আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে নজিরবিহীন দাঙ্গা রুখতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে পুলিশ। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া অবস্থানের কারণে গতকাল শুক্রবার বেশ শান্ত দেখা গেছে শহরকে। রাস্তায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা ছিল। হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট সম্পর্কে পুলিশ বলছে, একটি ডানপন্থি মতাদর্শের গোষ্ঠী এসব সহিংসতা চালাচ্ছে। পুলিশের ভাষ্য, এ গোষ্ঠী অভিবাসনের বিরুদ্ধে।
সহিংসতার শুরু হয় ডাবলিনের একটি স্কুলের বাইরে ছুরিকাঘাতের ঘটনা কেন্দ্র করে। এ ঘটনায় পাঁচ বছর বয়সী একটি ছেলে, পাঁচ ও ছয় বছর বয়সী দুটি মেয়ে, ৩০ বছরের এক নারী এবং ৪০ বছর বয়সী এক পুরুষ আহত হন। পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি আয়ারল্যান্ডেরই নাগরিক। তাকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তারা আর কোনো সন্দেহভাজন খুঁজছে না। হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে পুলিশ কিছু জানায়নি। এর সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সহিংসতার একপর্যায়ে পুলিশের গাড়িসহ বেশ কিছু যানবাহন পুড়িয়ে দেওয়া হয়। বাস, ট্রামসহ অন্যান্য গণপরিবহন অবকাঠামোও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। হামলার মুখে পড়ে পুলিশও। ১৩টি দোকানে লুটপাট চালানো হয়, ট্রাম ও বাসে আগুন দেওয়া হয়, পুলিশের ১১টি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা আহত হন। সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে কমপক্ষে ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আরও অনেক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হবে।
আইরিশ পুলিশ কমিশনার ড্রিউ হ্যারিস বলেন, ডানপন্থি মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ একটি গোষ্ঠী এ সহিংসতার জন্য দায়ী। তিনি বলেন, ‘আমরা মৌলবাদী কিছু উপাদান দেখতে পাচ্ছি, যা সমাজের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে।’ তিনি জানান, তাদের ধারণা, এ ধরনের সহিংস বিক্ষোভ আগামী দিনে আবারও হতে পারে।
আয়ারল্যান্ডের বিচারমন্ত্রী হেলেন ম্যাকএন্টি বলেন, পুলিশের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জড়িতদের ১০-১২ বছরের সাজা হতে পারে।
