গাজা যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) জন্য অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রি অনুমোদন করেছে। গতকাল সোমবার বাইডেন প্রশাসন এতে সিলমোহর দেয়। এবার মার্কিন কংগ্রেসের সবুজ সংকেত পেলেই অস্ত্র-সরঞ্জাম পাবে দেশ দুটি। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, ইসরায়েলি জাহাজসহ নানা লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করতে ইয়েমেনের শিয়া মতাবলম্বী হুত্থি বিদ্রোহীদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার হওয়ার মুহূর্তে সুন্নি মতাদর্শী দেশ দুটি মার্কিন অস্ত্রের জোগান পাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর, গত সোমবার সৌদি আরবের জন্য ৫৮ কোটি ৩০ লাখ ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে বাইডেন প্রশাসন। সৌদি আরবের রাজকীয় বিমানবাহিনীর ‘আরই-৩এ ট্যাকটিক্যাল এয়ারবর্ন সারভেইল্যান্স সিস্টেমের (তাস)’ এয়ারক্রাফট আধুনিকায়নের পাশাপাশি অন্যান্য বেশ কিছু সরঞ্জাম সরবরাহ করতে চলেছে ওয়াশিংটন। সৌদি আরব যেসব সরঞ্জামের জোগান পাচ্ছে তা ব্যবহৃত হবে অত্যাধুনিক নজরদারি, যোগাযোগ ও গোয়েন্দা পর্যবেক্ষণের ব্যবহৃত হবে। সামগ্রিকভাবে তাস এয়ারক্রাফটকে আধুনিকায়ই হচ্ছে এবারের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রয় চুক্তির মূলমন্ত্র। সৌদি আরবের নেতৃত্বে আঞ্চলিক নজরদারি ও গোয়েন্দাবৃত্তির সক্ষমতা বৃদ্ধি করতেই যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে এই অনুমোদন আসছে। এ নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘চলতি এবং ভবিষ্যতের আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলায় সৌদি আরবের নজরদারির সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রস্তাবিত এই বিক্রয় চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার উদ্দেশের প্রতি সংহতিপূর্ণ।’
সংবাদমাধ্যমের খবর, সৌদি আরবের পাশাপাশি বাইডেন প্রশাসন ইউএইর কাছে ৮ কোটি ৫০ ডলার মূল্যের বেশ কয়েকটি রাডারব্যবস্থা বিক্রি করতে যাচ্ছে। চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ‘এএন/টিপিকিউ-৫০’ মডেলের ১৮টি রাডার সরবরাহ করবে ইউএইর কাছে। এই রাডারব্যবস্থা চারপাশে ৮৫ শতাংশ দক্ষতার সঙ্গে লক্ষ্যবস্তুতে শনাক্ত করতে পারে। যেকোনো রকেট, মানববিহীন ড্রোনের মতো ঝুঁকিকে শনাক্ত করার ক্ষমতা রয়েছে এর।
যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এসব প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রির মধ্য দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও মূল্যবান বেসামরিক সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মনুষ্যবিহীন ড্রোন, রকেট ও গোলার আঘাত থেকে সামরিক স্থাপনা রক্ষা করা সম্ভব হবে। পেন্টাগন ওই বিবৃতিতে আরও বলে, ‘মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও অর্থনেতিক অগ্রগতির প্রশ্নে ইউএই হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এই বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক অংশীদারের নিরাপত্তা উন্নয়নকে সমর্থন করা হচ্ছে।’ ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস এবং ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ চলার মধ্যে এই ধরনের চুক্তি বেশ আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষত সংঘাত শুরুর আগে সৌদি প্রশাসন ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিককরণের উদ্যোগ নেয়। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ওই আলোচনার নস্যাৎ করতেই হামাস গত ৭ অক্টোবর হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলে। আর ইউএই ২০২০ সালেই ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে কূটনীতিক ও বাণিজ্য শুরু করেছে। অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলকে ঘিরে মার্কিন প্রশাসনের যেমন নীতি এই দুই সুন্নিপন্থি দেশ সেই পথেই এগিয়েছে। গাজা যুদ্ধের মধ্যে লেবাননের হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তঃসীমান্ত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এমনও শঙ্কা রয়েছে যে, লেবানান আর হিজবুল্লাহর যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে। এদিকে ইয়েমেনের হুত্থি বিদ্রোহীরাও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করছে। এসবের বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এবং ইসরায়েলি প্রতি রক্ষাব্যবস্থা দ্বারা প্রতিহত হচ্ছে। ইরানের সমর্থন পুষ্ট হিজবুল্লাহ ও হুত্থি বিদ্রোহীরা বারবার হুমকি দিচ্ছে, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নৃশংসতার বিরুদ্ধে তারা কড়া জবাব দেওয়া অব্যাহত রাখবে। আবার বর্তমানে সৌদি আরব এবং ইউএইর নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী ইয়েমেনে সুন্নি সরকারের বিরুদ্ধে হুত্থি বিদ্রোহীরা যুদ্ধ করছে। এ অবস্থায় সৌদি প্রশাসন ও ইউএই-কে অস্ত্রশস্ত্র ও নজরদারি সরঞ্জাম সরবরাহের ঘটনা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
