প্রার্থিতা ফিরে পেতে প্রথম দিনে ৪২ আবেদন

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৫:১২ এএম

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল কার্যক্রম শুরু হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার থেকে। প্রথম দিনেই প্রার্থিতা ফিরে পেতে আবেদন করেছেন ৪২ জন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এসব আবেদন জমা পড়ে।

এর আগে এ নির্বাচনে ৭৩১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যাদের অধিকাংশই ছিলেন স্বতন্ত্র। মনোনয়ন বাতিল হওয়া বেশিরভাগের ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের স্বাক্ষর নিয়ে জটিলতা ছিল। ইসির তথ্য অনুযায়ী, বাতিল ৭৩১টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৪২৩টি বা ৫৮ শতাংশ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের। আর ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের স্বাক্ষরের গরমিলে বাতিল হয়েছে অন্তত ৩৪৭ জনের মনোনয়নপত্র, যা বাতিল হওয়া মোট মনোনয়নপত্রের প্রায় ৮০ শতাংশ।

আপিল আবেদন জমা নেওয়ার জন্য ইসির অস্থায়ী বুথের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, প্রথম দিনে রংপুর অঞ্চলের বুথে দুটি, খুলনা অঞ্চলের বুথে আটটি, বরিশাল অঞ্চলের বুথে দুটি, ময়মনসিংহ অঞ্চলের বুথে নয়টি, ফরিদপুর অঞ্চলের বুথে পাঁচটি, চট্টগ্রাম অঞ্চলের বুথে ছয়টি, ঢাকা অঞ্চলের বুথে ছয়টি, কুমিল্লা অঞ্চলের বুথে তিনটি এবং সিলেট অঞ্চলের বুথে একটি আবেদন জমা পড়েছে। তবে রাজশাহী অঞ্চলের বুথে কোনো আপিল জমা পড়েনি।

বিকেলে বুথ পরিদর্শনে এসে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘আগামী ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত আপিল ফাইল করতে পারবে সংক্ষুব্ধরা। আমাদের এখানে ১০টি অঞ্চলের জন্য ১০টি বুথ করা আছে। আমি দেখলাম আমাদের অফিসাররা আপিল গ্রহণ ও লিপিবদ্ধ করছেন। এরপর এগুলো আপিল শুনানিতে দাখিল করা হবে। ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত আপিল শুনানি হবে। আমরা তখন পুরো কমিশন বসে আপিলগুলো শুনব। আপিল শুনে আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত দেব।’

যা বললেন আবেদনকারীরা : ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন না থাকায় বাতিল হয়েছে স্বতন্ত্র হিসেবে জমা দেওয়া টাঙ্গাইল-২ আসনের ইউনুস ইসলাম তালুকদারের মনোনয়নপত্র। তিনি আপিল করতে এসে বলেন, ‘আমি তিনবারের উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলাম। তিন মাস আগে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পদত্যাগ করেছি। মনোনয়নপত্রে সব কাগজপত্র আমি জমা দিই। নির্বাচন অফিস থেকে ১০ জন ভোটারের বিষয়ে তদন্ত করতে যায়। গোপালপুরের নয়জন ভোটারের সবকিছু ঠিক পায়। ভূঞাপুরে একজন ভোটারের বাড়িতে যখন ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সহকারে স্থানীয় চেয়ারম্যান যান, তখন ওই ভোটার ভয় পেয়ে গেছে। আমার প্রতিপক্ষের লোকজনের কাছে ওই ভোটার জিম্মি হয়ে আছে। আগে স্বীকৃতি দিলেও এখন সে অস্বীকার করছে। এ কারণে টাঙ্গাইলের রিটার্নিং অফিসার আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন। তবে আমি আশা করি আমার প্রার্থিতা ফিরে পাব।’

১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন না থাকায় বাতিল হয়েছে স্বতন্ত্র হিসেবে জমা দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনের অধ্যক্ষ তহমিনা আখতার মোল্লার মনোনয়নপত্র। তার দাবি, স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রভাবে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিস স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা গ্রহণ করেনি। ওই সংসদ সদস্যের চাপের মুখে ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকার দুই পৃষ্ঠার মধ্যে এক পৃষ্ঠা গ্রহণ করেনি নির্বাচন অফিস।

তহমিনা আখতার মোল্লা বলেন, ‘আমাকে আইনজীবীর মাধ্যমে আপিল করতে বলা হচ্ছে। আমি গ্রামের মানুষ, আমি এখন আইনজীবী কই খুঁজব। স্বল্প সময়ে আইনজীবী পেলেও তো ২-১ লাখ টাকা লাগবে। আমাকে কেন সেই টাকা খরচ করতে হবে। আমার কাগজপত্র ঠিক থাকলে তো দেখে বৈধতা দিলেই হয়।’

কুমিল্লা-৫ আসনে স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন স্বপন বলেন, ‘নমিনেশন পেপার জমা দেওয়ার সময় ৪ হাজার ৩৭৯ জনের ভোটারের সমর্থনের স্বাক্ষর জমা দিয়েছি। সব ঠিক আছে, শুধু একটি স্বাক্ষরে শরিফা আক্তার নিজের নাম লিখেছে, কিন্তু ভোটার নাম্বার দিতে গিয়ে অন্য একজনের নাম্বার পড়ে গেছে। এ কারণে আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত