হয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, খুলনা সিটি করপোরেশনের মাস্টাররোল কর্মচারী হিসেবে চাকরি করতেন শেখ ইব্রাহিম। তার বাড়ি নগরীর গোবরচাকা মেইন রোড (খালাসিয়া মাদ্রাসার সামনে)। করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে কনজারভেন্সি শাখার স্প্রে-ম্যান হিসেকে চাকরিরত অবস্থায় ২০২০ সালের ৭ মে তিনি মারা যান। দায়িত্বে থাকাকালে শেখ ইব্রাহিম ১৩ হাজার ৫০০ থেকে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেতন পেয়েছেন।

ইব্রাহিমের স্ত্রী তাসলিমা বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, তাদের তিন সন্তান রয়েছে। তার স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি করপোরেশনে যোগাযোগ করেন। কিন্তু করপোরেশন থেকে তখন তাকে মাত্র সাত দিনের বেতন দেওয়া হয়। এরপর তিনি করপোরেশন থেকে আর কোনো টাকা পাননি।

করপোরেশন সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ৭ মে ইব্রাহিম মারা গেলেও মাস্টাররোল শ্রমিকের তালিকায় তার নাম রাখা হয়েছে। ফলে ২০২০ সালের ৭ মে থেকে ২০২৩ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত বেতন, বোনাসসহ সমুদয় টাকা উত্তোলন হয়েছে। সাড়ে তিন বছরের অধিক সময়ে অন্তত সাড়ে ৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

করপোরেশনের কনজারভেন্সি অফিসার মো. আনিসুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, করপোরেশনে বর্তমানে মাস্টাররোলে ৬৫১ জন এবং আউটসোর্সিংয়ের ১৩৭ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। মারা যাওয়ার আগে ইব্রাহিম ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে মাস্টাররোলে মশকনিধন কাজে স্প্রে-ম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এসব মাস্টাররোল ও আউটসোর্সিং কর্মচারীর হাতে হাতে বেতন ও বোনাসের টাকা পরিশোধ করা হয়।

মো, আনিসুর রহমান বলেন, ইব্রাহিম মারা যাওয়ার পর থেকে তার নামে বেতন ও বোনাসের টাকা উত্তোলন হয়েছে। মাস্টাররোল ও আউটসোর্সিং শ্রমিকদের বেতনশিট প্রস্তুত এবং বেতন প্রদানে আগে দায়িত্বে ছিলেন কনজারভেন্সি শাখায় কর্মরত সাইফুল ইসলাম। পরে দায়িত্ব পালন করেন গ্যারেজ শাখার মেকানিক সহকারী হিসেবে কর্মরত শেখ শহিদুল ইসলাম।

কনজারভেন্সি অফিসার আরও বলেন, কনজারভেন্সি অফিসার হিসেবে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তিন মাস আগে জাহাঙ্গীর নামের এক কর্মচারীকে বেতনশিট প্রস্তুত ও বেতন বিতরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তখন দেখা যায় আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর এই তিন মাস ইব্রাহিম বেতন নিতে আসেন না। তখন বিষয়টি নজরে আসে। বিষয়টি মেয়র ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে।

করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (সিনিয়র সহকারী সচিব) সানজিদা বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিষয়টি জানা গেছে। তদন্ত হবে। তদন্তে বিস্তারিত জানা যাবে। তবে সত্যতা প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আগে করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ছিলেন নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আজিজ। তিনি জানান, বিষয়টি তাকে জানানো হয়েছে। অভিযোগ ওঠার পরই শেখ শহিদুল ইসলামকে বেতন বিতরণের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম দুজনেরই মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত