বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্বের উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। তিনি বলেছেন, পুরোপুরি উৎসবের মেজাজে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থান করে বাংলাদেশের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত এমন ৯০টি দেশের মিশনপ্রধানদের কাছে আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় বিদেশি দূতদের ভোট দেখতে আসার আমন্ত্রণও জানান পররাষ্ট্র সচিব।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে ওই ব্রিফিংয়ের পর গতকাল শনিবার ভারতের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন পররাষ্ট্র সচিব। তিনি বলেন, ‘আমাদের নির্বাচন নিয়ে যে পারসেপশন, সেটাই আমরা এই দেশগুলোর কাছে তুলে ধরেছি। পরিস্থিতি নিজের চোখে দেখে যেতেও আহ্বান জানিয়েছি। আমরা তাদের আশ্বস্ত করেছি যে, আমাদের নির্বাচন পুরোপুরি শান্তিতে ও আনন্দমুখর পরিবেশেই হবে।’
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে ভারতের সাংবাদিকদের পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচনকে একটি উৎসব হিসেবে দেখা হয়। বাংলাদেশের জনগণ এই উৎসবকে আনন্দিত করার জন্য এবং তাদের পছন্দের প্রতিনিধিদের ভোট দিতে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। উৎসব মুখর পরিবেশে ভোটারদের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর।’ এ সময় রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ভারতের সমর্থন কামনা করেন তিনি।
এদিকে গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির অগ্রাধিকার ও গতিশীলতার কথা দিল্লিতে ৯০টি দেশের মিশনপ্রধানদের কাছে তুলে ধরেন পররাষ্ট্র সচিব। তিনি বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক ও সমসাময়িক ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতদের অবহিত করেন। শেখ হাসিনার গতিশীল ও দূরদর্শী নেতৃত্বে গত ১৫ বছরে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের কথাও তুলে ধরেন মাসুদ বিন মোমেন।
রাষ্ট্রদূতদের জন্য এ বিশেষ ব্রিফিংয়ের ঠিক আগে গত শুক্রবার বিকেলে পররাষ্ট্র সচিব মাসুন বিন মোমেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিনয় মোহন কোয়াত্রার সঙ্গে ‘ফরেন অফিস কনসালটেশনে’ মিলিত হন। দিল্লির হায়দরাবাদ হাউজে ওই বৈঠকে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ইস্যুর মধ্যে গঙ্গা চুক্তির নবায়ন এবং তিস্তার অমীমাংসিত ইস্যু নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া ভারত থেকে পেঁয়াজ বা চালের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের সরবরাহ যেন বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন রাখা হয়, ভারতকে সেই অনুরোধ জানানো হয় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে।
ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা দেশগুলো যে সক্রিয়তা দেখাচ্ছে, তাতে এই ব্রিফিং অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ওই ৯০টি দেশ হলো এমন দেশ, যাদের বাংলাদেশে সরাসরি কোনো দূতাবাস বা মিশন নেই। কিন্তু দিল্লিতে নিযুক্ত তাদের রাষ্ট্রদূতরাই বাংলাদেশ সংক্রান্ত ঘটনাবলি দেখার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত। কূটনৈতিক পরিভাষায় এই রাষ্ট্রদূতদের ‘কনকারেন্টলি অ্যাক্রিডিটেড’ (দিল্লিতে নিযুক্ত হলেও বাংলাদেশও তাদের কাজের পরিধিতেই পড়ে) বলে। গত শুক্রবার বিকেলে এমন ৯০ দেশের প্রতিনিধিরা দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধু হলে আয়োজিত সেই ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।
