গতকাল শনিবার হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় দিন ছিল। এদিন ১৪ জন ইসরায়েলি জিম্মির মুক্তির বিনিময়ে ইসরায়েল তার কারাগার থেকে ৪২ জন ফিলিস্তিনিকে ছাড়ার কথা। গত শুক্রবার ১৩ জন ইসরায়েলির বিনিময়ে ৩৯ ফিলিস্তিনিকে ছাড়া হয়েছিল। যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ভারত মহাসাগরে ইসরায়েলের একটি কন্টেইনারবাহী জাহাজ ড্রোন হামলার মুখে পড়ে। আবার মিসর জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ানো নিয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলের একটি গণমাধ্যম বলেছে, গতকাল যেসব জিম্মিদের ছাড়বে হামাস তাদের গাজা সীমান্তবর্তী কিব্বুতজ বে-য়েরিতে আনা হবে। হামাস গত ৭ অক্টোবর এই এলাকা দিয়েই ইসরায়েলের ভেতরে প্রবেশ করে হামলা চালিয়েছিল। ৫০ দিন পর ইসরায়েলি জিম্মিরা দেশে ফিরতে পারছেন। তবে ফিলিস্তিনি বন্দিরা কোথায় থেকে ছাড়া পাবেন, সেই বিষয়ে কোনো কিছু পরিষ্কার হয়নি। এদিকে মিসরের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, হামাস ও ইসরায়েলের চলতি যুদ্ধবিরতির দৈর্ঘ্য চারদিন থেকে আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও বলেছেন, যুদ্ধবিরতির পরিধি বাড়ানোর ভালো সুযোগ রয়েছে।
মিসরের রাষ্ট্রীয় তথ্য পরিষেবা বিভাগের প্রধান দিয়া রাশওয়ান বলেন, তার দেশ সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে চারদিনের যুদ্ধবিরতির সময় বাড়াতে চায়। এ ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। এই আলোচনার আওতায় আরও ইসরায়েলি জিম্মির বিনিময়ে আরও ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়া নিয়ে কথা চলছে।
গতকাল মিসর থেকে রাফাহ ক্রসিং হয়ে চারটি তেলের ট্যাংকার প্রবেশ করেছে। রান্নার গ্যাসের চারটি ট্রাক প্রবেশ করেছে। ফিলিস্তিন রেডক্রিসেন্ট জানায়, আগের দিন গত শুক্রবার রাফাহ ক্রসিং হয়ে খাদ্য, পানি ও চিকিৎসাসামগ্রী নিয়ে ১৯৬টির মতো ট্রাক প্রবেশ করেছে। গতকাল শনিবার সেই ধারা অব্যাহত ছিল। তবে সব কর্তৃপক্ষই বলছে, গাজায় যা প্রয়োজন তার তুলনায় এসব সহায়তা বেশ কম।
ইসরায়েলি ধনকুবেরের জাহাজে ড্রোন হামলা
গাজায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলাকালে ভারত মহাসাগরে হামলার মুখে পড়েছে ইসরায়েলের একটি কন্টেইনারবাহী জাহাজ। মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে গতকাল গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ইরানি ড্রোন দিয়ে এই হামলা হয়েছে। হামলার ঘটনাটি হয় গত শুক্রবার। ইসরায়েলি ধনকুবের ইদান ওফেরের মালিকানাধীন সিঙ্গাপুরভিত্তিক কোম্পানি জাহাজটি পরিচালনা করে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা পরিচয় গোপন রেখে জানান, আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজটি ইরানি শাহেদ-১৩৬ ড্রোন দ্বারা আক্রমণের শিকার হয়। এতে জাহাজের বেশ ক্ষতি হয়। তবে কেউ হতাহত হয়নি। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এই হামলায় ভূমিকা রাখতে পারে।
