শিল্পীরা সংসদে শিল্পের উন্নয়ন কতটা?

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০২৩, ০৯:০৯ এএম

এবারের সংসদ নির্বাচনে শোবিজ তারকাদের মধ্যে মনোনয়নপত্র কেনার হিড়িক পড়েছে। অনেকে এরই মধ্যে মনোনয়নপত্র কিনেছেন। তারা আসন্ন সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ব্যানারে প্রার্থী হতে চান। তাদের মধ্যে রয়েছেন মাহিয়া মাহি, শাকিল খান, চিত্রনায়ক রুবেল ও সিদ্দিকুর রহমান। মনোনয়নপত্র কিনবেন আসাদুজ্জামান নূর ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম। এ ছাড়া অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল, চিত্রনায়ক রিয়াজ, চিত্রনায়ক ফেরদৌস, অভিনেত্রী শমী কায়সার ও রোকেয়া প্রাচীর মনোনয়নপত্র কেনার কথা শোনা যাচ্ছে। তবে রিয়াজ এরই মধ্যে মনোনয়নপত্র কেনার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন।

ইতিমধ্যেই সব শিল্পী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য অঙ্গীকার জানিয়েছেন। সমাজের সেবা করবেন বলে জানালেন। চিত্রনায়ক রুবেল বলেন, ‘অভিনয় জগতের অন্যদের মতো আমি নতুন করে রাজনীতিতে আসিনি। আমার শেকড়ই আওয়ামী লীগের। আমি হঠাৎ করে রাজনীতিতে আসিনি। আমি ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগে জড়িত ছিলাম, তখন থেকেই জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে আসছি। আমার পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাই রাজনৈতিক জ্ঞান যথেষ্ট আছে আমার।’

ঠিক একই ধরনের কথা বলেছেন ছোটপর্দার অভিনেতা সিদ্দিক। যিনি বিগত সময়েও আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন। তবে এবার আশা করছেন তাকে দল মনোনয়ন দেবে।

সিদ্দিক বলেন, ‘আওয়ামী লীগের দুটি মনোনয়ন ফরম কিনলাম। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে চাইছি। যেই স্বপ্ন নিয়ে রাজনীতিতে আমার পদার্পণ, আল্লাহ যেন আমার সেই স্বপ্ন পূরণ করেন। আমি মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।’

এর আগে শোবিজ অঙ্গন থেকে অনেকেই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আসাদুজ্জামান নূর, সারাহ বেগম কবরী, সুবর্ণা মুস্তাফা, আকবর হোসেন পাঠান ফারুক ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ। এবারের চিত্রটা অন্যরকম। তারকাদের মনোনয়ন কেনার বিষয়টি বেশ সাড়া জাগিয়েছে। শোবিজপাড়ায় এ নিয়ে কথাও হচ্ছে। শিল্পীরা যদি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এ ক্ষেত্রে শিল্পের কতটা উন্নতি হবে এমন প্রশ্নও সবখানে।

এসব নিয়ে কথা হলো চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির তিনবারের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ফারুক ভাই, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর শিল্পীদের সঙ্গে ছিলেন। অনেক শিল্পীর পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগেও দুস্থ শিল্পীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমার মনে আছে, একজন কিডনি রোগী এফডিসির গেট থেকে সেন্সর বোর্ডে এসেছিলেন, ফারুক ভাই তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন। এ দেশে হিন্দি সিনেমা যেন আমদানি না করা হয় সে ক্ষেত্রে তিনি রাজপথে নেমে আন্দোলন করেছেন। কবরী আপাও শিল্পীদের সঙ্গে ছিলেন। এবার যারা মনোনয়নপত্র তুলেছেন তারা অধিকাংশই নিজেদের স্ট্যাটাস বাড়ানোর জন্য এটা করছেন। তাদের অধিকাংশই বিরোধী দল থাকা অবস্থায় পথে ছিলেন না। এ ক্ষেত্রে রুবেল ভাই, সোহেল রানা ভাই ব্যতিক্রম। তারা শিল্পীদের সব আন্দোলনে পাশে ছিলেন। আমি নিজেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় বিরোধী দল আওয়ামী লীগের পক্ষে ছিলাম।

জায়েদ খানের সঙ্গে কথার মিল পাওয়া গেল চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি, অভিনেতা ও পরিচালক কাজী হায়াতের সঙ্গে আলাপেও। তিনিও শিল্পীদের এভাবে মনোনয়নপত্র করাকে ভালো চোখে দেখছেন না। কাজী হায়াৎ বলেন, ‘শিল্পী যখন তার কাজ ফেলে চলে যাবেন, তখন তার কাছ থেকে আমরা আর চলচ্চিত্রের উন্নয়ন আশা করছি না। তারা সে সময় অন্য জগতে চলে যাবেন চলচ্চিত্রের দিকে তারা আর থাকবেন না। অন্যদিকে, চলচ্চিত্রের উন্নয়নের জন্য যা করার প্রধানমন্ত্রীই করছেন।’

এদিকে একটু অন্য সুরেই কথা বললেন শিল্পকলার পরিচালক অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি। তিনি মনে বলেন, ‘একজন শিল্পী সংসদ সদস্য হলেই তিনি শিল্পের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে পারেন না। রাষ্ট্রের কাঠামো রয়েছে, সেই কাঠামোর বাইরে কিছুই হয় না। তবে একজন শিল্পী সংসদ সদস্য হলে শিল্পের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রভাবিত করতে পারেন। তিনি শিল্পের উন্নয়নের জন্য সুপারিশ করতে পারেন।’ জ্যোতি আরও বলেন, ‘সেসব শিল্পীরই মনোনয়নপত্র কেনা উচিত ও মনোনয়ন পাওয়া উচিত, যারা সংসদে কথা বলতে পারেন, যারা যোগ্য।’

তবে অভিনয় শিল্পী সংঘের সভাপতি আহসান হাবিব নাসিম মনে করেন, সংসদে শিল্পীদের প্রতিনিধিত্ব দরকার। যেমন আসাদুজ্জামান নূর সংস্কৃতিমন্ত্রী হওয়ার পরে শিল্পী কল্যাণ তহবিলের উন্নয়ন ঘটে। ফলে জেলা পর্যায়ের শিল্পীরা একটি ভাতা পায়। সংসদে আমাদের হয়ে কথা বলার মানুষের দরকার আছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত