নিজেকে শুধু টেলিভিশনেই আটকে রাখেননি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টেছেন প্ল্যাটফর্ম এবং সেখানেও দেখিয়েছেন নিজের মুনশিয়ানা। কাজ করেছেন বিভিন্ন জনরা নিয়ে, হয়েছেন সফল। তিনি জনপ্রিয় নির্মাতা শিহাব শাহীন। সদ্য মুক্তি পাওয়া তার ওয়েব ফিল্ম ‘বাবা, সামওয়ান ফলোয়িং মি’ ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন ইমরুল নূর
ওয়েব ফিল্মটি থেকে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
দর্শক সাড়া ব্যাপক। এটা পেইড কনটেন্ট, তারপরও অনেক দর্শক দেখছেন, প্রশংসা করছেন। এখন পর্যন্ত কোনো নেগেটিভ মন্তব্য পাইনি। এছাড়াও আমাদের ইন্ডাস্ট্রির অনেকের কাছ থেকে ইনবক্সে, কমেন্টসে এবং পোস্টে প্রশংসাসূচক মন্তব্য পাচ্ছি। সব মিলিয়ে আশানুরূপ এবং দারুণ সাড়া পাচ্ছি।
দর্শকদের প্রতিক্রিয়ায় ব্যতিক্রম কিছু লক্ষ করেছেন কি! অর্থাৎ কনটেন্টটি নিয়ে আলাদা কোনো মন্তব্য যেটা সচরাচর পান না।
হ্যাঁ, এটা নিয়ে ব্যতিক্রম কিছু মন্তব্য পেয়েছি। এই কনটেন্টটা যে আমার ব্যক্তিজীবনের ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মাণ করেছি। অনেকের কাছেই ভালো লেগেছে। এরকম কনটেন্ট (নিজের ব্যক্তিগত জীবনের গল্পে) খুব বেশি একটা হয়নি আমাদের এখানে। হয়তো বা এটাই প্রথম। এই বিষয়টাই দর্শকদের অনেক চমকিত করেছে। আরেকটি বিষয়ে মন্তব্য পেয়েছি, বর্ণবাদ নিয়ে। এই বিষয় নিয়ে এর আগে কাজ হয়নি আমাদের এখানে। দেশের বাইরে আমাদের মানুষরা যে বর্ণবৈষম্যের শিকার হন, এরকম কোনো কাজ হয়নি। এটাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন দর্শকরা। এখানে প্রত্যেকেই খুব ভালো করেছেন এবং প্রশংসিত হচ্ছেন। আর সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, লিড নয় এরকম একটি চরিত্রে ইরফান সাজ্জাদ খুবই ভালো করেছে।
নিজের জীবনের গল্প পর্দায় উপস্থাপন করাটা কতটুকু চ্যালেঞ্জিং ছিল?
যদিও একদমই নিজের জীবনের গল্পের ওপরে এটা করিনি। সেখান থেকে কিছুটা অনুপ্রাণিত এবং বাকিটুকু ফিকটিশাস করে বানিয়েছি। নিজের আবেগের প্রতি বায়াস্ট হয়ে যাই কি না এবং জাজমেন্টাল না হয়ে অবজেক্টিভ পয়েন্ট অব ভিউ থেকে বিচার বিবেচনা করা একটু কঠিনই। চ্যালেঞ্জটা এখানেই। বাবাকে হিরো বানানোর চেষ্টা করিনি, এখানে তার মধ্যে কিছু ত্রুটি দেখিয়েছি। একটু একরোখা দেখিয়েছি, উনি যেটা বুঝেন সেটাই ঠিক। এর বাইরে বাকি আর কোনোকিছুকেই ঠিক মনে করেন না। তার মেয়ের ক্ষতি তার কারণেই হচ্ছিল। এই ফ্ল-টা আমি দেখানোর চেষ্টা করেছি। আরেকটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, আমার মেয়েকে কনভিন্স করা। সে কোনোভাবেই চাইছিল না যে এখানে তার নাম আসুক। সে আমাকে প্রশ্ন করেছিল, ‘আব্বু, তুমি যে এটা করছ, আমার থেকে অনুমতি নিয়েছ?’। এরপর তাকে আমার বুঝাতে হয়েছে যে, এটা পুরোপুরি তার জীবনের ওপর না। এটার নব্বই ভাগই ফিকশন। তারপর অনেক বুঝানোর পর সে আমাকে ছাড় দিয়েছে যে, ‘ঠিক আছে। তুমি করতে পারো।’
প্রত্যাশার পারদ কতটুকু পূরণ হয়েছে বলে মনে করেন?
প্রযোজক সন্তুষ্ট, অনেক খুশি। অনেক ভালো রেসপন্স পাচ্ছে তারা। যেহেতু এটা ‘মায়া শালিক’ বা ‘দ্য সাইলেন্স’-এর মতো ফ্রি না, একদমই পেইড কনটেন্ট তারপরও দর্শক ভালো টানছে। গত ছয় মাসে বিঞ্জে যতগুলো কনটেন্ট মুক্তি পেয়েছে সবগুলোকে পেছনে ফেলে এখন শীর্ষে রয়েছে আমাদের কনটেন্টটা। আর একজন নির্মাতা হিসেবে প্রত্যাশা ছিল যে সবগুলো চরিত্র বেরিয়ে আসবে এবং দর্শকরা কনটেন্টটির মূল সুরটা ধরতে পারবে, সেটার অনেকখানি পূরণ হয়েছে। বাবা-মেয়ের সম্পর্ক, বর্ণবাদ, দুর্নীতির যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে দর্শক সেগুলো বুঝতে পেরেছে।
নতুন কাজের কোনো আপডেট আছে কি? আফরান নিয়ে ‘রসু খাঁ’ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এটা কোন পর্যায়ে আছে?
এই মুহূর্তে নতুন কোনো প্রজেক্ট নেই। সামনে ‘রসু খাঁ’ শুরু করব। এখন যেহেতু সামনে নির্বাচন, দেশের পরিস্থিতি কী হবে বুঝা যাচ্ছে না। টিম নিয়ে এখন ঢাকার বাইরে শুট করাটা ঝুঁকিপূর্ণই মনে হচ্ছে। নির্বাচনের পর শুরু করব।
বড় পর্দায় সিনেমা নির্মাণের কথাও জানিয়েছিলেন। এটার প্রস্তুতি কত দূর?
সোমবার একটি সিনেমার মিটিং করেছি। সবকিছু চূড়ান্ত হয়েছে। খুব শিগগিরই সিনেমার কাজ শুরু করব।
