দীর্ঘদিন ধরে কলকাতায় ছিলেন কাজী নওশাবা আহমেদ। প্রথমবারের মতো ভারতের বাংলা চলচ্চিত্রে অভিষেক হচ্ছে তার। ‘যত কাণ্ড কলকাতায়’ ছবিটিতে অভিনয় করেছেন তিনি। তার সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেতা আবির। ছবিটি পরিচালনা করছেন অনিক দত্ত। সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন এই অভিনেত্রী। জানালেন, একটি গোয়েন্দাধর্মী চলচ্চিত্র হলেও এই সিনেমার গল্প আবর্তিত হবে শেকড়ের গল্প নিয়ে। এর সঙ্গে থাকবে জীবনযাপন, প্রেম, বিয়ে, ভালোবাসা, রোমান্টিসিজম। নওশাবা জানালেন, কলকাতায় প্রথমবারের মতো কাজ করলেন, বিচিত্ররকম অভিজ্ঞতা হয়েছে। শুধু কলকাতা নয়, কলকাতার বাইরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে এমন কিছু জায়গা শুটিং করতে হয়েছে। চলে যেতে হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যন্ত এলাকায়। শুটিং করতে হয়েছে কার্শিয়াংয়ে। অভিনেত্রীর ভাষ্য, গল্পের শুরুটা এমন- বাংলাদেশ থেকে এক তরুণী সীমানা পেরিয়ে ওপারে যায়। এরপর ওপার বাংলা থেকে নানারকম গল্প শুরু হতে থাকে। নওশাবা বললেন, এই সিনেমায় আমার সঙ্গে পেয়েছি আবীর চট্টোপাধ্যায়কে। তিনি অনেক কো-অপারেটিভ মানুষ। খুবই ভালো অভিনয় যেমন করেন, মানুষটাও তেমনই। অনেক মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ছিলাম, ঢাকায় ফিরে আসার পর সেসব ভাসছে চোখে। কাজ করেছি শ্রীশ চট্টোপাধ্যায়, রোজা পারমিতার সঙ্গে। ভীষণ মুগ্ধকর একটা সময় কেটেছে। পরিচালককে নিয়েও কথা আছে নওশাবার। তার ভাষ্য, অনিক দত্তের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও দারুণ। তার ভূতের ভবিষ্যৎ, আশ্চর্য প্রদীপ, মেঘনাদবধ রহস্য, সর্বশেষ গত বছর অপরাজিত মুক্তি পেয়েছে। আমি তাকে অপরাজিতের মাধ্যমে নতুন করে আবিষ্কার করেছি। এমন একজন গুণী মানুষের সঙ্গে কাজ করাও বেশ ভালো অভিজ্ঞতা। এটা ভাগ্যেরও। নওশাবা দেশে ফিরেছেন সম্প্রতি, আর বৃহস্পতিবার চলে গেলেন রাজশাহী। সেখানে প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে মঞ্চ নাটকের কর্মশালা শুরু করবেন। এই নিয়ে শুরু হবে প্রস্তুতি। এর আগে রাজশাহীর শিশুদের নিয়ে কাজ করলেও এবার রংপুরের শিশুদের নিয়ে কাজ করবেন। হবে রাজশাহীতেই। এই কাজটা মূলত নিজেরা বন্ধুরা মিলে যে সংস্থা গড়েছেন ‘টুগেদার উইকেন্ড’ সেখান থেকেই হয়। এসবের পৃষ্ঠপোষকতা করে ব্রিটিশ কাউন্সিল। অভিনয় ও অভিনয়ের বাইরের জীবনেও একটি অদৃশ্য সুতা রয়েছে নওশাবার। রয়েছে নিজের ভিন্ন এক জগৎ। যেখানে নিজের মা, মেয়ে, প্রিয় কুকুর, পাপেট ও আঁকাআঁকি রয়েছে। এই জগতেও কোথা থেকে যেন অভিনয় চলে আসে। অবসরের নানা উদ্যোগের মধ্যে শিশুদের প্রসঙ্গ আসে, সেই সঙ্গে চলে আসে তাদের সংস্কৃতিমনা করে গড়ে তোলার। বাবা মারা যাওয়ার পর নিজের জীবন যখন এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল, তখন তাকে বাঁচিয়েছিল, সঙ্গ দিয়েছিল নিজের কাজ।
×
