মির্জা ফখরুল জামিন পাননি

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২৩, ০৩:১৪ এএম

প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলার ঘটনায় করা মামলায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুর ইসলাম আলমগীরের জামিন আবেদন নাকচ করেছে আদালত। গত ২৯ অক্টোবর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন নামঞ্জুরের পর ঢাকা মহানগর দায়রা আদালতে আবেদন করেছিলেন তিনি। গতকাল বুধবার সে আবেদনও নামঞ্জুর করেছে আদালত।

দুপক্ষের আইনজীবীদের শুনানি নিয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ফয়সল আতিক বিন কাদের জামিন নামঞ্জুরের এ আদেশ দেন।

পূর্বনির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী গতকাল দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের দিকে মহানগর দায়রা আদালতে মির্জা ফখরুরের জামিন শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করে মহানগর পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) আব্দুল্লাহ আবু বলেন, গত ২৮ অক্টোবর বিএনপি ও সমমনা দলগুলো সমাবেশ ডাকে। সমাবেশের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিএনপি নেতাকর্মীরা ব্যাপক সংঘর্ষ করে এবং প্রধান বিচারপতি বাসভবনে হামলা করে। মির্জা ফখরুলের নির্দেশে এসব হামলা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষে জেলা ও দায়রা আদালতের পিপি শেখ হেমায়েত হোসেন, অতিরিক্ত পিপি তাপস পাল ও আজাদ রহমানসহ শতাধিক আইনজীবী শুনানিকালে উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে বিএনপিপন্থি শতাধিক আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে মাসুদ আহমেদ তালুকদার, আসাদুজ্জামান ও আবুল কালাম শুনানিতে অংশ নেন।

অ্যাডভোকেট মাসুদ তালুকদার আদালতের উদ্দেশে বলেন, ‘মির্জা ফখরুলের বয়স ৮১ বছর। তিনি অসুস্থ। অভিযোগের সঙ্গে তার ন্যূনতম সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। এটি একটি রাজনৈতিক মামলা। রাজনৈতিক কারণেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

শুনানি নিয়ে জামিন নামঞ্জুরের আদেশের ফখরুলের জামিন নাকচ হওয়ার পর বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা আদালত অঙ্গনে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের এক দফা দাবিতে গত ২৮ অক্টোবর ঢাকার পল্টনে মহাসমাবেশ করে বিএনপি। অন্যদিকে একই দিন বায়তুল মোকাররম এলাকায় শান্তি সমাবেশ করে আওয়ামী লীগ। ওইদিন রাজধানীর হেয়ার রোডে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের সময় প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মির্জা ফখরুলসহ অন্যদের আসামি করে মামলা করে পুলিশ।

২৯ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গুলশানের বাসা থেকে মির্জা ফখরুলকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পরে এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওইদিনই রাত ৮টার দিকে মির্জা ফখরুলকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে ডিবি। অন্যদিকে তার পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। গত ২ নভেম্বর ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে ফখরুলের পক্ষে জামিন আবেদন করলে আদালত ২০ নভেম্বর শুনানির জন্য ধার্য করে। তবে, ওইদিন (২০ নভেম্বর) রাষ্ট্রপক্ষের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল জামিন শুনানি জন্য দিন ধার্য করে একই আদালত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত