সব থানার ওসি ইউএনও বদলির নির্দেশ ইসির

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৪:০২ এএম

নির্বাচন কমিশন (ইসি) দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) বদলির নির্দেশ দিয়েছে। এ ছাড়া সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) পর্যায়ক্রমে বদলি করার জন্য ইসি সিদ্ধান্ত দিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মো. মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের জন্য এ লক্ষ্যে প্রথম পর্যায়ে যেসব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বর্তমান কর্মস্থলে এক বছরের বেশি চাকরি সম্পন্ন হয়েছে তাদের অন্য জেলায় বদলির প্রস্তাব আগামী ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ইসিতে পাঠাতে বলা হয়েছে। চিঠির অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সচিবালয়ে পাঠানো হয়েছে।

একই দিনে সব থানার ওসিদের পর্যায়ক্রমে বদলির নির্দেশ দিয়ে ইসি সচিবালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের নিমিত্তে সব থানার ওসিদের পর্যায়ক্রমে বদলি করার জন্য ইসি সিদ্ধান্ত দিয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রথম পর্যায়ে যেসব থানার ওসিদের বর্তমান কর্মস্থলে ছয় মাসের বেশি চাকরিকাল সম্পন্ন হয়েছে তাদের অন্য জেলায় বা অন্যত্র বদলির প্রস্তাব আগামী ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ইসিতে পাঠাতে বলা হয়েছে। ওই চিঠির অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও পুলিশের মহাপরিদর্শককেও পাঠানো হয়।

গতকাল শুক্রবার ইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। একই দিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয় পুলিশ সদর দপ্তরে। আজ শনিবার থেকে ওসি বদলির কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে জানা গেছে।

এতদিন ধরে ইসি বলে আসছিল, পুলিশ ও প্রশাসনের মাঠপর্যায়ে বড় রদবদল আনা হবে না। গত ২২ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর সাংবাদিকদের বলেছিলেন, মাঠ প্রশাসনে রদবদল করতে গিয়ে বিশৃঙ্খলা হলে তার দায় কে নেবে?

প্রশাসনে রদবদল করা হবে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে গত রবিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল পাল্টা প্রশ্ন রেখেছিলেন, প্রশাসনে রদবদল কে কখন করেছিল? তিনি বলেন, তারা নির্বাচনের স্বার্থে যেটা ভালো মনে করবেন, সেটা করবেন। তবে এখতিয়ারের বাইরে যাবেন না। এখতিয়ারের মধ্যে যা আছে, তা করবেন।

সিইসির এই বক্তব্যের চার দিনের মাথায় পুলিশের মাঠপর্যায়ে বড় রদবদল আনার সিদ্ধান্ত নিল ইসি। গত বৃহস্পতিবার পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও জননিরাপত্তা বিভাগের সচিবের সঙ্গে বৈঠক করে ইসি। ওইদিন বিকেলে জনপ্রশাসন সচিবের সঙ্গেও বৈঠক হয়। এরপর পুলিশ ও প্রশাসনের মাঠপর্যায়ে রদবদলের চিঠি দেওয়া হয়।

আগামী ৭ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে ইসি। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ৩০ নভেম্বর, বাছাই ১-৪ ডিসেম্বর, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল ও শুনানি ৬-১৫ ডিসেম্বর এবং ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ১৮ ডিসেম্বর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত