যা থাকে তাই নিয়ে লড়বে বিএনপি

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৩, ০৮:৪৭ এএম

সরকারের পদত্যাগ দাবিতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে হঠাৎ গত বুধবার মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের নেতৃত্বাধীন কল্যাণ পার্টি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন থেকে সরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান। গুঞ্জন রয়েছে বিএনপির সঙ্গে আন্দোলনে শরিক দলগুলোর মধ্য থেকে আরও কেউ কেউ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এই পরিস্থিতিতে বিএনপি মনে করছে আন্দোলন থেকে কেউ যদি চলে যায় তাকে ঠেকানোর কোনো উপায় নেই। জোর জবরদস্তির বিষয় নেই। স্বাধীন রাজনৈতিক দল হিসেবে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত যারা থাকবেন তাদের নিয়েই আন্দোলন এগিয়ে নিতে চায় দলটি। 

হঠাৎ কল্যাণ পার্টি নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্তে সতর্ক হয়ে উঠেছে বিএনপি। এ অবস্থায় বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা শরিক দলগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছেন। দলের শীর্ষ নেতারা কারাবন্দি থাকায় শরিকদের সঙ্গে সমন্বয়ে সমস্যা হচ্ছে। এখন যারা আছেন তারা শরিকদের উদ্দীপ্ত করে আন্দোলন চাঙ্গা রাখতে চায় বলে জানিয়েছে দলের একটি সূত্র।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জনগণের ভোটাধিকার ও মানবাধিকারসহ সব ধরনের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়ে রাজপথের আন্দোলনে শরিক হয়েছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের জনগণের প্রতি কমিটমেন্ট রয়েছে। কেউ যদি সেখান থেকে সরে যায় সেটি তার বিষয় কিংবা তাদের দলের বিষয়। সে অধিকার তাদের রয়েছে। এখানে জোর করার কিংবা জোর দেওয়ার কোনো কারণ নেই। যারা থাকবেন তাদের নিয়েই আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

রাজপথের আন্দোলনে থাকাবস্থায় গত বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেয় কল্যাণ পার্টি। এর আগে কল্যাণ পার্টি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির আন্দোলন-সঙ্গী হিসেবে ছিল। যুক্তফ্রন্ট নামের ওই জোটে কল্যাণ পার্টির সঙ্গে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (কাঁঠাল) ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল হাত (পাঞ্জা)। সংবাদ সম্মেলনে ইবরাহিম বলেন, ‘সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে পেরে উঠছেন না। গত ১৬ বছরে অনেকেরই যোগ্যতা ও সাহস থাকার পরও সংসদে যেতে পারেনি। আমাদের সিদ্ধান্ত কারও পছন্দ হবে বা হবে না। আগামী কয়েক সপ্তাহ বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য সংকটময়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন আছে। তবে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে নির্বাচনে যাওয়া বা না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জরুরি। যুক্তফ্রন্ট মনে করেছে নির্বাচনে যাওয়ার প্রয়োজন আছে।’

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কর্মকা-ে সমন্বয়হীনতা লক্ষ করা গেছে। গত ১৫ নভেম্বর বুধবার নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার হরতালের ঘোষণা দেয় গণতন্ত্র মঞ্চ। অন্যদিকে লেবার পার্টি অগ্রিম রবি ও সোমবার হরতাল ঘোষণা দেয়। কিন্তু ওইদিনসহ পরের দিন পূর্ব ঘোষিত অবরোধ কর্মসূচি চলছিল। বিএনপি ১৬ নভেম্বর হরতালের ঘোষণা দেয়। কর্মসূচি নিয়ে তাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এ ছাড়া শরিক দলগুলো প্রতিদিনই রাজপথে থাকলেও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাকর্মীদের উপস্থিতি নেই তেমন একটা। এ নিয়ে শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের কেউ কেউ দেশ রূপান্তরের কাছে তাদের ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, দলের দায়িত্বশীল নেতারা আত্মগোপনে থাকায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে মাঝেমধ্যে সমস্যা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে তেমনটাই হয়েছে। তবে শিগগিরই বিএনপি নেতারা মাঠে নামবেন।

শরিক দলগুলোর মধ্যে কারও কারও সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণের যে গুঞ্জন রয়েছে সে সম্পর্কে স্থায়ী কমিটির ওই সদস্য বলেন, ‘বিএনপি নেতারা যতটা চাপ নিতে পারবেন, ছোট দলগুলোর নেতারা তত চাপ নিতে পারবেন না। এটা আমরা বুঝি। তা ছাড়া সরকার যে পরিমাণ টাকার লোভ দেখাচ্ছে, সেটা একটা ফ্যাক্টর। একটা বিষয় সবার মনে রাখা উচিত, বিগত দিনে সরকারের প্রলোভনে যারা গেছেন তারা এখনো ওয়াদাকৃত টাকা পাননি বলে আমার কাছে তথ্য রয়েছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে জনগণ ভোট দিতে পারছেন না। ভোটাররা বিগত দুটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি। এবার সরকারবিরোধী বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে আন্দোলন-সংগ্রাম করছে। কিন্তু সরকার একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে না হেঁটে বিগত দুটি নির্বাচনের মতো আরেকটি একতরফা নির্বাচনের পথে হাঁটছে। শুধু তাই নয়, সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভাঙন ধরাতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে। বিএনপিসহ আন্দোলনে শরিক বড় দলগুলোর নেতাদের নির্বাচনে নিতে না পেরে এখন ছোট দলগুলোর দিকে ঝুঁকছে সরকার। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত