১৭ চাকরি প্রার্থীকে পরীক্ষার হলে আটকে রাখল ছাত্রলীগ

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ০২:৩৩ এএম

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) লিফট অপারেটর নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়া ১৭ জন চাকরি প্রার্থীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে। অপহরণের শিকার চাকরি প্রার্থীদের ভাষ্য, পরীক্ষা দিতে আসার সময় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে তাদের ধরে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মসিয়ূর রহমান হলের বিভিন্ন কক্ষে আটকে রাখা হয় তাদের। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রায় ৬ ঘণ্টা পর বিকেল ৪টার দিকে তাদের

 

বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। আর তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় নিয়ে এসে কঠোর শাস্তির কথা জানিয়েছেন যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন। অপহরণের ঘটনায় দুপুর ১২টায় শ.ম.র হলের প্রভোস্ট ড. মো আশরাফুজ্জামান জাহিদ হলে তল্লাশি চালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষকে জানান, হলে কোনো অপহৃত পাওয়া যায়নি। কিন্তু অপহৃত চাকরি প্রার্থীরা জানান তারা বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত হলের ৩০৪, ৩০৯ নম্বর রুম ও পাঁচতলার বিভিন্ন কক্ষে ছিলেন। এ বিষয়ে জানতে হল প্রভোস্টকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

অপহরণের শিকার জসিম উদ্দীন (ছদ্মনাম) সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ইজিবাইক থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে আমাকে শহীদ মসীয়ূর রহমান হলের ৩০৯ নম্বর রুমে নিয়ে গিয়ে বলেন, তোরা পরীক্ষা দিতে আসছিস, অ্যাডমিট কার্ড কোথায় থেকে পাইলি? ওই রুমে আমিসহ ছয়জন চাকরি পরীক্ষার্থী ছিলাম। এ ছাড়াও হলের ৩০৪ নম্বর রুম ও পাঁচতলার একাধিক রুমে ১৫ থেকে ২০ জনের মতো আটক ছিল। আমি বের হতে চাইলে আমাকে মাথায় ও নাকে-মুখে এলোপাতাড়ি কিলঘুসি মারে। আমার চেয়ে রুমের অন্যান্য পরীক্ষার্থীকে অনেক বেশি মারধর করে। তারপর সাড়ে ৩টার দিকে ওরাই (অপহরণকারীরা) পালবাড়ি নিয়ে ছেড়ে দেয়। আরেক পরীক্ষার্থী বলেন, আমাকে মেইন গেট থেকে ৩০৪ নম্বর রুমে নিয়ে যায়। পরে অবশ্য আমার ফোন রেখে দিয়ে পরীক্ষা দিতে যেতে দেয়। অন্য সবাইকে আটকে রেখে আমাকে কেন ছাড়ল, সেটা আমি জানি না।

ভুক্তভোগী একজন পরীক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, আমি সকাল সাড়ে ৯টার সময় পরীক্ষার জন্য আমার মেয়ের জামাই মো. আরিফুল ইসলামকে নিয়ে আসি। তখন কিছু ছেলে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের ভেতর থেকে জামাইকে ক্যান্টিনের দিকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার ফোন বন্ধ পাই। দীর্ঘক্ষণ তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে আমি রেজিস্ট্রার স্যারের কাছে অভিযোগ জানাই। পরে উপাচার্য স্যারকেও অভিযোগ জানাই।

এ বিষয়ে যবিপ্রবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর ফয়সাল বলেন, অপহরণের বিষয়ে আমি অবগত নই, আমাদের কাছে এ রকম কোনো অভিযোগ আসেনি। আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারি যবিপ্রবি ছাত্রলীগের কোনো কর্মী এ ঘটনায় জড়িত না। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে কেউ এ রকম অপকর্ম করে থাকতে পারে। যদি ছাত্রলীগের কোনো কর্মী জড়িত থাকে আর সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।

যবিপ্রবি ছাত্রলীগের সভাপতি সোহেল রানা বলেন, ছাত্রলীগ কখনই নিয়োগের সঙ্গে জড়িত ছিল না। আমাদের কোনো কর্মী যদি পরীক্ষা দেয়, তবে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে আমরা ভিসি স্যারকে জানাই। পরীক্ষার্থী যদি যোগ্য হয় তবে তাকে চাকরি দেওয়া হয়।

পরীক্ষার্থী অপহরণের বিষয়ে জানতে চাইলে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, আজ (গতকাল) যবিপ্রবিতে লিফট অপারেটর পদের চাকরির পরীক্ষা ছিল। সকাল ১০টার দিকে আমি জানতে পারলাম কিছু পরীক্ষার্থীকে শহীদ মসিয়ূর রহমান হলের ৩০৪ নম্বর রুমে ছাত্রলীগ কর্মীরা আটকে রেখেছে। আমি হলের প্রভোস্টকে বিষয়টি দেখার জন্য পাঠাই। তবে প্রভোস্ট আমাকে জানান, রুমে কাউকে পাওয়া যায়নি। কিন্তু দুপুর ১২টার দিকে যখন আমি অফিসে আসি তখন তাদের অভিভাবকরা অভিযোগ নিয়ে আসেন। পরে ৩টার দিকে আটক পরীক্ষার্থীদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জেনেছি। তিনি বলেন, এ ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য লজ্জাজনক। এর সুষ্ঠু তদন্ত করে কঠোর থেকে কঠোরতর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত