দেশে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৩ লাখ ছাড়িয়েছে। চলতি বছর রোগীর সংখ্যা বাংলাদেশে ডেঙ্গুর ২৩ বছরের ইতিহাসে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এতদিন সর্বোচ্চ রোগীর রেকর্ড ছিল ২০১৯ সালে। সে বছর ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। এ বছর গত ২১ আগস্ট সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে যায়। এরপর উদ্বেগজনক হারে রোগী বাড়তে থাকে। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন করে আরও ১ হাজার ২৯১ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাতে মোট রোগী ৩ লাখ ১ হাজার ২৫৫ জনে পৌঁছেছে।
চলতি বছর মোট রোগীর ৬৫ শতাংশই ঢাকার বাইরে। এই মুহূর্তে ঢাকার বাইরে মোট রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৯৫ হাজার ৭২০ জন ও বাকি ৩৫ শতাংশ বা ১ লাখ ৫ হাজার ৫৩৫ জন ঢাকায়। মোট রোগীর ৬০ শতাংশ বা ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৪০ জন পুরুষ ও ৪০ শতাংশ বা ১ লাখ ২০ হাজার ৭১৫ জন নারী।
এ বছর এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রোগী পাওয়া গেছে ১১ জেলায়। তবে মোট রোগীর ৩৬ শতাংশ বা ১ লাখ ৮ হাজার ৪৮৮ জনই ঢাকায়। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রোগী পাওয়া গেছে চট্টগ্রামে ১৩ হাজার ৪৭৬ জন, তৃতীয় সর্বোচ্চ বরিশালে ১২ হাজার ৯০৩ জন ও চতুর্থ সর্বোচ্চ মানিকগঞ্জে ১২ হাজার ২৫৬ জন। এরপর পিরোজপুরে ৬ হাজার ৯০২ জন, লক্ষ্মীপুরে ৬ হাজার ৬৪৮ জন, রাজশাহীতে ৫ হাজার ৩৪১ জন, চাঁদপুরে ৫ হাজার ২৬০ জন, মাগুরায় ৪ হাজার ৬৭৯ জন, নরসিংদীতে ৪ হাজার ১৯৬ জন ও কক্সবাজারে ৪ হাজার ১৮৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি রোগীর মধ্যে ঢাকার বাইরে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৪৪ জন ও ঢাকায় ২৪৭ জন। এ সময় মারা গেছে ৬ জন। তাদের মধ্যে ৪ জনের ঢাকার বাইরে ও ২ জনের ঢাকায় মৃত্যু হয়েছে।
এ নিয়ে চলতি বছর এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু দাঁড়াল ১ হাজার ৫৪৯ জনে। ঢাকায় এই প্রথমবারের মতো মৃত্যু ৯০০ ছাড়িয়ে গেছে। গতকাল পর্যন্ত মারা গেছে ৯০১ জন। আর ঢাকার বাইরে ৬৪৮ জন। এখন পর্যন্ত নারী মারা গেছে ৮৮৫ জন ও পুরুষ ৬৬৪ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন মৃত্যুসহ চলতি মাসের এ পর্যন্ত মৃত্যু ২০০ এবং রোগী ৩০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। গত ১৯ দিনে মারা গেছে ২০১ জন ও ভর্তি হয়েছে ৩০ হাজার ৮০ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাপ্তাহিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত সপ্তাহে (১২-১৮ নভেম্বর) রোগী কমেছে আগের সপ্তাহের চেয়ে ২০ শতাংশ। কিন্তু মৃত্যু বেড়েছে ৫ শতাংশ। গত সপ্তাহে ৯ হাজার ৮৮০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ সময় মারা গেছে ৭৭ জন। আগের সপ্তাহে মৃত্যু ছিল ৭৩ জনের।
গত সপ্তাহে দেশে যত রোগী ভর্তি হয়েছে, তার ২১ শতাংশ বা ২ হাজার ৬১ জন ভর্তি হয়েছে ঢাকায় ও সপ্তাহের মোট মৃত্যুর ৪৯ শতাংশ ঘটেছে ঢাকায়।
গত সপ্তাহে নারী আক্রান্তের সংখ্যা মোট আক্রান্তের ৪২ শতাংশ বা ৪ হাজার ১০১ জন, কিন্তু মারা গেছে মোট মৃত্যুর ৬১ শতাংশ বা ৪৭ জন। অন্যদিকে সে সপ্তাহে পুরুষ ৫ হাজার ৭৭৯ জন বা ৫৮ শতাংশ আক্রান্ত হলেও মারা গেছে নারীর তুলনায় কম, ৩৯ শতাংশ বা ৩০ জন।
গত সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তির তিন দিনের মধ্যে মারা গেছে ভর্তি হওয়া রোগীর ৮০ শতাংশ। বাকি ১১ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে ভর্তির ৪-৫ দিনের মধ্যে। ৮ শতাংশ ভর্তির ৬-১০ দিনের মধ্যে ও ১ শতাংশ ভর্তির ১০ দিনের বেশি সময়ের মধ্যে মারা গেছে।
গত সপ্তাহে মোট মৃত্যুর ৮৫ শতাংশই হয়েছে ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে, ১৪ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে এক্সপান্ডেড ডেঙ্গুতে (ডেঙ্গুর কারণে বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অকেজো হয়ে) ও ১ শতাংশ মারা গেছে ডেঙ্গু হেমোরেজিকে।
