ভারতে গতকাল চার রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়েছে। এতে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কাছে আরও একবার নাস্তানাবুদ হলো জাতীয় কংগ্রেস। মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও ছত্তিশগড়ে কংগ্রেসকে হারিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে রয়েছে বিজেপি। তবে কংগ্রেস যে একেবারে নিরাশ হয়েছে, তা নয়। তেলেঙ্গানায় ভারত রাষ্ট্র সমিতির (বিআরএস) দীর্ঘ শাসনের ইতি ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসছে কংগ্রেস। সর্বভারতীয় স্তরের প্রধান দুই দল কংগ্রেস ও বিজেপি তেলেঙ্গানা ছাড়া মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও ছত্তিশগড়ে মুখোমুখি লড়াই করেছে। আর তেলেঙ্গানায় বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের বিআরএসের সঙ্গে মুখোমুখি লড়াই হয়েছে কংগ্রেসের। সেখানে বিজেপি তেমন শক্তিশালী পক্ষ নয়; অর্থাৎ বলা যায়, মুখোমুখি রণাঙ্গনে বিজেপির গেরুয়া ঝড় কংগ্রেসকে পাত্তাই দেয়নি। রাজ্যগুলোর প্রচারসভা আলো করে ছিলেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গে। তবে নরেন্দ্র মোদির সামনে তা মøান হয়ে গেছে।
ভারতের গণমাধ্যমগুলো বলছে, আগামী বছর দেশের জাতীয় নির্বাচন। এর আগে কংগ্রেস ভারতের প্রধান প্রধান রাজ্যগুলোতে যেভাবে হারতে চলেছে তা দলটির জন্য সংকটজনক বিষয়। দীর্ঘদিন থেকেই কংগ্রেসের সাংগঠনকি দুর্বলতা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। সর্বশেষ দুটি লোকসভায় দলটি বিজেপির সঙ্গে পেরে ওঠেনি। তবে কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছিল কংগ্রেস। শেষ পর্যন্ত চার রাজ্যের ভোটে সেই ইঙ্গিত পাওয়া গেল না।
চার রাজ্যে বিজেপি যে কতটা আগ্রাসী হয়ে ভোটযুদ্ধ জয়ের পথে তা আসন জয়ের অঙ্ক দেখলে পরিষ্কার হবে। মধ্যপ্রদেশে ২৩০ আসনের বিধানসভায় বিজেপি একাই ১৬৫টির বেশি আসন দখল করেতে চলেছে, যেখানে সরকার গড়তে প্রয়োজন মাত্র ১১৬ আসন। এখানে কংগ্রেসের আসন ষাটের ঘরে, যা গতবারের তুলনায় প্রায় ৫০টির মতো কম। রাজস্থানে ১৯৯ আসনের বিধানসভায় ১১৫টির মতো দখল করতে যাচ্ছে বিজেপি, যেখানে সরকার গড়তে প্রয়োজন মাত্র ১০০ আসন। এখানে কংগ্রেস দখল করেছে ৭০টির মতো, যা আগেরবারের তুলনায় ৩০টির মতো কম। আর ছত্তিশগড়ে ৯০ আসনের বিধানসভায় বিজেপি জয় করেছে ৫৪টি, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৪৬ আসন থেকে বেশ এগিয়ে। এখানে কংগ্রেস আগেরবারের তুলনায় ৩০টির বেশি আসন পেয়ে দখল করতে পেরেছে ৩৫টির মতো। তবে কংগ্রেস তেলেঙ্গানায় ১১৯ আসনের বিধানসভায় ৬৫টি দখল করতে চলেছে, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬০ আসন থেকে সামান্য এগিয়ে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, রাজস্থানে কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা অশোক গেহলতের সরকার হটিয়ে ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি। আবার ছত্তিশগড়ে কংগ্রেস নেতা ভূপেশ বাঘেলের সরকার হটিয়ে ক্ষমতা দখল করতে যাচ্ছে বিজেপি; অর্থাৎ ফল বিচার করলে কংগ্রেসের জন্য বড় ধাক্কাই বলা যায়। কারণ দুটি ক্ষমতাসীন রাজ্য হারাতে চলেছে তারা।
গতকাল ফল ঘোষণার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কংগ্রেসকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘দেশের সেবা করার জন্য রাষ্ট্রসেবা করতে হয়। অহংকার, নিরাশা; নেতিবাচক শিরোনাম দেয় সংবাদমাধ্যমকে। জনতার মনে স্থান দেয় না। নতুন কোনো প্রকল্প হলে, গরিবের জন্য বাড়ি তৈরি হলে কংগ্রেস এবং তার সঙ্গীরা ব্যঙ্গ করে। আপনারা শুধরে যান। তা না হলে জনতা আপনাদের বেছে বেছে সাফ করে দেবে।’
ভারতের গণমাধ্যমগুলোতে বলা হচ্ছিল, আগামী বছর লোকসভা নির্বাচনের আগে চার রাজ্যের ফল বিজেপি ও কংগ্রেসের জন্য ‘সেমিফাইনাল’। গতকাল দিনভর ফলের যে চিত্র দেখা গেল, তাতে বলাই যায়, কংগ্রেস সেই লড়াইয়ে হেরেই গেল। বিজেপিবিরোধী দলগুলো এসব ভোটের আগে ‘ইনডিয়া’ জোট গঠন করে ক্ষমতাসীনদের হুঁশিয়ারি দেয়। কংগ্রেস বলেছিল, এসব রাজ্যে ইতিবাচক জয় এলে তা ইনডিয়ারই লাভ। তবে ভোটের মাঠে বিরোধীদের এই জোটকে সক্রিয় দেখা যায়নি। এখন অনেকে বলছে, কংগ্রেস একা একা লড়াই করতে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ল।
