শীত মৌসুমের শুরুতে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ এবং এর আশপাশের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। গতকাল শনিবার মস্কো এই হামলা চালায়। বলা হচ্ছে, রুশ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত কিয়েভে চালানো হামলাগুলোর মধ্যে গতকালের হামলাটি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহতম। এতে পাঁচজন আহত হয়। কিয়েভের স্থানীয় কর্মকর্তারা জানায়, রেকর্ডসংখ্যক ড্রোন নিক্ষেপ করেছে মস্কো।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিসচকো জানান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা ধ্বংস হওয়া ড্রোনগুলোর কারণে আগ্নিকা- হয়েছে এবং রাজধানীর অনেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘শত্রুপক্ষ সন্ত্রাস ছড়ানো শুরু করেছে।’ হামলার কারণে শহরের প্রায় ২০০টি ভবন বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, এমন তথ্য দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘২৫ নভেম্বর সকালে ব্যাপক পরিসরে ড্রোন হামলায় রাজধানী শহরের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী বলেছে, রাশিয়ার প্রিমর্স্কো এবং কুর্স্ক অঞ্চল থেকে সব মিলিয়ে ৭৫টির মতো শাহেদ ড্রোন ছোড়া হয়েছে। হামলার প্রাথমিক লক্ষ্যবস্তু ছিল রাজধানী শহর কিয়েভ। ইরানের তৈরি শাহেদ ড্রোন ইউক্রেনে ছয়টি এলাকার লক্ষ্যবস্তুতে নিক্ষেপ করা হয়, যার মধ্যে ৭১টি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দ্বারা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। প্রতিহত হওয়া ড্রোনগুলোর মধ্যে কিয়েভের আকাশেই বেশিসংখ্যক ড্রোন ভূপাতিত করা হয়।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের মুখপাত্র মিখাইলো শামানোভ বলেন, বিভিন্ন দিক থেকে কিয়েভের দিকে ধেয়ে আসে ড্রোনগুলো। চলতি মাসে চতুর্থ দফায় কিয়েভে হামলা চালাল রুশ বাহিনী।
সামরিক প্রশাসনের তরফ থেকে সতর্কবার্তায় বলা হয়, ‘শত্রুপক্ষের বিপুলসংখ্যক ড্রোন বিভিন্ন দিক থেকে কিয়েভে আসছে। আমরা আপনাদের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, সতর্কসংকেত বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আপনারা নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করুন।’ কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিসচকো জানান, সোলোমিয়ানস্কি ডিস্ট্রিক্টে কমপক্ষে দুজন আহত হয়েছে। এখানে বেশ কয়েকটি জায়গায় আগুন লেগে যায়। পাঁচতলা আবাসিক ভবনের দ্বিতীয়তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাশিয়া গত বছর শীত মৌসুমে কিয়েভের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালায়। দীর্ঘ সময় কিয়েভে হামলা চালানো বন্ধ থাকলেও চলতি মাসে আবারও তা শুরু করেছে মস্কো। এর ধারাবাহিকতায় শীত মৌসুম শুরু হতেই কিয়েভের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে রাশিয়ার হামলা শুরু হচ্ছে। এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করেছিলেন, রাশিয়ার বাহিনী শীতকালে কিয়েভের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালাতে পারে এবং এর জন্য তিনি কিয়েভের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে ও প্রস্তুতি নিতে বলেন।
ইউক্রেনের বেসরকারি বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কোম্পানি ডিটিইকে জানিয়েছে, তারা গত সাত মাস ধরে বিদ্যুৎ অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ করেছে এবং প্রতিরক্ষা জোরদার করেছে।
