ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে চায় দিল্লি

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৩, ০৫:৪৬ এএম

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছে ভারত। পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতার ওপর জোর দিয়েছে দেশটি। গতকাল শুক্রবার নয়া দিল্লিতে দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিনয় মোহন কোয়াত্রা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে এ অবস্থান জানিয়েছেন।

দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকের পর গতকাল সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রচারিত বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। বৈঠকের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সংক্ষিপ্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রচার করেছে।

বৈঠকে তিস্তা চুক্তি এবং অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। হায়দরাবাদ হাউজে বাংলাদেশ-ভারত ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) বৈঠকে আরও বেশ কয়েকটি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্যের ওপর থেকে বাণিজ্য বাধা অপসারণ এবং দুই দেশের মধ্যে প্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের ওপর জোর দিয়েছে ঢাকা।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন ও ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিনয় মোহন কোয়াত্রা বৈঠকে তাদের নিজ নিজ পক্ষের নেতৃত্ব দেন।

এফওসি হচ্ছে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সব বিষয় পর্যালোচনা করার জন্য পররাষ্ট্র সচিবদের মধ্যে একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংলাপ প্রক্রিয়া। বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি সহযোগিতার ব্যাপক দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও গভীর ও প্রসারিত করার জন্য অনুরোধ করেছেন এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ভারতের সহায়তা চেয়েছেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব ভারতের জি-২০ প্রেসিডেন্সির অধীনে একমাত্র দক্ষিণ এশিয়ার নেতা হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ‘জি-২০ লিডারস সামিটে’ যোগদানে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

উভয় পররাষ্ট্র সচিব বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং ২০২৩ সালে অর্জিত অগ্রগতির বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

দুই দেশের মধ্যে সংযোগ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য সম্প্রতি কয়েকটি প্রকল্প উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়টি উল্লেখ করে দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এ ধরনের সহযোগিতা শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বাস্তব ফলাফলকে প্রতিফলিত করে।

দুই পররাষ্ট্র সচিব উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য, আঞ্চলিক সংযোগ, আঞ্চলিক পাওয়ার গ্রিড সংযোগ, নিরাপত্তা ও পানিসংক্রান্ত সমস্যা, কনস্যুলার এবং সাংস্কৃতিক বিষয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন দেশে উত্তরণের পরিস্থিতিতে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার বিষয়েও আলোচনা করেন। দুটি দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী একটি শান্তিপূর্ণ সীমান্ত বজায় রাখতে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন মাসুদ বিন মোমেন ও বিনয় কোয়াত্রা।

ঢাকা প্রচার করা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুসারে, উভয়পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সব বিষয় পর্যালোচনা করেছে। এ ছাড়া উভয়পক্ষ উপ-আঞ্চলিক, আঞ্চলিক এবং বহুপক্ষীয় বিষয়েও মতবিনিময় করেছে।

ভারতীয় পক্ষ সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন এবং ভয়েস অব গ্লোবাল সাউথ সামিটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের প্রশংসা করেছে।

পরবর্তী এফওসি পারস্পরিক সুবিধাজনক তারিখে বাংলাদেশ আয়োজন করার বিষয়ে দুপক্ষের মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে।

এ বছর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এটি ছিল দ্বিতীয় এফওসি। প্রথমটি গত ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত